শিরোনামঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির খরচ মাত্র ৫ লাখ টাকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরাক ও মরক্কো দলের অফিশিয়াল এআই স্পনসর গুগল জেমিনি রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন: যুদ্ধের সময় ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব প্রার্থনা… রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর কোরবানির চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ সরকারের, সংরক্ষণে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে লবণ নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ অধ্যায়, ৭ই নভেম্বর ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের লম্বা ছুটি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ অধ্যায়, ৭ই নভেম্বর ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে দেশের মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যসূচিতে একটি যুগান্তকারী সংস্কার আনতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত, খণ্ডিত কিংবা রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ইতিহাসের অধ্যায়গুলোকে বস্তুনিষ্ঠভাবে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ‘ইতিহাস’ এবং ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এই সংস্কারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯০-পরবর্তী রাজনৈতিক ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক অন্তর্ভুক্তি।

খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক জীবনের স্বীকৃতি

নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রথমবারের মতো সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানের বিশদ মূল্যায়ন করা হচ্ছে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার ‘আপসহীন নেত্রী’ ইমেজ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং রাজনৈতিক উত্তরণের বিভিন্ন পর্যায়ে তার অবদান শিক্ষার্থীরা এখন বইয়ের পাতায় পড়তে পারবে। এনসিটিবি মনে করছে, এই অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যনিষ্ঠ অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে। বর্তমানে এই নির্দিষ্ট অধ্যায়টির বিষয়বস্তু প্রণয়ন ও সম্পাদনার কাজ নিবিড়ভাবে চলছে।

৭ নভেম্বরের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বাঁক বদলের দিন ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সামরিক প্রেক্ষাপটে দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, দীর্ঘ সময় ধরে এটি পাঠ্যসূচিতে হয় উপেক্ষিত ছিল, নয়তো আংশিকভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিত এই ঐতিহাসিক দিনটির রাজনৈতিক ও সামরিক পটভূমি এবার নতুন পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা সেই সময়ের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ক্ষমতার পালাবদলের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাবে।

সমকালীন ইতিহাস: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান

ইতিহাস কেবল অতীতের নয়, বরং বর্তমানেরও। সেই ধারণাকে ধারণ করেই নতুন পাঠ্যবইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। সাম্প্রতিক সময়ের এই বিশাল আন্দোলনের পটভূমি, সাধারণ ছাত্র ও জনতার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, তাদের গণদাবি এবং সমাজ ও রাজনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব সমসাময়িক ইতিহাসের অংশ হিসেবে বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবি কর্মকর্তাদের মতে, এই সংযোজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে এবং তাদের মধ্যে বাস্তবধর্মী রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হবে।

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা: ফিরে আসছেন ১০-১২ জন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব

বর্তমানে প্রচলিত ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ (বিজিএস) বইয়ে প্রাচীন বাংলা থেকে আধুনিক বাংলাদেশ পর্যন্ত ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কিছু শূন্যস্থান ছিল। শিক্ষার্থীরা যেন একটি নিরবচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক ধারার সাথে পরিচিত হতে পারে, সেজন্য ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বইগুলোতে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে থাকছে একটি বিশেষ অধ্যায়, যেখানে প্রাচীন বাংলার পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট গোপাল থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলার রূপকার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ জন বরেণ্য ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জীবনী এবং অবদান তুলে ধরা হবে।

এই তালিকায় আরও থাকছেন সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ, যিনি বাংলার স্বাধীনতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক এবং মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মতো মহান নেতারা। ইলিয়াস শাহী আমল থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব ও তাদের অবদানগুলোকে যথাযথ মূল্যায়নের আওতায় আনাই এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য।

জটিলতামুক্ত শিক্ষাক্রম এবং ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার প্রবর্তন

শুধু ইতিহাসের নতুন তথ্য সংযোজনই নয়, এনসিটিবি পাঠ্যবইয়ের ভাষা এবং উপস্থাপন পদ্ধতিতেও বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ছিল যে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু ও ভাষা শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের তুলনায় অতিরিক্ত জটিল। এই কাঠিন্য কমানোর জন্য ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাক্রমে ‘লার্নিং জয়’ বা আনন্দময় শিক্ষার ধারণাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মুখস্থনির্ভর পড়াশোনার চাপের বদলে শিক্ষার্থীরা যেন আনন্দের সাথে শিখতে পারে, সেজন্য অপ্রাসঙ্গিক ও অতিরিক্ত তথ্য বাদ দেওয়া হচ্ছে। বইয়ের ভাষা করা হচ্ছে প্রাঞ্জল, সহজবোধ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব। এই ধারণার সাথে সামঞ্জস্য রেখে টিচার্স গাইড, কারিকুলাম, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং পাঠ উপস্থাপনেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বাড়ানোই এর মূল লক্ষ্য।

নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনা এবং সময়মতো বই পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি

এনসিটিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাঠ্যবই পরিমার্জনের ক্ষেত্রে তারা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করছেন না। তাদের মূল লক্ষ্য হলো বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ ইতিহাস বই তৈরি করা, যা দীর্ঘদিনের বিতর্ক বা বিকৃতির অভিযোগ থেকে মুক্ত থাকবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের এই বইগুলোর পরিমার্জনের কাজ বর্তমানে পুরোদমে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই এই পরিমার্জন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এনসিটিবি আশাবাদী যে, জানুয়ারি মাসের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা এই বস্তুনিষ্ঠ, সহজবোধ্য এবং নতুন ইতিহাসসমৃদ্ধ বইগুলো হাতে পেয়ে যাবে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা পোস্ট


এ জাতীয় আরো খবর...