বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১১ পূর্বাহ্ন

অন্য অসুখ থাকলে প্রাণঘাতী হচ্ছে হাম: সুস্থ হতে লাগছে দীর্ঘ সময়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে হাসপাতালে তাদের অবস্থানের সময়কাল। চিকিৎসকদের মতে, যেসব শিশু আগে থেকেই অপুষ্টি বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদী রোগে (যেমন: লিভারের সমস্যা, নিউমোনিয়া বা হার্টের রোগ) ভুগছে, হাম তাদের জন্য মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার মাত্র এক-দুই দিন পরই ফের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ফিরতে হচ্ছে শিশুদের।

কেন দীর্ঘ হচ্ছে হাসপাতালবাস?

চিকিৎসকদের মতে, হামের ভাইরাস শিশুদের শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ফলে:

  • পুরানো জটিলতা বৃদ্ধি: আগে থেকে থাকা যকৃৎ বা ফুসফুসের সমস্যাগুলো হামের কারণে আরও প্রকট হচ্ছে।

  • নতুন সংক্রমণ: হাম আক্রান্ত অবস্থায় শরীরে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো নতুন জটিলতা দেখা দিচ্ছে।

  • দীর্ঘসূত্রতা: অন্য কোনো জটিলতা না থাকলে সাধারণত ১০ দিনেই হাম সেরে যায়। কিন্তু আনুষঙ্গিক রোগ থাকলে বা টিকা না নেওয়া থাকলে এই সময় কয়েক সপ্তাহ এমনকি মাস ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

 

হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান

(জানুয়ারি থেকে ৮ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত)

হাসপাতাল / প্রতিষ্ঠান ভর্তি রোগী নিশ্চিত মৃত্যু উপসর্গসহ মৃত্যু
সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল ৭৪৫ ১৫ ২৯
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ২০৯ ০৪
সারাদেশ (১৫ মার্চ – ৮ এপ্রিল) ২১ ১২৮

হাসপাতালগুলোর বর্তমান চিত্র

১. বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল: চলতি বছরের মোট ২০৯ জন আক্রান্তের মধ্যে এপ্রিলের প্রথম ৬ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৭১ জন। বর্তমানে ৬১ জন শিশু চিকিৎসাধীন।

২. ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল: এখানে ভর্তি হওয়া শিশুদের বড় অংশেরই টিকা নেওয়া নেই। আইসিইউ-র প্রয়োজন হওয়ায় অনেক শিশুকে এখানে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

৩. সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল: দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে এই হাসপাতালে। মৃতদের সিংহভাগই নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় ভুগছিল।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ডা. আরিফুল বাশার জানিয়েছেন, শরীরে র‍্যাশ (লাল দানা) দেখা দেওয়ার ৪ দিন পরও যদি জ্বর থাকে, তবে বুঝতে হবে শিশুটি গুরুতর কোনো জটিলতায় (যেমন: ফুসফুস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ) আক্রান্ত। এছাড়া হাম থেকে সেরে ওঠার পরও শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পরবর্তী ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত দুর্বল থাকতে পারে।

মরক্কোর গবেষণার প্রতিধ্বনি বাংলাদেশে

সম্প্রতি ‘স্প্রিংগার নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত মরক্কোর একটি গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা না পাওয়া বা অসম্পূর্ণ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে জটিলতার হার অনেক বেশি। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে, যেখানে আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশেরই টিকার ডোজ অসম্পূর্ণ।


পরামর্শ: আপনার শিশুর হামের টিকা (MR) নিশ্চিত করুন। আক্রান্ত শিশুকে পুষ্টিকর খাবার দিন এবং র‍্যাশ ওঠার পর জ্বর না কমলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।


সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS) ও বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল।


এ জাতীয় আরো খবর...