সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ, তবে নেই যানজট

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঘরে ফেরার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কেও যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করলেও এখন পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও কোনো বড় যানজটের সৃষ্টি হয়নি।

রোববার দুপুরে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস এলাকা সরেজমিনে ঘুরে যানবাহনের এই বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে।

যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণ

ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিনই বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের সংখ্যা। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে উত্তরবঙ্গের মানুষ দলে দলে বাড়ি ফিরছেন। এর সঙ্গে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে এই চাপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত যমুনা সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ঈদের সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে চরম ব্যস্ত হয়ে ওঠে। যমুনা সেতু সংযোগ মহাসড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২৩টি জেলার যানবাহন চলাচল করায় এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে চাপ অনেক বেশি থাকে।

যমুনা সেতুতে টোল আদায়ের চিত্র

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে পারাপার হওয়া যানবাহনের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল।

গত ২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান:

  • মোট যানবাহন পারাপার: ৩২,৬৪৯টি।

  • উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন: ১৬,৭৫৩টি (টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা)।

  • ঢাকাগামী যানবাহন: ১৫,৮৯৬টি (টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা)।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদকে সামনে রেখে গণপরিবহনের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে মোটরসাইকেলের জন্য ৪টি পৃথক বুথসহ মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে।

যানজট নিরসনে পুলিশের প্রস্তুতি ও পদক্ষেপ

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে, ঘরমুখো যাত্রী এবং কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে যানজট এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তায় বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:

  • পুলিশ মোতায়েন: জেলার গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে প্রায় ৮০০ পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

  • যানবাহন নিয়ন্ত্রণ: দুর্ঘটনা এড়াতে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধ এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহন ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

  • জরুরি ব্যবস্থা: যানবাহন বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে ৭টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আশা প্রকাশ করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত উদ্যোগে এবারের ঈদযাত্রায় মহাসড়কে কোনো বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হবে না।


এ জাতীয় আরো খবর...