শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

‘আবারও যেন ২০২৪’: ২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্য ও কৌশল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ওয়াশিংটন / ৬৫ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লড়াই নয়, বরং এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের গ্রহণযোগ্যতা এবং তাঁর ‘মাগা’ (MAGA) দর্শনের স্থায়িত্ব প্রমাণের এক অগ্নিপরীক্ষা। আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যালট পেপারে নাম না থাকলেও এবারের নির্বাচনটি এমনভাবে আবর্তিত হচ্ছে যেন এটি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেরই একটি বর্ধিত সংস্করণ।

১. ‘কিংমেকার’ থেকে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ কমান্ডার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এবার কেবল পর্দার আড়ালে থেকে প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না। তিনি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সভায় নিজে উপস্থিত থেকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর লক্ষ্য হলো রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকে তাঁর সমালোচকদের (যেমন: যারা জানুয়ারি ৬-এর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ছিলেন) পুরোপুরি নির্মূল করা এবং একদল ‘কট্টর ট্রাম্প অনুগত’ দিয়ে কংগ্রেস ও সিনেট ভরিয়ে তোলা। একে বিশ্লেষকরা বলছেন ট্রাম্পের ‘শুদ্ধি অভিযান’।

২. প্রচারণার মূল অস্ত্র: অভিবাসন ও ‘ডিপ স্টেট’

২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে ট্রাম্প আবারও তাঁর সেই পরিচিত ইস্যুগুলোতে ফিরে গেছেন:

  • অভিবাসন: সীমান্তে কড়াকড়ি এবং জো বাইডেন আমলের অভিবাসন নীতির চরম সমালোচনা।

  • অর্থনীতি ও শুল্ক: চীন ও প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ‘আমেরিকান স্বার্থ’ রক্ষার প্রতিশ্রুতি।

  • ডিপ স্টেট: কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বিচার বিভাগকে নিজের নিয়ন্ত্রণে আনার লড়াইকে তিনি ভোটারদের সামনে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ হিসেবে পেশ করছেন।

৩. টেক্সাস ও ফ্লোরিডার নতুন মানচিত্র (Gerrymandering)

রিপাবলিকান শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে নির্বাচনী সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ‘জেরিম্যান্ডারিং’-এর মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয় সহজ করার যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, আল জাজিরা সেটিকে ট্রাম্পের বড় জয় হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে টেক্সাসের নতুন নির্বাচনী মানচিত্র ২০২৬-এ রিপাবলিকানদের অন্তত ৫টি বাড়তি আসন এনে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. ডেমোক্র্যাটদের ভয় ও ‘ভোট রক্ষা’ কৌশল

ডেমোক্র্যাটরা এই নির্বাচনকে দেখছেন ট্রাম্পের ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের বিরুদ্ধে শেষ ঢাল হিসেবে। যদি রিপাবলিকানরা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে ট্রাম্পের ক্ষমতা হবে নিরঙ্কুশ। ডেমোক্র্যাটরা তাই ‘ভোট প্রোটেকশন’ (Voter Protection) কর্মসূচি চালু করেছে, যাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত নতুন ভোটিং বিধিনিষেধ (যেমন: আইডি বাধ্যতামূলক করা বা মেইল-ইন ব্যালট কমানো) মোকাবিলা করা যায়।

৫. ২০২৮-এর মহড়া

এই নির্বাচনকে ২০২৮ সালের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ‘ড্রেস রিহার্সাল’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি ট্রাম্পের সমর্থিত প্রার্থীরা বড় জয় পায়, তবে তা ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মতো ট্রাম্প-উত্তরসূরিদের জন্য পথ প্রশস্ত করবে। আল জাজিরার মতে, ২০২৬-এর ফলাফলই বলে দেবে আমেরিকা কি ‘ট্রাম্পবাদ’-কে স্থায়ীভাবে গ্রহণ করেছে, নাকি দেশটি আবারও ডেমোক্র্যাটিক উদারনীতির দিকে ফিরতে চায়।


এ জাতীয় আরো খবর...