শিরোনামঃ
বাড়ছে সশস্ত্র ছিনতাই-হত্যা, ওপারে পাচারের শিকার নারীরা পাবিপ্রবিতে কর্মকর্তাদের ‘অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড প্রফেশনালিজম’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ চিকিৎসক নাসিরের ওপর হামলার প্রতিবাদ: কর্মস্থলে নিরাপত্তার দাবিতে পাবনায় চিকিৎসকদের মানববন্ধন মসজিদে মানত দিতে গিয়ে অপহৃত তরুণ-তরুণী: ২৪ ঘণ্টার যৌথ অভিযানে উদ্ধার, পালাল দুর্বৃত্তরা গবেষণাধর্মী ও সবুজ ক্যাম্পাসের প্রত্যয়ে পাবিপ্রবির নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নিলেন ড. শামীম স্লিপ ডিভোর্স নোটিশ ছাড়াই ফোনে ডাক: ডিসি নিয়োগের ফিটলিস্ট ঘিরে প্রশাসনে তোলপাড় সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা তলানিতে ঠেকছে: হাসনাত আব্দুল্লাহ সব বাধা কাটল আইভীর: ১২ মামলাতেই জামিন বহাল, শিগগিরই কারামুক্তি প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি: দক্ষিণ কোরিয়ায় আসিফ মাহমুদকে নাগরিক সংবর্ধনা
সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ১০:০৬ পূর্বাহ্ন

ইউরেনিয়াম ও খার্গ দ্বীপ দখলে কমান্ডো অভিযানের ছকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬

শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাজতে শুরু করেছে সর্বাত্মক যুদ্ধের দামামা। আগামী সপ্তাহ থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পরিসরে সামরিক প্রস্তুতি চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্থগিত হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury) নামের অভিযানটি খুব শিগগিরই নতুন কোনো নামে পুনরায় শুরু হতে পারে। এই সম্ভাব্য হামলায় পারস্য উপসাগরের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খার্গ দ্বীপ’ দখলের পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারে দুঃসাহসিক কমান্ডো অভিযান চালানোর মতো চরম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প নিয়েও পেন্টাগনে জোর আলোচনা চলছে।

নিউইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য বৈশ্বিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রমতে, যুদ্ধবিরতির আলোচনা ভেস্তে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত নির্দেশ পাওয়ামাত্রই মিত্রবাহিনী হামলায় ঝাঁপিয়ে পড়বে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সম্প্রতি কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজন হলে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ানোর চূড়ান্ত পরিকল্পনা তাদের হাতে রয়েছে। সম্ভাব্য এই হামলার ছকে প্রথমেই রয়েছে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক মাত্রায় বোমাবর্ষণ। এর পাশাপাশি ইসফাহানসহ বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় মাটির গভীরে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য স্পেশাল অপারেশন্স ফোর্সের কয়েকশ এলিট কমান্ডোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল পরিমাণ ইউরেনিয়াম দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড বা বোমা তৈরি করা সম্ভব, যদিও তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছে।

তবে এ ধরনের কমান্ডো অভিযান যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তা খোদ মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারাই অকপটে স্বীকার করছেন। ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে গিয়ে ইরানি পদাতিক বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন কমান্ডোদের সরাসরি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই মিশনকে সফল করতে এবং কমান্ডোদের চারদিকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে কয়েক হাজার বাড়তি সেনার প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার মেরিন সেনা ইতিমধ্যে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং তারা পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। এছাড়া ইরানের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি খার্গ দ্বীপ দখল করতে হলেও বিপুলসংখ্যক পদাতিক বাহিনীর প্রয়োজন পড়বে বলে পেন্টাগন মনে করছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলি কর্মকর্তারাও ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সরাসরি যুদ্ধের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছেন। দেশটির জনপ্রিয় টেলিভিশন ‘চ্যানেল টুয়েলভ’-কে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেল আবিব বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েক সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তারা এখন কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্টের চূড়ান্ত সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা, দুটি এয়ারক্র্যাফট ক্যারিয়ার, কয়েক ডজন ডেস্ট্রয়ার এবং বিপুলসংখ্যক যুদ্ধবিমান যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এই দুঃসাহসিক পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর...