চীনের বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও দুই পরাশক্তির মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো অবসান হয়নি। উল্টো এই সফরের পরপরই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে ভারতের নয়াদিল্লিতে বসতে যাচ্ছে ‘কোয়াড’ (Quad) জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক।
বেইজিংয়ে উষ্ণতা, তবে সম্পর্কে বরফ গলেনি
বৃহস্পতিবার সকালে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বেশ প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতার এই বৈঠকে ইতিবাচক বার্তা ও একটি চমৎকার সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহ্যিক উষ্ণতা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের মূল টানাপোড়েন বা অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই
বর্তমানে বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার এই স্নায়ুবিক ক্ষমতার লড়াই। একদিকে চীন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তাদের অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে; অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের যে একচ্ছত্র অবস্থান রয়েছে, তা যেকোনো মূল্যে ধরে রাখতে চাইছে। দুই দেশের এই তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রভাব শুধু তাদের নিজেদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে এর সুস্পষ্ট প্রভাব পড়ছে।
চীনের প্রভাব ঠেকাতে ‘কোয়াড’ ফ্যাক্টর
বিশ্লেষকদের ধারণা, সামনের দিনগুলোতে এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে আগামী ২৪ ও ২৫ মে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য কোয়াড জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠককে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়বে।
জোটের সদস্য: যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া।
আনুষ্ঠানিক লক্ষ্য: এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রপথে অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করা।
কৌশলগত লক্ষ্য: আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তবে কোয়াড হলো চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য মোকাবিলার জন্য গঠিত একটি শক্তিশালী কৌশলগত জোট। বিশেষ করে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ছোট ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে চীনের প্রভাব বলয়ের বাইরে রাখতে এই জোট বর্তমানে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।
মার্কো রুবিওর ভূমিকা ও আগামী দিনের কৌশল
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফরে রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের শেষ দিকে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় এই কোয়াড বৈঠকে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক পরপরই এই কোয়াড বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বেইজিংয়ে বসে চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার পর, নয়াদিল্লিতে গিয়ে এশিয়া অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।