কক্সবাজারের পর্যটন এলাকা কলাতলীতে এন আলম ফিলিং স্টেশনে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে ৭ জনকে চট্টগ্রাম এবং ৩ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আগুনে পাম্পটি ছাড়াও আশপাশের ১০টি বসতবাড়ি এবং ২০-২৫টি পর্যটকবাহী জিপ গাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাম্পটি থেকে গ্যাস লিকেজ শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর রাত ১০টা ২০ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। পাম্পের ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্যাংক থেকে আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়দের ৫ ঘণ্টার সমন্বিত প্রচেষ্টায় রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ জানান, এই ফিলিং স্টেশনটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। গ্যাস লিকেজ থেকে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে। অবৈধ এই পাম্প মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিস্ফোরণের সময় পাম্প সংলগ্ন আদর্শগ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকার প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘক্ষণ গ্যাসের গন্ধে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল তাদের। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।