সপ্তাহের ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও আজ রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে কোনো স্বস্তির খবর নেই। শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে আজ তা ‘সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় আজ শীর্ষ দশে অবস্থান করছে ঢাকা।
আইকিউএয়ার (IQAir)-এর তথ্য অনুসারে, আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে ঢাকার বাতাসের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) স্কোর ছিল ১৪৫। বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০-এর মধ্যে থাকলে সেই বাতাসকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ বলে গণ্য করা হয়। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এই বাতাস স্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
আজকের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান অষ্টম। তালিকার অন্যান্য শহরের পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
শীর্ষে হ্যানয় (ভিয়েতনাম): ১৮৬ স্কোর নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে।
দ্বিতীয় দিল্লি (ভারত): ১৭৮ স্কোর।
তৃতীয় চিয়াংমাই (থাইল্যান্ড): ১৭১ স্কোর।
অন্যান্য শহর: চতুর্থ স্থানে কায়রো (১৬৮), পঞ্চম স্থানে কলকাতা (১৪৯), ষষ্ঠ স্থানে হাংঝু (১৪৮), সপ্তম স্থানে কাঠমান্ডু (১৪৭), নবম স্থানে সাংহাই (১২৯) এবং দশম স্থানে রয়েছে তাসখন্দ (১১০)।
পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, বায়ুমান সূচক বা একিউআই স্কোর একটি নির্দিষ্ট শহরের বাতাস কতটা বিশুদ্ধ বা দূষিত তা নির্দেশ করে। সূচকের মানদণ্ডগুলো হলো:
০-৫০: বিশুদ্ধ বা ভালো বাতাস।
৫১-১০০: সহনীয় বা মডারেট।
১০১-১৫০: সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর।
১৫১-২০০: সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর।
২০১-৩০০: খুব অস্বাস্থ্যকর।
৩০০+: দুর্যোগপূর্ণ বা বিপজ্জনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের এই সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের অভাবের কারণে ধূলিকণা বাতাসের নিচের স্তরে জমে থাকে। এছাড়া নির্মাণাধীন প্রকল্পের ধুলোবালি এবং যানবাহনের ধোঁয়া ঢাকার বাতাসকে আরও বিষিয়ে তুলছে। ছুটির দিনেও দূষণ না কমার পেছনে শহরের চারপাশের কলকারখানা ও অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত ধোঁয়াকে দায়ী করা হচ্ছে।
ঢাকার বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সংবেদনশীল ব্যক্তিদের (শিশু, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক) অপ্রয়োজনে বাইরে না বের হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। বাইরে বের হলেও মাস্ক ব্যবহার করা এবং প্রচুর পানি পান করার মাধ্যমে দূষণের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব বলে তারা মনে করছেন।