গত এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অর্জিত যুদ্ধবিরতি ভেঙে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজতে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের মিডিয়া স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি। সোমবার (১৮ মে) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই গভীর আশঙ্কার কথা জানান।
অধ্যাপক এলমাসরির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও মার্কিন প্রশাসনের ভেতরের সমীকরণ এই সংঘাতকে অনিবার্য করে তুলছে। নিচে তার পর্যালোচনার মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
হামলার নেপথ্য কারণ ও কট্টরপন্থিদের চাপ
এলমাসরি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শুরু করবেন কারণ তিনি চারপাশ থেকে প্রভাবিত হচ্ছেন। বিশেষ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরে থাকা কট্টরপন্থিরা প্রতিনিয়ত ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করছেন।
কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও ট্রাম্পের হতাশা
এই সম্ভাব্য হামলার পেছনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক হতাশা ব্যাপকভাবে কাজ করছে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে:
ইরানের অনড় অবস্থান: ট্রাম্প ইরানের কাছ থেকে যে ধরনের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ ও নতিস্বীকার প্রত্যাশা করেছিলেন, তেহরান তা একেবারেই করেনি।
চীন সফরের হতাশা: সাম্প্রতিক চীন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প যে উচ্চাশা পোষণ করেছিলেন, সেখানেও তিনি আশানুরূপ কোনো ফল বা সমর্থন পাননি।
রাজনৈতিক ফাঁদে ট্রাম্প: ‘বিপর্যয় জেনেও পিছু হটার সুযোগ নেই’
অধ্যাপক এলমাসরির মতে, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক—উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আক্ষরিক অর্থেই একটি বড় বিপর্যয়। একজন বিজ্ঞ নেতা হলে ট্রাম্পের উচিত এখানেই এই সংঘাতের ইতি টানা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। এলমাসরি বলেন, “ট্রাম্প বর্তমান অবস্থা থেকে পিছু হটবেন না। কারণ, দেশের নাগরিকদের কাছে যুদ্ধজয়ের কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা বা অর্জন ছাড়া ফিরে যাওয়া তার জন্য অসম্ভব।”
সংঘাতের পটভূমি
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং দখলদার ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা চালায়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে টানা ৪০ দিন রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের জোরালো কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো সংঘাত শুরু না হলেও, অধ্যাপক এলমাসরির এই সতর্কবার্তা গোটা অঞ্চলে আবারও চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক তৈরি করেছে।