শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

পাচার হওয়া বিপুল সম্পদ উদ্ধারে কঠোর সরকার: বিদেশেও মামলার প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫২ বার
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে এবার দেশে-বিদেশে একযোগে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে পাচার হওয়া প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা উদ্ধারে বহুমুখী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনি জাল বিস্তার শুরু করেছে।

তদন্ত ও মামলার রূপরেখা সরকার পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধারে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে:

  • তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই: দেশি-বিদেশি সংস্থাগুলোর মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে তার বস্তুনিষ্ঠতা ও দালিলিক প্রমাণ যাচাই করা হচ্ছে।

  • সমন্বিত মামলা: অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার পর দেশে মামলা করা হচ্ছে। এর ওপর ভিত্তি করে বিদেশে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।

  • প্রাথমিক সাফল্য: বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং সালমান এফ রহমানের (বেক্সিমকো গ্রুপ) যুক্তরাজ্যে থাকা কিছু সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হয়েছে।

প্রথম টার্গেট ৬ শীর্ষ গ্রুপ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে শীর্ষ ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারী হিসেবে ৬টি গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেওয়ানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যার চূড়ান্ত ধাপে বিদেশে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে, দ্বিতীয় ধাপে আরও শতাধিক শীর্ষ পাচারকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশি রিকভারি ফার্ম নিয়োগ ও ব্যাংকের দায়বদ্ধতা পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়েছে:

  • আন্তর্জাতিক চুক্তি: ব্যাংকগুলোকে আন্তর্জাতিক অ্যাসেট রিকভারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০টি বেসরকারি ব্যাংক ৩৬টি পাচারের ঘটনায় ৯টি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করেছে।

  • কমিশনভিত্তিক কাজ: এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ কোনো অর্থ দেওয়া হবে না। তারা উদ্ধারকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ কমিশন হিসেবে পাবে।

  • ব্যাংকের দায়িত্ব: অর্থ উদ্ধারের এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা তৎপরতা ও লিটিগেশন ফান্ড বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন উৎস থেকে পাচারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করে তা দুদক ও সিআইডিকে দিচ্ছে। দেশে মামলা দায়ের ও পাচারকারীদের শনাক্ত করা গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আইনি লড়াই সহজ হবে।

এছাড়া বিদেশে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় মেটাতে ১০ কোটি ডলারের একটি ‘লিটিগেশন ফান্ড’ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে, যার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।


এ জাতীয় আরো খবর...