শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের ১০ম বৈঠক অনুষ্ঠিত: ৭ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্প উপস্থাপন স্বস্তির বৃষ্টি শুরু বিভিন্ন স্থানে: বিকেলে ঢাকায়ও বৃষ্টির পূর্বাভাস এপ্রিলের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গরমে শিশুদের টিফিনে কী দেবেন? সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলনের ইন্তেকাল এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট সরকার: ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষের পরিকল্পনা সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ, নিশ্চিত হলো ব্রোঞ্জ পদক কোটি টাকার সম্পদে ভাসছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের নেত্রীরা, জামায়াতের নেই মামলা
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৪ অপরাহ্ন

গরমে শিশুদের টিফিনে কী দেবেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ছোট শিশুরা সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত স্কুলে যায়, এই গরমের দিনে তাদের শরীরে সহজেই পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন এবং ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এছাড়াও পেটের অসুখ, টাইফয়েড কিংবা জন্ডিসের মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।

ল্যাবএইড ওয়েলনেস সেন্টারের জ্যেষ্ঠ পুষ্টিবিদ ফাহমিদা হাসেমের মতে, শিশুদের জন্য স্কুলের নাশতা বা টিফিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করে তারা ঠিকমতো খেতে পারে না, অথচ দিনের একটা বড় সময় তাদের স্কুলেই কাটে। তাই তাদের নাশতা হতে হবে সুষম। পুষ্টিবিদরা মনে করেন, একটি শিশুর সারাদিনের মোট ক্যালরির এক-তৃতীয়াংশ চাহিদাই এই স্কুল নাশতার মাধ্যমে পূরণ করা প্রয়োজন।

টিফিন তৈরিতে যেসব বিষয়ে বিশেষভাবে লক্ষ রাখবেন

গরমের দিনে শিশুদের টিফিন বা নাশতা তৈরির ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বেশ কিছু বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে:

  • পুষ্টি ও হজম: নাশতায় প্রতিটি পুষ্টি উপাদানের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। খাবারটি যেন দ্রুত ও সহজে হজম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। সর্বদা তাজা খাবার দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

  • যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন: ঝোলজাতীয় খাবার এবং যেসব খাবার ঠান্ডা হলে শক্ত হয়ে যায়, টিফিনে সেগুলো পরিহার করুন। নাশতায় কোনো ধরনের কৃত্রিম রং, টেস্টিং সল্ট, কেনা বিস্কুটের গুঁড়া এবং অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলুন।

  • দ্রুত নষ্ট হওয়া খাবার নয়: গরমে দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে—এমন খাবার টিফিনে দেওয়া একেবারেই উচিত নয়। যেমন: দুধ ও দুধজাতীয় যেকোনো খাবার, মেয়োনিজ, সালাদ ড্রেসিং, আধা সেদ্ধ খাবার, কাঁচা খাবার ইত্যাদি। গরমে এগুলো নষ্ট হয়ে শিশুর পেটের অসুখসহ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

  • পানীয়ের প্রতি জোর: পানিশূন্যতা রোধে বিশুদ্ধ পানির পাশাপাশি টিফিনে ডাবের পানি, লেবুপানি, কমলার শরবত বা যেকোনো মৌসুমি ফলের শরবত দেওয়া খুব ভালো। তবে শরবতে সাধারণ চিনির পরিবর্তে গুড় বা মিছরি ব্যবহার করুন। এতে গ্লুকোজের চাহিদাও ভালোভাবে পূরণ হবে।


আদর্শ স্কুল নাশতার কয়েকটি স্বাস্থ্যকর নমুনা

প্রতিদিন একই রকম খাবার দিলে শিশুদের খাওয়ার প্রতি অনীহা তৈরি হতে পারে। তাই নাশতায় বৈচিত্র্য আনা জরুরি। পুষ্টিবিদ ফাহমিদা হাসেম বেশ কয়েকটি আদর্শ টিফিনের তালিকা দিয়েছেন:

১. লাল আটার রুটি + গাজরের বা পেঁপের হালুয়া + নাশপাতি বা আপেল।

২. ভেজানো চিঁড়া বা খইয়ের সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটস মিক্সড + ডিম সেদ্ধ + মিক্সড ফলের চাট।

৩. ছোলা-গাজর-মটরশুঁটি সেদ্ধ (এক কাপ) + শসা + পেঁপের শরবত।

৪. বড় আলু সেদ্ধ (দুটি) + ডিম সেদ্ধ + শসা বা গাজর-আঙুর।

৫. যেকোনো ধরনের পিঠা + ফলের চাট।

৬. ফিশ ফিঙ্গার বা পনির + একটি আলু সেদ্ধ + আঙুর।

৭. একটি চিকেন শর্মা (আটার রুটির মধ্যে মুরগির মাংস দিয়ে মোড়ানো) + পেঁপের শরবত।

৮. সবজি ও মুরগির মাংস দিয়ে রান্না করা নুডলস + পেয়ারা + লেবু-পুদিনার শরবত।

৯. বোম্বে টোস্ট + পনির + ফলের সালাদ।

১০. মুড়ির সঙ্গে বাদাম, কিশমিশ ও গুড় মিক্সড + টক-মিষ্টি ফলের চাট।

১১. সবজি খিচুড়ি + ডিম + পুদিনা-লেবুর শরবত।

১২. লাল আটার রুটি + ডিমভাজি + ফলের সালাদ।

১৩. ডিম-আলুর চপ + কমলা বা পেয়ারা।

এই তালিকা থেকে প্রতিদিন ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে টিফিন দিলে শিশুর পুষ্টির চাহিদা মেটার পাশাপাশি খাবারে একঘেয়েমিও আসবে না।


এ জাতীয় আরো খবর...