রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে গেছে। বুধবার বিকেলে ৩ নম্বর ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ একটি বাস আকস্মিক ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পানিতে পড়ে যায়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই নারীর প্রাণহীন দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে এখনো তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাকবলিত বাস থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা গেলেও নিখোঁজ যাত্রীদের নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, বাসের ভেতরে এখনো প্রায় ৪০ জন যাত্রী পানির নিচে আটকা পড়ে আছেন।
বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পাটুরিয়া যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের বাসটি। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ঠিক সেই সময়ে ‘হাসনা হেনা’ নামক একটি ইউটিলিটি ফেরি পন্টুনে সজোরে আঘাত করলে বাসটি ভারসাম্য হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই বাসটি তলিয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা নারী ও শিশুসহ অধিকাংশ যাত্রী বের হওয়ার সুযোগ পাননি। যদিও কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হন, কিন্তু বড় একটি অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের বিশেষজ্ঞ ডুবুরি দল। ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের কমান্ডারের তত্ত্বাবধানে বেশ কয়েকজন ডুবুরি ও সহকারী ডুবুরি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা চললেও পানির প্রবল স্রোত ও অন্ধকারের কারণে কাজ বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি-সহ স্থানীয় প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে। স্বজনহারা মানুষের ভিড়ে বর্তমানে পুরো ফেরিঘাট এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।