শিরোনামঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: জাতীয় পার্টির খরচ মাত্র ৫ লাখ টাকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: ইরাক ও মরক্কো দলের অফিশিয়াল এআই স্পনসর গুগল জেমিনি রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন: যুদ্ধের সময় ইরানে গোপনে হামলা চালিয়েছিল সৌদি আরব প্রার্থনা… রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পে সায় নেই প্রধানমন্ত্রীর কোরবানির চামড়ার নতুন দাম নির্ধারণ সরকারের, সংরক্ষণে দেওয়া হবে বিনা মূল্যে লবণ নওগাঁ চেম্বারের নবায়ন ফি বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ: জরুরি সাধারণ সভা ও নির্বাচন দাবিতে প্রশাসকের কাছে ব্যবসায়ীদের আবেদন পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ অধ্যায়, ৭ই নভেম্বর ও ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৬ থেকে ২৩ দিনের লম্বা ছুটি
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য সামনে রেখে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাকেই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, অতীতের রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিভাজনের রাজনীতি এবং ক্ষমতালোভী মহলের নানা অপচেষ্টার কারণে দেশে এমন এক ভয়াবহ সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে সাধারণ ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিবেশও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত ‘ইসলামিক প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, যারা ভোটারবিহীন নির্বাচন করে এবং সম্পূর্ণ গণবিচ্ছিন্ন হয়ে জোরপূর্বক রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল, তারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সাধারণ জনগণের মধ্যে সুপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিভেদ তৈরি করত। আর এই বিভেদ তৈরি করাকেই তারা তাদের প্রধান রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেছিল। ধর্মীয় বিভাজন ও বিদ্বেষ তৈরির অপচেষ্টা ছিল সেই হীন রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম একটি অংশ। একসময় দেশের মাদরাসা শিক্ষার্থীদের এবং টুপি, দাড়ি কিংবা নিয়মিত নামাজ আদায়ের মতো স্বাভাবিক ধর্মীয় অনুশীলনকেও কিছু মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সন্দেহের চোখে দেখতো, যা এদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

তথ্যমন্ত্রী দেশের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যুগ যুগ ধরে নানা ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির মধ্যে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এক অনন্য ঐতিহ্য বহন করে আসছে। ইসলাম ধর্মসহ পৃথিবীর সকল ধর্মই একে অন্যের বিশ্বাস, মতাদর্শ ও জীবনাচরণের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। তাই আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী সমাজে কোনোভাবেই বিভাজন, বিদ্বেষ ও সংঘাত সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নেই। উত্তরা কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই ইসলামিক প্রতিযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের সময়োপযোগী আয়োজন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা, যুক্তিবোধ ও নৈতিক শিক্ষার যথাযথ বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে এ ধরনের মহতী উদ্যোগ সমাজে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ব্যাপকভাবে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট বর্তমান সরকারের জন্য একটি বিশাল বড়ো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকার বিশাল ঋণের বোঝা এবং প্রতিনিয়ত বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের যে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে, তা মোকাবিলা করে দেশের অর্থনীতিকে পুনরায় শক্তিশালী করতে যথেষ্ট সময় এবং সেই সাথে নিরবচ্ছিন্ন সামাজিক স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আগামী অন্তত দুই বছর দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা যেকোনো মূল্যে বজায় রাখা গেলে এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ধস থেকে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। তাই দেশের প্রতিটি নাগরিককে এখন থেকে যেকোনো ধরনের বিভেদ ও সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আন্তরিক আহ্বান জানান তিনি।

গণতন্ত্রের সুস্থ চর্চা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে গঠনমূলক ও যুক্তিনির্ভর বিতর্ক করাটা সুস্থ গণতন্ত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে সংসদের ভেতরের সেই বিতর্ক, আলোচনা এবং মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই রাজপথে সংঘাত, ভাঙচুর বা বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলসহ দেশের সবাইকে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চাকারীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজে সার্বিক শান্তি, পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে দেশের আলেম-উলেমা ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।

পুরস্কার বিতরণী এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রতিযোগিতার আয়োজক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব আল্লামা মুফতি আব্দুল মালেক, বিশিষ্ট আলেম হাফেজ মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমীসহ দেশের বিশিষ্ট আলেম-উলেমাগণ। এছাড়া বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই অনুষ্ঠানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং মন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনেন।


এ জাতীয় আরো খবর...