শিরোনামঃ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের ১০ম বৈঠক অনুষ্ঠিত: ৭ হাজার কোটি টাকার ১৭ প্রকল্প উপস্থাপন স্বস্তির বৃষ্টি শুরু বিভিন্ন স্থানে: বিকেলে ঢাকায়ও বৃষ্টির পূর্বাভাস এপ্রিলের শেষ নাগাদ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গরমে শিশুদের টিফিনে কী দেবেন? সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী গোলাম সারোয়ার মিলনের ইন্তেকাল এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সন্তুষ্ট সরকার: ডিসেম্বরের মধ্যেই সব পাবলিক পরীক্ষা শেষের পরিকল্পনা সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরও ৬ মাস সময় দিল হাইকোর্ট প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই সেমিফাইনালে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ, নিশ্চিত হলো ব্রোঞ্জ পদক কোটি টাকার সম্পদে ভাসছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের নেত্রীরা, জামায়াতের নেই মামলা
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন

প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোর অন্যতম চিত্রধারক রঘু রাই আর নেই। রোববার (২৬ এপ্রিল) নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়া টুডে তাঁর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে।

দীর্ঘদিন লড়ছিলেন ক্যানসারের সঙ্গে

রঘু রাইয়ের ছেলে ও আলোকচিত্রী নীতিন রাই গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত দুই বছর ধরে তাঁর বাবা ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন। প্রথমে তাঁর প্রোস্টেট ক্যানসার ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তা শরীরের অন্যান্য অংশে এবং সর্বশেষ মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি বয়সজনিত নানা জটিলতা তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটায়, যার ফলে শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রীদের মধ্যে রঘু রাই ছিলেন অন্যতম উজ্জ্বল নাম। ১৯৭১ সালে তিনি ভারতের ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী শিবিরগুলোতে গিয়ে উদ্বাস্তু বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবনযাত্রার হৃদয়স্পর্শী ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন। শুধু তাই নয়, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে তিনি রণাঙ্গনে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ লড়াই, বিজয়ের আনন্দঘন মুহূর্ত এবং পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক দৃশ্যগুলো তাঁর ক্যামেরায় ধারণ করেন। তাঁর তোলা এই ছবিগুলো আজও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক অমূল্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

১৯৪২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাঞ্জাবের ঝাং অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন রঘু রাই। ১৯৬২ সালে তাঁর বড় ভাই, আরেক প্রখ্যাত আলোকচিত্রী এস পলের কাছে তাঁর আলোকচিত্রের হাতেখড়ি হয়। এরপর ১৯৬৫ সালে ‘দ্য স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় যোগদানের মাধ্যমে তিনি পেশাদার ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি ‘সানডে’ ম্যাগাজিন ও ‘ইন্ডিয়া টুডে’তে ছবি সম্পাদক ও ফটোগ্রাফার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

আলোকচিত্রে তাঁর অসামান্য দক্ষতার কারণে ১৯৭৭ সালে কিংবদন্তি ফরাসি আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ (Henri Cartier-Bresson) তাঁকে বিশ্বখ্যাত সংস্থা ‘ম্যাগনাম ফটোজ’ (Magnum Photos)-এ যোগদানের জন্য মনোনীত করেন। ১৯৮৪ সালের ভোপাল গ্যাস ট্র্যাজেডির (Bhopal Gas Tragedy) ভয়াবহতাও তিনি তাঁর ক্যামেরায় নিপুণভাবে তুলে ধরেন এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেন। এই ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তিনি ‘Exposure: A Corporate Crime’ শিরোনামে একটি সাড়া জাগানো বই প্রকাশ করেন।

সম্মাননা ও প্রাপ্তি

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অসাধারণ ও সাহসী আলোকচিত্রের স্বীকৃতিস্বরূপ ভারত সরকার তাঁকে ১৯৭২ সালে সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভূষিত করে। তাঁর দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ভারত, মানুষ, সংস্কৃতি ও বিভিন্ন শহর নিয়ে ১৮টিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর অসামান্য সব কাজ ‘টাইম’, ‘লাইফ’, ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর মতো বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর...