মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার রেশ এবার আছড়ে পড়লো সাইপ্রাসে। দেশটিতে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ‘অ্যাক্রোটিনি’তে (Akrotiri) একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সাইপ্রাস সরকারের পক্ষ থেকে এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, এতে ‘সীমিত ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।
হামলার বিস্তারিত ও সরকারি বক্তব্য
সাইপ্রাস সরকারের মুখপাত্র কনস্টানটিনোস লেটিম্বিওটিস আজ সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, একটি চালকবিহীন ড্রোন (Unmanned Drone) ব্রিটিশ এই বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। তিনি বলেন, “আমরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছি এবং যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রেখে চলছি।”
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষয়ক্ষতিও খুব সামান্য। তবে কে বা কারা এই ড্রোন পাঠিয়েছে, সে বিষয়ে সাইপ্রাস বা যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো গোষ্ঠীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

অ্যাক্রোটিনি ঘাঁটির গুরুত্ব
অ্যাক্রোটিনি বিমানঘাঁটিটি যুক্তরাজ্যের একটি অত্যন্ত কৌশলগত সামরিক স্থাপনা। মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর (RAF) বিভিন্ন অভিযানের জন্য এটি প্রধান ‘লজিস্টিক হাব’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ঘাঁটিটি পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আঞ্চলিক যুদ্ধের প্রভাব?
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে থাকা পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন হুমকির মুখে। এর আগে সিরিয়া, ইরাক ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার খবর পাওয়া গেলেও সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা একটি নতুন ও উদ্বেগজনক মাত্রা যোগ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার পেছনে থাকতে পারে।
যুক্তরাজ্যের অবস্থান
লন্ডন থেকে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা হামলার ধরন খতিয়ে দেখছে। ঘাঁটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এই হামলার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।