রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সদিচ্ছা ও ঐক্য থাকলে ভূমিদস্যু ও জলদস্যু দমনসহ দেশের খাদ্য, পানি ও কৃষি নিরাপত্তার সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। আপনার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয়গুলো নিচে গুছিয়ে উপস্থাপন করা হলো:
হান্নান মাসউদ প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে খাল পুনরুদ্ধারের অনেক প্রজেক্ট দেখা গেলেও ঢাকা শহর, সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভাগুলোতে বাস্তবে কয়টি খালের কাজ শুরু হয়েছে?
দখলদারিত্ব ও সংঘাত: শহরের জমির দাম বেশি হওয়ায় খালের ওপর নির্মিত অবৈধ দোকান ও ভবনের আর্থিক মূল্য অনেক। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
রাজনৈতিক ইন্ধন: মাসউদের মতে, যারা এই সংঘাত তৈরি করে, তারা সাধারণ মানুষ নয়; বরং তারা এনসিপি, জামায়াত, বিএনপি বা আওয়ামী লীগের মতো কোনো না কোনো দলের নেতা। ভোটব্যাংক ও পপুলিস্ট রাজনীতির কারণে নেতারা অনেক সময়ই দখলদারদের পক্ষ নেন।
তিনি বলেন, “ঢাকায় জলাবদ্ধতা হলে আমরা সরকারের সমালোচনা করি। কিন্তু বাস্তবে বিরোধী দল হিসেবে আমরা সরকারকে কতটুকু সহায়তা করি?” সত্য-মিথ্যা যাচাই না করে কেবল জনসমর্থন পাওয়ার আশায় যেদিকে লোকবল বেশি, সেদিকে দাঁড়িয়ে যাওয়ার এই ‘পপুলিস্ট’ রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
মাসউদ দেশের জীববৈচিত্র্য ও বনভূমি ধ্বংসের কয়েকটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন:
দূষিত পানি ও প্রাণহানি: খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নষ্ট হচ্ছে। আটকে থাকা পচা পানি খেয়ে চরাঞ্চলের মহিষসহ অন্যান্য প্রাণী মারা যাচ্ছে।
বন উজাড় ও লিজ বাণিজ্য: কৃষিকাজের জন্য বরাদ্দ পাওয়া জমি থেকে বন উজাড় করে ৫-১০ হাজার টাকায় লিজ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
আইনের বৈষম্য: বন কাটতে গিয়ে কেবল সাধারণ দিনমজুর বা শ্রমিকরাই গ্রেপ্তার হন, কিন্তু পেছনের প্রভাবশালী ‘রাঘববোয়ালদের’ কিছুই হয় না।
হরিণ নিধন: নিঝুম দ্বীপ, যা একসময় হরিণের স্বর্গরাজ্য ছিল, সেখানে প্রভাবশালী চক্রের হস্তক্ষেপে গত দেড়-দুই বছরে হাজার হাজার হরিণ নিধন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশের খাদ্য, পানি ও কৃষি নিরাপত্তা একই সূত্রে গাঁথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিবিদরা যতদিন নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখায় বা ঐকমত্যে না পৌঁছাবেন, ততদিন এই পরিস্থিতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়।
আপনি কি এই সংবাদটিকে ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের (যেমন: ফেসবুক বা এক্স) জন্য একটি আকর্ষণীয় ক্যাপশন বা পোস্ট তৈরি করতে চান?