ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন এবং সংসদীয় বিতর্কে পারদর্শী—এমন নেত্রীদেরই এবার অগ্রাধিকার দিতে চায় দলটি। আগামী ১৫ বা ১৬ এপ্রিলের মধ্যে ৩৬ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এবারের সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট পাচ্ছে ৩৬টি আসন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট পাচ্ছে ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য থাকছে ১টি আসন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে ‘এক পরিবারের এক প্রার্থী’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হতে পারে। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে যারা ফেসবুকে মতপ্রকাশের জন্য রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার হয়েছেন, মাসের পর মাস বিনা বিচারে জেল খেটেছেন, তাদের ত্যাগ বড় ধরনের বিবেচনার বিষয়। তবে রাজপথের ত্যাগের পাশাপাশি আইন সম্পর্কে ধারণা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়টিকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি।”
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, “দলের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিগত সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, দল তাদেরই মূল্যায়ন করবে।”
নয়াপল্টন ও গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩৬টি আসনের বিপরীতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দীর্ঘ তালিকা নিয়ে কাজ করছে হাই কমান্ড। প্রাথমিক আলোচনায় যাদের নাম গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে তারা হলেন:
মহিলা দল ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ: আফরোজা আব্বাস (সভাপতি, মহিলা দল), সুলতানা আহমেদ (সাধারণ সম্পাদক), নাজমুন নাহার বেবী, হেলেন জেরিন খান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরী, হাসিনা আহমেদ ও রুমানা আহমেদ।
সাবেক তুখোড় সংসদ সদস্য: যারা গত সংসদগুলোতে রাজপথ ও সংসদ কাঁপিয়েছিলেন—সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, রেহানা আক্তার রানু, শাম্মী আক্তার ও নিলুফার চৌধুরী মনি।
তরুণ ও পেশাজীবী নেত্রী: ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, ডা. লুনা খোন্দকার, অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ ও সানজিদা ইসলাম তুলি।
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব: জাতীয়তাবাদী আদর্শের জনপ্রিয় শিল্পী বেবী নাজনীন, কনক চাঁপা ও রিজিয়া পারভীন।
এছাড়াও বিলকিস জাহান শিরিন, রাশেদা বেগম হিরা, জেবা আমিন খান, ডা. রেয়ান আনিস এবং সাবেক ছাত্রদল নেত্রী হাসনা হেনা হীরার নাম জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভিড় বেড়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেতে লবিং এবং তদ্বিরও চলছে জোরকদমে। তবে দলের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় হওয়ার চেয়ে রাজপথের ত্যাগকেই বেশি নম্বর দেওয়া হবে। আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখতে দেশের প্রতিটি বিভাগ থেকেই প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।