শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: শাহজালাল বিমানবন্দরে দিনে আটকা ২৫০ টন রফতানি পণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫৭ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে। যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা বন্ধ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ টন রফতানি পণ্য আটকা পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

আকাশপথে রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৬০০ থেকে ৬৫০ টন পণ্য রফতানি হয়। তবে বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ পণ্যই বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছে। রফতানি হওয়া পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এছাড়া পচনশীল পণ্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও মাছও এই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা সংকট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৮টি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৪২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ এবং সৌদি এয়ারের মতো বড় উড্ডয়ন সংস্থাগুলো বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করায় রফতানি রুট বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আকাশপথের রফতানি বাণিজ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।

পরিবহন খরচ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সভাপতি কবির আহমেদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের রুটে পণ্য পাঠানোর খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণ সময়ে প্রতি কেজি পণ্যের ভাড়া আড়াই থেকে ৩ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ডলারে ঠেকেছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ক্রেতার কাছে না পৌঁছালে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন রফতানিকারকরা।

সরকারের জরুরি পদক্ষেপ

রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার অতিরিক্ত ৭৫টি স্পেশাল কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী:

  • গত মঙ্গলবার প্রথম দিনে ১৭টি অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।

  • ১১ মার্চ আরও ১৭টি ফ্লাইট চালানো হয়।

  • বৃহস্পতিবার (গতকাল) ৮টি এবং শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আরও ৩১টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

একনজরে শাহজালাল বিমানবন্দরের রফতানি চিত্র

খাত পরিসংখ্যান / তথ্য
দৈনিক রফতানি সক্ষমতা ৬০০ – ৬৫০ টন
বর্তমানে আটকা পণ্য দৈনিক ২৫০ টন (প্রায় ৪০%)
বাতিলকৃত ফ্লাইট ৪২৩টি (গত ১৩ দিনে)
অতিরিক্ত কার্গো অনুমতি ৭৫টি ফ্লাইটের
পণ্য পরিবহনের বাড়তি খরচ কেজি প্রতি ১.৫ – ২ ডলার বৃদ্ধি
উৎস: বেবিচক ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, মার্চ ২০২৬

বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা থেকে যাবে। তবে ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি অবস্থান ধরে রাখতে দ্রুত পণ্য পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


এ জাতীয় আরো খবর...