ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হওয়া যৌথ সামরিক অভিযানে এখন এক এক করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো যুক্ত হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন এই অভিযানের লক্ষ্য কেবল সামরিক স্থাপনা নয়, বরং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (Regime Change) বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সর্বশেষ ঘোষণায় ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা তাদের নিজেদের এবং মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের (বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর) স্বার্থ রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ নিতে প্রস্তুত।
যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিশ্চিত করেছেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করতে মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
ফ্রান্স ও জার্মানি: দেশ দুটি জানিয়েছে, ইরানের নির্বিচার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তারা ‘হতবাক’। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ তাঁর প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডেকেছেন এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘উৎসস্থলেই’ ধ্বংস করার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলা শুরু করেছেন মূলত ইসরায়েল এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের (MBS) ব্যাপক চাপে। প্রকাশ্যে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও, গোপনে যুবরাজ ট্রাম্পকে বারবার তাগাদা দিয়েছেন যাতে ইরানকে সামরিকভাবে মোকাবিলা করা হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, যুবরাজ মনে করেন ইরান বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় সামরিক হুমকিতে পরিণত হয়েছে এবং এখনই তাদের না থামালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই অভিযান অন্তত পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তাঁর মতে, ইরান বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সচল করেছে।
ইসরায়েল: প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তাদের হামলায় খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হওয়ায় ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এখন পতনের মুখে। ইসরায়েলি বাহিনী এখন তেহরানের কেন্দ্রস্থলে ‘টার্গেটেড স্ট্রাইক’ চালাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তারা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন গুদামগুলো লক্ষ্য করে প্রায় ৯০০টি হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত সরাসরি যুদ্ধে না নামলেও মার্কিন বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিয়ে এবং নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সচল রেখে এই যুদ্ধের অংশীদার হয়ে পড়েছে। ইরানের পাল্টা রকেট ও ড্রোন হামলা রুখতে এই দেশগুলোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন: প্যাট্রিয়ট মিসাইল) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।