মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্যে। যুদ্ধের কারণে আকাশসীমা বন্ধ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৫০ টন রফতানি পণ্য আটকা পড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে অতিরিক্ত ৭৫টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র অনুযায়ী, শাহজালাল বিমানবন্দর দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৬০০ থেকে ৬৫০ টন পণ্য রফতানি হয়। তবে বর্তমানে প্রায় ৪০ শতাংশ পণ্যই বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছে। রফতানি হওয়া পণ্যের সিংহভাগই তৈরি পোশাক খাতের। এছাড়া পচনশীল পণ্য যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও মাছও এই তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে জরুরি ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৮টি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ রাখায় ঢাকা থেকে এখন পর্যন্ত ৪২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, ইতিহাদ এবং সৌদি এয়ারের মতো বড় উড্ডয়ন সংস্থাগুলো বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল করায় রফতানি রুট বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আকাশপথের রফতানি বাণিজ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে গন্তব্যে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) সভাপতি কবির আহমেদ জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ইউরোপের রুটে পণ্য পাঠানোর খরচ আকাশচুম্বী হয়েছে। সাধারণ সময়ে প্রতি কেজি পণ্যের ভাড়া আড়াই থেকে ৩ ডলার থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে সাড়ে ৪ থেকে ৫ ডলারে ঠেকেছে। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ক্রেতার কাছে না পৌঁছালে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ বাতিলের আশঙ্কা করছেন রফতানিকারকরা।
রফতানি কার্যক্রম সচল রাখতে সরকার অতিরিক্ত ৭৫টি স্পেশাল কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে। বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী:
গত মঙ্গলবার প্রথম দিনে ১৭টি অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে।
১১ মার্চ আরও ১৭টি ফ্লাইট চালানো হয়।
বৃহস্পতিবার (গতকাল) ৮টি এবং শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত আরও ৩১টি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বেবিচক জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে অনিশ্চয়তা থেকে যাবে। তবে ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনে অতিরিক্ত কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের রফতানি অবস্থান ধরে রাখতে দ্রুত পণ্য পৌঁছানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।