শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন

লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত ৩১: লক্ষ্য হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ৮৬ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের নতুন ফ্রন্ট হিসেবে এখন উত্তপ্ত লেবানন। সোমবার (২ মার্চ) লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৫০ জন আহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েলনেট নিউজ (Ynetnews) এই খবর নিশ্চিত করেছে।

সংঘাতের সূত্রপাত

হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, ইসরায়েল কর্তৃক ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তারা হাইফার একটি ‘সামরিক সাইট’ লক্ষ্য করে রকেট ছুড়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল ইসরায়েলের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর প্রথম বড় ধরনের হামলা। যদিও অধিকাংশ রকেট খোলা জায়গায় পড়েছে এবং একটি রকেট আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে, তবুও এই হামলার ফলে উত্তর ইসরায়েলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের ‘অপারেশন অ্যাসাসিনেশন’

হাইফার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী বৈরুতের দাহিহ (Dahieh) শহরতলীসহ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে হামলা শুরু করে। লেবাননের সংবাদমাধ্যম আল-জাদিদ জানিয়েছে, এসব হামলা মূলত হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতাদের ‘হত্যা’ করার লক্ষ্যেই চালানো হয়েছে। বৈরুতের আকাশে ১০টিরও বেশি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে দক্ষিণ লেবাননের ৫০টিরও বেশি গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দাহিয়েহ ও দক্ষিণাঞ্চলে তাণ্ডব

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের জনবহুল ‘দাহিয়েহ’ জেলা এবং দক্ষিণ লেবাননের একাধিক গ্রামে রাতভর বোমাবর্ষণ করেছে। হামলায় অসংখ্য আবাসিক ভবন ধসে পড়েছে, যার নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে নেওয়া হয়েছে, তবে তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

৫৩টি গ্রাম ছাড়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম

হামলার তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে সোমবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের অন্তত ৫৩টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই বৃহত্তর সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছে তেল আবিব।

আইডিএফ ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

  • ইসরায়েল (IDF): আইডিএফ দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চার এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট হামলা চালাচ্ছে। উত্তর ইসরায়েলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই অভিযান বলে তাদের দাবি।

  • হিজবুল্লাহ: এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, “লেবানন ও তার জনগণকে রক্ষা এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের জবাব হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।” তারা আরও সতর্ক করেছে যে, নেতা ও কর্মীদের হত্যার বদলা নিতে তারা উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে বড় ধরনের আঘাত হানার অধিকার রাখে।

মানবিক বিপর্যয় ও উদ্বেগ

হঠাৎ করে ৫৩টি গ্রাম ছাড়ার নির্দেশে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বৈরুতের দিকে রওনা হয়েছে। এতে লেবাননের মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, গাজার পর লেবানন এখন ইসরায়েলের ‘পূর্ণ মাত্রার’ যুদ্ধের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

লেবানন সরকারের উদ্বেগ

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে রকেট ছোড়া একটি ‘বেপরোয়া কাজ’, যা ইসরায়েলকে আগ্রাসন চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি লেবাননকে নতুন কোনো যুদ্ধে টেনে না নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেছেন।

ইরান ও ইসরায়েল ফ্রন্টে নতুন মাত্রা

একদিকে লেবানন সীমান্ত উত্তপ্ত, অন্যদিকে ইসরায়েল আজ তেহরানেও তাদের হামলার দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে। ইসরায়েলি বিমানগুলো তেহরানের কেন্দ্রে ‘ইরানি শাসনতান্ত্রিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানছে। হাইফায় হামলার জবাবে ইসরায়েল এখন উত্তর (লেবানন) এবং পূর্ব (ইরান)—উভয় ফ্রন্টেই তাদের সামরিক শক্তি নিয়োগ করেছে।


এ জাতীয় আরো খবর...