পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা সাত দিনের ছুটি আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার (২৪ মে) ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ এই ছুটির সুযোগ পাওয়ায় এরই মধ্যে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন বিপুলসংখ্যক ঘরমুখো মানুষ।
গতকাল রোববার ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক উপস্থিতি ও অফিস কার্যক্রম লক্ষ্য করা গেছে। তবে শেষ দিন হওয়ায় সর্বত্রই উৎসবের আমেজ ছিল স্পষ্ট। সচিবালয়ের গাড়ি রাখার স্থানগুলো পূর্ণ ছিল এবং দর্শনার্থী অভ্যর্থনা কক্ষেও মানুষের ভিড় দেখা যায়। অনেকেই অফিসে হাজিরা দিয়ে দ্রুত বাস, ট্রেন বা লঞ্চ টার্মিনালের দিকে ছুটেছেন। অফিস শেষে সহকর্মীরা একে অপরের সঙ্গে আগাম ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন এবং এর মাঝেই লিফটচালকদের বকশিশ সংগ্রহের চিরচেনা দৃশ্যও চোখে পড়েছে।
আগামী ২৮ মে দেশে উদযাপিত হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই উপলক্ষে আজ ২৫ মে থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত টানা ৭ দিন ছুটি কাটাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আগামী ১ জুন থেকে পুনরায় সরকারি অফিসগুলো খুলবে। সরকারের ছুটির তালিকা অনুযায়ী মূলত ২৮ মে সাধারণ ছুটি। এর আগে-পরে (২৬-২৭ মে এবং ২৯-৩১ মে) নির্বাহী আদেশে ছুটি ছিল। পরবর্তীতে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে ২৫ মে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এই সমন্বয়ের কারণে গত শনিবার (২৩ মে) সাপ্তাহিক ছুটির দিনটিতেও সরকারি চাকরিজীবীদের অফিস করতে হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দীর্ঘ এই ছুটির মধ্যেও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে জরুরি পরিষেবাগুলো চালু থাকবে। বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন, ইন্টারনেট ও জরুরি ডাকসেবা এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক-কর্মচারী এবং ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী বহনকারী যানবাহনও নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। অন্যদিকে, ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, আদালতের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট এবং বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ছুটির বিষয়ে ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬’ অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।