শনিবারের ভয়াবহ মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পাশাপাশি দেশটির প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামরিক বাহিনীর প্রধান কারিগররাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইরনা’ (IRNA) নিশ্চিত করেছে যে, এই তালিকায় রয়েছেন দেশটির ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তিত্ব।
দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ইরান শুধু একজন নেতাকেই হারায়নি, বরং দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রধান স্তম্ভটি ধসে পড়েছে। এই হামলায় তাঁর মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন, যা বিষয়টিকে আরও বিয়োগান্তক করে তুলেছে।
শামখানি ছিলেন খামেনির সবচেয়ে বিশ্বস্ত সামরিক উপদেষ্টা। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে পশ্চিমাদের সাথে আলোচনার তদারকি করতেন তিনি। ২০২৫ সালের যুদ্ধে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও এবার আর শেষ রক্ষা হয়নি। ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ও সম্পদ সমাবেশের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন এই ঝানু রাজনীতিক।
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও উন্নত ড্রোন সিস্টেমের নেপথ্যের কারিগর ছিলেন মুসাভি। ২০১৯ সালের বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। খামেনি তাঁকে গত বছরই সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন।
প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মন্ত্রিসভার এই সদস্য ছিলেন ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো সুরক্ষার মূল কারিগর। তিনি বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের সকল মার্কিন ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। গাজা ও লেবানন ইস্যুতেও তিনি ছিলেন ইসরায়েলের কট্টর সমালোচক।
ইরানের অভিজাত বাহিনী ‘ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধান ছিলেন তিনি। ১৬ বছর পদাতিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর খামেনি তাঁকে এই বাহিনীর সর্বাধিনায়ক করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু আইআরজিসি-র জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে দেশটিতে এখন তিন সদস্যের একটি অস্থায়ী কাউন্সিল দায়িত্ব পালন করছে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন: ১. মাসুদ পেজেশকিয়ান (প্রেসিডেন্ট) ২. গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই (প্রধান বিচারপতি) ৩. আলীরেজা আরাফি (অভিভাবক পরিষদের প্রতিনিধি)
পরবর্তী উত্তরসূরি: আইআরজিসি-র পরবর্তী প্রধান হিসেবে খামেনির উপ-প্রধান আহমদ ওয়াহিদি-র নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে।