শিরোনামঃ
চ্যাটজিপিটিতে লেখার বানান চেক করার বিপদ শহরে কয়টা খাল উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে? — প্রশ্ন হান্নান মাসউদের জিলহজ মাসের প্রথম ১৩ দিনের বিশেষ আমল ও ফজিলত ঈদের ছুটিতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৮ দফা নির্দেশনা ‘বিচার চাই না, কারণ আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই’: রামিসার বাবার বুকফাটা আর্তনাদ টানা তিন দফা কমল সোনার দাম: ভরিতে কমল ২১৫৮ টাকা রামিসার খণ্ডিত দেহ যে প্রশ্ন রেখে গেল: ঘরের পাশে ওত পেতে থাকা দানব থেকে শিশুদের বাঁচাবে কে? আনসার বাহিনীকে দক্ষ ও গতিশীল করতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার তাগিদ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৬ দিনের নিখোঁজ পর মিলল পাঞ্জাবি গায়িকার দেহ নির্মাতা দেবালয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে আইনি পথে অভিনেত্রী অঙ্কিতা
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

কোরবানির ঈদযাত্রায় ৭ মহাসড়কের ৯৪ স্পট যানজট প্রবণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১০ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

আগামী ২৮ মে সারা দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ২৪ মে সরকারি অফিস ছুটি হওয়ার পর থেকেই রাজধানী ছাড়তে শুরু করবে উৎসবমুখর মানুষ। ধারণা করা হচ্ছে, এবারও নাড়ির টানে অন্তত এক কোটির বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। বিপুল সংখ্যক এই ঘরমুখো যাত্রীর প্রায় ৮৫ শতাংশেরই যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হলো সড়কপথ। তবে স্বস্তির এই ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে দেশের ৭টি প্রধান মহাসড়কের অন্তত ৯৪টি যানজটপ্রবণ পয়েন্ট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এসব মহাসড়কে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং তদারকি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের সামান্য ঘাটতি থাকলেই যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হতে পারে।

মহাসড়ক পুলিশের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে যানজট সৃষ্টির উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কের অবস্থাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, যার প্রতিটিতে ২৫টি করে যানজটপ্রবণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ৭টি করে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ৮টি এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে একটি পয়েন্টে যানজটের শঙ্কা রয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যানজট বিশেষজ্ঞ সন্তোষ কুমার রায়ের মতে, ঈদের সময় মহাসড়কে গাড়ির চাপ স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সাধারণ সময়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যেখানে ৩৫ হাজার গাড়ি চলে, ঈদে তা বেড়ে প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছায়। একইভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ২২ হাজার গাড়ি থেকে বেড়ে চাপ গিয়ে ঠেকে ৬৪ হাজারে। এই বিপুল গাড়ির চাপ সামলাতে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি।

যানজট সৃষ্টির নেপথ্যে বেশ কয়েকটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টরা। রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদের চ্যালেঞ্জ একেবারেই ভিন্ন। এ সময় একদিকে ঘরমুখো মানুষের বাস ঢাকা ছাড়ে, অন্যদিকে কোরবানির পশুবাহী শত শত ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। এই দুই বিপরীতমুখী চাপের পাশাপাশি রাস্তায় লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হয়ে পড়া, রাস্তার ভাঙাচোরা অংশ মেরামত না হওয়া এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করার কারণে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এছাড়া মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা এবং মোটরসাইকেলের অবাধ চলাচলও যানজটের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ অটোরিকশা ও অটোটেম্পো চালক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো অবৈধ পশুর হাট। গত কোরবানির ঈদে মহাসড়কের পাশে দুই শতাধিক পশুর হাট বসেছিল। সরকার এবার মহাসড়কে পশুর হাট বসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, মাঠপর্যায়ে এর কড়াকড়ি বাস্তবায়ন না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

দেশের বড় দুটি সেতু দিয়ে পারাপারের পরিসংখ্যান এবং মোবাইল সিম স্থানান্তরের তথ্য দেখলেই ঈদযাত্রার বিশালত্বের একটি পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। বিটিআরসির তথ্যমতে, প্রতি বছরই ঢাকা ছাড়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৩ সালের ঈদুল আজহায় প্রায় ৮৯ লাখ সিম ঢাকা ছেড়েছিল, যা ২০২৪ সালে বেড়ে ১ কোটি ৫ লাখে দাঁড়ায়। গত বছরও প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশু ও মোবাইলবিহীন যাত্রীদের হিসাব ধরলে এই সংখ্যা অনায়াসেই ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এই বিপুল যাত্রীর একটি বড় অংশ পার হয় পদ্মা ও যমুনা সেতু দিয়ে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার ভরসা পদ্মা সেতুতে গত বছর কোরবানির ঈদে দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার গাড়ি পার হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ববঙ্গের ২৩ জেলার প্রবেশদ্বার যমুনা সেতু দিয়ে গত বছর দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার গাড়ি পারাপার হয়, যার মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৪ হাজার ২৮৩টি যান পারাপারের রেকর্ডও রয়েছে।

বিপুল এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার এবং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী নানামুখী প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার টানা তিন দিনের ছুটির পাশাপাশি শিল্প-কারখানাগুলো ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক মনে করেন, আগের তুলনায় যানজট কিছুটা কমলেও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের সদর দপ্তরের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, যাত্রীবাহী ও পশুবাহী যানের মিশ্র চাপের বিষয়টি মাথায় রেখে বিশেষ পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। যেসব এলাকায় যানজটের ঝুঁকি বেশি, সেখানে কন্ট্রোলরুম স্থাপন এবং সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে। এছাড়া মহাসড়কের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত এক হাজার পুলিশ সদস্য যুক্ত করে নিয়মিত প্যাট্রোলিং বা টহল নিশ্চিত করার কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।

তথ্যসূত্র: কালের কন্ঠ


এ জাতীয় আরো খবর...