শিরোনামঃ
সিংগাইরে সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী সন্তানের বয়স ১৮ থেকে ২৪: বাবা-মায়ের জন্য ১০টি পরামর্শ শিশু ইরা মনি হত্যা মামলার রায় পেছাল সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সংকেত বহাল সারাদেশে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে কোমে খামেনির জানাজা সম্পন্ন স্পেনের কাছে হারের পর পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের পদত্যাগ চিকিৎসাকে বিশেষ সুবিধা নয় অধিকার ভাবার আহ্বান জুবাইদা রহমানের
বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে ভারতে তীব্র জ্বালানি সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪৯ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির উত্তাপ যে কেবল মানচিত্রের সীমানাতেই আবদ্ধ থাকে না, বরং তা সাধারণ মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত কতটা গভীরভাবে আঘাত হানতে পারে, তার এক বাস্তব ও ভয়াবহ দৃষ্টান্ত বর্তমানে ভারতে পরিলক্ষিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির ওপর। ভারত তার প্রয়োজনীয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজির একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়েই আমদানি করে থাকে। কিন্তু সংঘাতের জেরে ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠায় ভারতে গ্যাস সরবরাহের পুরো শৃঙ্খলটি কার্যত ভেঙে পড়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে এক নজিরবিহীন জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে বৃহৎ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী খাদ্যশিল্প, পরিবহন এবং সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকেও খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে।

সংকটের শুরুতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের প্রবল আতঙ্ক বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়, যা অর্থনীতিতে ‘প্যানিক বায়িং’ বা আতঙ্কজনিত কেনাকাটা হিসেবে পরিচিত। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যানও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে। স্বাভাবিক সময়ে ভারতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পঞ্চান্ন লাখ এলপিজি সিলিন্ডার বুকিং করা হয়ে থাকে। কিন্তু যুদ্ধের খবর এবং সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই বুকিংয়ের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে দৈনিক প্রায় সাতাত্তর লাখে গিয়ে ঠেকেছে। হঠাৎ করে তৈরি হওয়া এই কৃত্রিম ও অস্বাভাবিক চাহিদার চাপ সামলাতে সরবরাহকারীরা রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে যে দেশে গ্যাসের কোনো ঘাটতি নেই এবং ঘরোয়া গ্যাসের সরবরাহ শতভাগ নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি আশ্বাসের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। দেশের প্রায় প্রতিটি ছোট-বড় শহর ও জেলাগুলোতে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর অফিসগুলোর সামনে গ্যাসপ্রত্যাশী মানুষের দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর লাইন এই সংকটের গভীরতাকেই প্রমাণ করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য ফেরাতে কেন্দ্রীয় সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের নিয়মে পরিবর্তন আনা। আগে একটি সিলিন্ডার নেওয়ার পর দ্বিতীয়বার বুকিং করার জন্য একুশ দিন অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে পঁচিশ দিন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস বিতরণের ক্ষেত্রেও সরকার কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সীমিত মজুতকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে কেন্দ্রীয় সরকার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সংশোধনাগার এবং অন্যান্য জরুরি পরিষেবাগুলোকে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। রাজ্য সরকারগুলোকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা যেন নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে জরুরি খাতগুলোকে চিহ্নিত করে। কিন্তু এই প্রশাসনিক অগ্রাধিকার নীতি সাধারণ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য এক বিশাল অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে বড় এবং মর্মান্তিক প্রভাবটি পড়েছে ভারতের খাদ্য, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং শিল্পের ওপর। ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, তার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং মিষ্টির জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। কিন্তু বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র আকালের কারণে এই শতাব্দীপ্রাচীন শিল্পগুলো আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক ও বড় মাপের উৎসব-অনুষ্ঠান, যেখানে হাজার হাজার মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়, সেগুলো ব্যাপক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। গ্যাসের অভাবে অনেক ক্যাটারিং সংস্থা নতুন করে কোনো কাজের দায়িত্ব নিতে চাইছে না, আবার অনেকে আগের নেওয়া কাজগুলো কীভাবে সম্পন্ন করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজন কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্পেও। কড়াপাকের মিষ্টি তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ধরে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গ্যাসের অভাবে অনেক বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। বর্ধমানের বিখ্যাত মিহিদানা কিংবা চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী সন্দেশের মতো পদগুলো, যা বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেগুলোর উৎপাদনও অনেক জায়গায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের কাছে যে সামান্য গ্যাস মজুত আছে, তা দিয়ে আর কয়েক দিন হয়তো চলা সম্ভব। এরপর বাধ্য হয়ে তাদের ডিজেল বা কেরোসিন চালিত স্টোভ ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ্য, পরিবেশ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের কড়া বিধিনিষেধের কারণে এই ধরনের পরিবেশ দূষণকারী জ্বালানির ব্যবহার অনেক আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে ব্যবসায়ীরা আবারও সেই কয়লা, কাঠ, ডিজেল বা কেরোসিনের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। কলকাতার অফিসপাড়াগুলোর ব্যস্ত খাবারের দোকানগুলো ইতোমধ্যে কয়লার আগুনে রান্না শুরু করেছে। এটি কেবল পরিবেশের জন্যই ক্ষতিকর নয়, বরং খাদ্যের গুণমান ও স্বাস্থ্যবিধির ক্ষেত্রেও এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।

