শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় দেশ: মজুত পরিস্থিতি ও সরকারি তৎপরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৮৮ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের ওপর। জ্বালানি সরবরাহের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ঘিরে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতায় দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তেল কেনার হিড়িক পড়েছে।

বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। তবে পৃথক এক তথ্যে বিপিসি উল্লেখ করেছে, বর্তমানে ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন তেল মজুত আছে যা মার্চ মাসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। সামগ্রিক হিসাব অনুযায়ী, দেশে ডিজেলের মজুত রয়েছে ১১ দিন, পেট্রল ১২ দিন এবং অকটেনের মজুত আছে ২৫ দিনের।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, জুন পর্যন্ত জ্বালানি কেনার চুক্তি সম্পন্ন হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তিনি বলেন, “বিকল্প পদ্ধতি ও সরবরাহ উৎস খুঁজে বের করাই এখন আমাদের মূল পরিকল্পনা।”

সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার শতভাগই আমদানিনির্ভর। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে, যার প্রধান সরবরাহকারী সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসলেও, এসব দেশও মূলত মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপরই নির্ভরশীল। এছাড়া এলএনজির ক্ষেত্রে কাতার থেকে আসা প্রায় ৪০ লাখ টন সরবরাহ নিয়ে শিল্প উদ্যোক্তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। কাতারের গ্যাস উৎপাদন সাময়িক বন্ধের ঘোষণায় শিল্প উৎপাদন সচল রাখা নিয়ে বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

পাম্পে ভিড় ও মজুতদারির শঙ্কা

জ্বালানি সংকটের আতঙ্কে সাধারণ গ্রাহকরা ব্যক্তিগত যানবাহনের ট্যাংক ফুল করে রাখছেন। ফুয়েল স্টেশনগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি চাহিদা তৈরি হয়েছে। ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের পরিচালক লে. কর্নেল মো. রিয়াজুল কবির সতর্ক করে বলেন, গ্রাহকদের চাহিদার পাশাপাশি কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য অবৈধ মজুত করতে পারে, যা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

সরকারি পদক্ষেপ ও মন্ত্রীর বক্তব্য

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, “সারা বিশ্বে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের যা মজুত আছে, তা সাশ্রয়ীভাবে ব্যবহার করা ছাড়া আপাতত কোনো সমাধান নেই। আমরা বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি যতদিন চলবে, সংকট ততদিন থাকার আশঙ্কা রয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান উৎস বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রয়োজনে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে হলেও জ্বালানি কিনতে হবে। জ্বালানি নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই দ্রুত বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম রফতানি ও কৃষি খাতের সুরক্ষায় জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ডিজেল বা গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হলে পোশাক ও কৃষি খাত বড় ধরনের দুর্যোগের মুখে পড়বে।


একনজরে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত

জ্বালানি পণ্যের নাম বর্তমান মজুত (দিন)
ডিজেল ১১ দিন
পেট্রোল ১২ দিন
অকটেন ২৫ দিন


এ জাতীয় আরো খবর...