সাভারের প্রধান প্রধান মহাসড়ক ও ফুটপাতগুলো এখন হকার ও অবৈধ দোকানদারদের দখলে। ঢাকা-আরিচা এবং নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন জনবহুল পয়েন্টে ফুটপাত ছাড়িয়ে মূল সড়কের একাংশ দখল করে বসানো হয়েছে শত শত অস্থায়ী দোকান। চা-স্টল, ফলের দোকান থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ও পোশাকের পসরা সাজিয়ে বসার ফলে একদিকে যেমন সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, অন্যদিকে পথচারীদের চলাচল হয়ে পড়েছে মৃত্যুঝুঁকিপূর্ণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের উভয় পাশের ফুটপাত সম্পূর্ণ হকারদের দখলে চলে গেছে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে মূল মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, “মহাসড়কের অর্ধেক জায়গা দোকানদারদের দখলে। বাস-ট্রাক পথচারীদের গা ঘেঁষে চলে যায়, যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।” একই অভিযোগ করে কলেজছাত্রী নুসরাত জাহান বলেন, “সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে, বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হয়।”
পরিবহন চালকরাও এই অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ। মিনিবাস চালক সোহেল রানা জানান, সড়কের পাশে এলোপাতাড়ি দোকান থাকায় গাড়ি চালানো এবং যাত্রী ওঠানামা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সড়ক দখলের কারণে শুধু যানজটই বাড়ছে না, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা প্রদানকারী যানবাহনগুলোও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। স্থানীয় এক ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, যানজটে আটকা পড়ে সম্প্রতি এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নিতে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে। পথ দখলমুক্ত থাকলে হয়তো এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
দোকানদাররা বলছেন জীবিকার তাগিদে তারা এখানে বসেন। ফল বিক্রেতা রফিকুল ইসলামের দাবি, “প্রশাসন যদি বিকল্প জায়গা দেয়, তবে আমরা সরে যেতে রাজি।” স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি ও ট্রাফিক বিভাগের মতে, উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েও দীর্ঘমেয়াদী সুফল পাওয়া যাচ্ছে না, কারণ কয়েকদিন পরই হকাররা আবার পুরনো জায়গায় ফিরে আসে।
শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সাভারে দ্রুত নগরায়ণ হলেও সেই তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি পরিকল্পিত ‘হকার জোন’ বা বিকল্প বাজার ব্যবস্থা এবং কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
| প্রভাবিত এলাকা | দখলের ধরণ | মূল সংকট |
|---|---|---|
| সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড | পুরো ফুটপাত ও মহাসড়কের অর্ধাংশ। | তীব্র যানজট, পথচারীদের ঝুঁকি এবং জরুরি সেবায় বিঘ্ন। |
| ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা পয়েন্ট | অস্থায়ী ফল, চা ও পোশাকের স্টল। | |
| প্রশাসনের অবস্থান | নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চললেও হকাররা পুনরায় ফিরে আসে। | |