আজ ১০ এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস। ১৯৭১ সালের এই মাহেন্দ্রক্ষণেই আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এই সরকারের নেতৃত্বেই নয় মাসের সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার পর বাঙালির প্রতিরোধ সংগ্রাম যখন বেগবান হতে শুরু করে, তখন এই সংগ্রামকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সুসংগঠিত করতে অস্থায়ী সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ১০ এপ্রিল গঠিত এই সরকারের নেতৃত্বে ছিলেন:
রাষ্ট্রপতি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি: সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে)।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত: এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামান।
সরকার গঠনের এক সপ্তাহ পর ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন বিপ্লবী সরকারের সদস্যরা। সেই দিন থেকেই বৈদ্যনাথতলা ‘মুজিবনগর’ নামে পরিচিতি পায় এবং একে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
প্রবাসী এই সরকারের সুযোগ্য নেতৃত্বে ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ পরিচালনার পাশাপাশি বিশ্ব জনমত গঠন, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হয়। এই সরকারের নির্দেশনায় ৩০ লাখ শহীদের রক্ত ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি অর্জন করে হাজার বছরের কাঙ্ক্ষিত মহান স্বাধীনতা।
আজ এই ঐতিহাসিক দিনে মেহেরপুরের মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ এবং সারাদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই দিনটি পালন করছে। কৃতজ্ঞ জাতি স্মরণ করছে সেই বীর সেনানীদের, যাঁদের হাত ধরে স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল।