শিরোনামঃ
মতুয়া চমক: রূপকথা নাকি সাজানো প্ল্যান? বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: ৫৬ হাজার কোটির দায় কেন জনগণের কাঁধে? লোগো নকল, দাম আকাশছোঁয়া: সংসদের কেনাকাটায় এ কোন জাদুকরি হিসাব? তীব্র গরমে হঠাৎ ঘাম বন্ধ? হিট স্ট্রোক নয় তো! অবশেষে বোনদের পথ ধরে হজে যাচ্ছেন চম্পা অনুমতি ছাড়া ভিডিও করলে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী ইরানের তেল বাণিজ্য সম্পূর্ণ অচল করার কড়ার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি কি কৌশল না ইসলামাবাদের মধ্যস্থতা ‘অবৈধ যুদ্ধ’ আড়াল করতেই হুমকি: ইরানি-মার্কিন কংগ্রেসওম্যান ইয়াসামিন আনসারি বিশ্বমঞ্চে ‘শান্তিদূত’ পাকিস্তান: আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার আড়ালে ধুঁকছে ঘরোয়া রাজনীতি
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

তীব্র গরমে হঠাৎ ঘাম বন্ধ? হিট স্ট্রোক নয় তো!

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

দেশজুড়ে চলছে তীব্র দাবদাহ। প্রচণ্ড এই গরমে শুধু যে হাঁসফাঁস অবস্থা বা তৃষ্ণা পাচ্ছে তা নয়, যেকোনো মুহূর্তে আপনি বা আপনার পাশের মানুষটি শিকার হতে পারেন ‘হিট স্ট্রোক’-এর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিট স্ট্রোককে একটি অত্যন্ত জরুরি ও মারাত্মক শারীরিক অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সময়মতো এর চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, কিডনিসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষাঘাত, কোমা বা মৃত্যু পর্যন্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে একটু সচেতন হলে এই মারাত্মক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

যেসব লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন হিট স্ট্রোক হঠাৎ করেই হতে পারে। এর কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে:

  • তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও ঘাম বন্ধ: শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করেই বেড়ে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বিপজ্জনক লক্ষণ হলো, এ সময় শরীর প্রচণ্ড গরম থাকলেও ঘাম হয় না।

  • অস্বাভাবিক আচরণ: শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় সমস্যা হতে পারে। কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অসংলগ্ন আচরণ দেখা দেয়।

  • শারীরিক অস্বস্তি: প্রচণ্ড মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া এবং মাথায় তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।

  • ত্বক ও শ্বাস-প্রশ্বাসে পরিবর্তন: শরীরের তাপমাত্রা বাড়ার কারণে ত্বক হঠাৎ লাল হয়ে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়।

  • অন্যান্য: প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, হঠাৎ খিঁচুনি হওয়া এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তাৎক্ষণিক করণীয় আশেপাশে কারও মধ্যে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

  • শীতল স্থানে স্থানান্তর: আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত রোদ থেকে সরিয়ে ছায়াযুক্ত বা ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যান।

  • কাপড় ও জুতা খোলা: গায়ের অতিরিক্ত কাপড় ঢিলা করে দিন বা খুলে ফেলুন। মোজা ও জুতা দ্রুত খুলে ফেলতে হবে।

  • শরীর ঠান্ডা করা: আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠান্ডা বা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। বিশেষ করে বগল, কুঁচকি, ঘাড়সহ ভাঁজ হওয়া স্থানগুলো ভেজা তোয়ালে দিয়ে বারবার মুছতে হবে।

  • শোয়ানোর নিয়ম: আক্রান্ত ব্যক্তিকে সোজা করে শুইয়ে দিয়ে পা সামান্য উঁচু বা মাথা একটু নিচের দিকে রাখলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে।

  • তরল খাবার: রোগীর জ্ঞান থাকলে প্রচুর পানি, ডাবের পানি, ফলের শরবত বা খাবার স্যালাইন পান করতে দিন।

  • হাসপাতালে স্থানান্তর: রোগী যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে বাড়িতে কোনো চিকিৎসার চেষ্টা না করে তাকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

 

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয় কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো যায়:

  • রোদ এড়িয়ে চলুন: দুপুরের প্রখর রোদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। বাইরে বের হলে ছাতা, চওড়া টুপি এবং সানগ্লাস ব্যবহার করুন।

  • হালকা পোশাক: গরমে সব সময় সাদা বা হালকা রঙের এবং সুতির ঢিলেঢালা কাপড় পরার চেষ্টা করুন।

  • পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ: শরীরে যেন পানিশূন্যতা তৈরি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাইরে গেলে সাথে পানির বোতল রাখুন এবং ডাবের পানি ও স্যালাইন খান।

  • ভারী কাজ থেকে বিরত থাকা: দুপুরের তীব্র রোদে ভারী কাজ বা অতিরিক্ত শারীরিক ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।

  • খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: গরমের সময় চা, কফি এবং ধূমপান যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীরকে আরও পানিশূন্য করে দেয়। শরীর ঠান্ডা রাখে এমন খাবার বেশি করে খান।

সচেতনতাই পারে এই তীব্র গরমে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে সুস্থ রাখতে।


এ জাতীয় আরো খবর...