বড় বড় রেস্তোরাঁগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। রেস্তোরাঁ মালিকরা বাধ্য হয়ে তাদের মেনু বা খাবারের তালিকা ছোট করে আনছেন। যে সমস্ত খাবার তৈরিতে বেশি গ্যাস খরচ হয়, কিন্তু সেগুলো সেই রেস্তোরাঁর মূল আকর্ষণ—যেমন বিরিয়ানি—শুধু সেই ধরনের নির্দিষ্ট কিছু পদের রান্না চালু রেখে বাকি সব আইটেম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চরম হতাশায় রয়েছেন, কারণ এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তাদের ব্যবসার ঝাঁপ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

গ্যাসের এই চরম আকাল মানুষের কেনাকাটার অভ্যাসেও এক রাতারাতি পরিবর্তন এনেছে। এলপিজির বিকল্প হিসেবে সাধারণ মানুষ এখন ব্যাপকভাবে বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। হঠাৎ করে বাজারে ইলেকট্রিক ইন্ডাকশন কুকস্টোভ এবং মাইক্রোওয়েভ ওভেনের চাহিদা অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্টের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইন্ডাকশন চুলা খুঁজতে গেলে বেশিরভাগ পণ্যের পাশেই ‘আউট অব স্টক’ বা মজুত শেষ লেখা দেখা যাচ্ছে। শুধু অনলাইন মার্কেট নয়, স্থানীয় ইলেকট্রনিক্সের দোকানগুলোতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। চাহিদার সঙ্গে জোগানের তাল মেলাতে না পেরে খুচরা ব্যবসায়ীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন। এই হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপরেও যে এক বিশাল চাপ সৃষ্টি করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে এই সংকটের সবচেয়ে অন্ধকার দিকটি হলো দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব। সরকার জরুরি পরিষেবাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও, তৃণমূল পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন অনেকটাই দুর্বল। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গ্রামীণ অঞ্চলে দরিদ্র পরিবার এবং শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যে আইসিডিএস কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হয়, সেখানে গ্যাস না থাকার কারণে রান্না মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলাগুলোতে অনেক কেন্দ্রে রান্না প্রায় বন্ধের পথে, যার ফলে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। শহরের স্কুলগুলোর চিত্রও অভিন্ন। শিক্ষার্থীদের দুপুরের পুষ্টিকর মিড-ডে মিলের যে রান্না করা খাবার দেওয়া হতো, গ্যাসের অভাবে তা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শিশুদের কেবল সেদ্ধ ডিম দিয়ে দুপুরের আহার সম্পন্ন করাচ্ছে। এটি আগামী প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে এক অশনিসংকেত।

পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও এই সংকটের ঢেউ এসে লেগেছে। কলকাতা ও এর পার্শ্ববর্তী শহরতলিগুলোতে এলপিজি চালিত অটোরিকশাগুলো সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। কিন্তু জ্বালানির অভাব এবং বাণিজ্যিক গ্যাসের সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির কারণে অটোচালক ইউনিয়নগুলো যাত্রীভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন খরচের বোঝা আরও বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি ভারতীয় রেলওয়ের মতো দেশের সবচেয়ে বড় যোগাযোগ মাধ্যমও এই সমস্যা থেকে মুক্ত নয়। ট্রেনের যাত্রীদের জন্য খাবার সরবরাহকারী সংস্থা আইআরসিটিসি তাদের পরিচালিত রেলওয়ে ক্যান্টিনগুলোতে রান্না করার জন্য বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন এবং মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে এবং মেনু কাটছাঁট করছে।

সার্বিকভাবে চিন্তা করলে, এই জ্বালানি সংকট ভারতের অর্থনীতির একাধিক স্তরে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করছে। কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্যতম প্রধান একটি পর্যটন গন্তব্য। এই রাজ্যের সংস্কৃতি, আতিথেয়তা এবং বিশেষ করে খাদ্য ও মিষ্টির আকর্ষণ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের টেনে আনে। কিন্তু রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলো যদি তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে না পারে, তবে রাজ্যের পর্যটন শিল্প এক বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

পরিশেষে বলা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল দুটি পক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি বিশ্বায়নের এই যুগে সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার চরম দুর্বলতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সরকারের আশ্বাসের বাণী এবং প্যানিক বায়িংয়ের তত্ত্ব দিয়ে সাধারণ মানুষের পেটের ক্ষুধা বা ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি মেটানো সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক এই সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিকল্প শক্তির সন্ধান এবং মজুত ব্যবস্থা আরও কতটা সুদৃঢ় করা যায়, সেটাই এখন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের কাছে সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট কেবল অর্থনৈতিক নয়, এক বিশাল সামাজিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...