বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামানকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় কারাগারে থাকা ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছিল। এই রায় ঘোষণার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। তার এই আত্মত্যাগ ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়, যার ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়:
তদন্ত প্রতিবেদন: গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ গঠন: গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
বিচার শুরু: ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
যুক্তিতর্ক: গত ২৭ জানুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল।
এই মামলার মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে বর্তমানে ৬ জন কারাগারে রয়েছেন এবং বাকি ২৪ জন পলাতক।
কারাগারে আছেন: পুলিশের এসআই আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
পলাতক: বেরোবির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বাকি ২৩ জন। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা আইনি লড়াই পরিচালনা করেন।
উল্লেখ্য, শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দাঁড়িয়ে থাকার সেই দৃশ্যটি ছিল বিপ্লবের সবচেয়ে শক্তিশালী ছবি। আজকের এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ।