দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আগামী এক বছরের রূপরেখা নির্ধারণে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) নির্বাহী কমিটির সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক মন্ত্রী হওয়ার পর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার বাফুফে কর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসলেন। বাফুফে ভবনে নয়, এবারের বিশেষ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে, যেখানে চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের জুলাই পর্যন্ত বাফুফের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন খেলার সম্ভাব্য মেগা সূচি ও ভেন্যু প্রতিমন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়।
বাফুফের পেশকৃত আগামী এক বছরের ক্যালেন্ডারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ব্যস্ততা থাকবে সবচেয়ে বেশি, যেখানে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৪৭টি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার রূপরেখা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ খ্যাত ‘সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ’। বাফুফে এই টুর্নামেন্টের স্বাগতিক ভেন্যু হিসেবে ঢাকা, সিলেট এবং চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে তালিকায় রেখেছে। যদিও সাফ টুর্নামেন্টটি সেপ্টেম্বর থেকে পিছিয়ে নভেম্বরে নেওয়ার আলোচনা চলছে, তবে বাফুফে তাদের বর্ষপঞ্জিতে আপাতত সেপ্টেম্বরের সূচিই বহাল রেখেছে। এছাড়া এএফসি ও সাফের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বাংলাদেশ যেমন দেশের বাইরে যাবে, তেমনই বেশ কিছু আন্তর্জাতিক আসরে ঘরের মাঠে স্বাগতিক হওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে ফেডারেশনের। একই সাথে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের যৌথ বাছাইপর্ব যা ২০২৭ সালের মার্চ থেকে শুরু হবে, তা নিয়েও আজকের বিশেষ সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
ফিফা ও এএফসি’র নিজস্ব টুর্নামেন্টের ঠাসা সূচির কারণে বাফুফে সাধারণত নিজেদের একক উদ্যোগে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে না। তবে আগামী বছরের বর্ষপঞ্জিতে একটি বড় চমক রেখেছে ফেডারেশন; তারা শহীদ জিয়ার নামে একটি জমকালো ‘আন্তর্জাতিক গোল্ডকাপ’ ফুটবল টুর্নামেন্ট করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এই মেগা টুর্নামেন্টের ভেন্যু এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি বাফুফে।
আন্তর্জাতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি দেশের ফুটবলকে চাঙ্গা রাখতে ঘরোয়া ফুটবলেও ব্যাপক পরিবর্তনের আভাস দেওয়া হয়েছে। বাফুফে তাদের বর্ষপঞ্জিতে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে মোট ২৩টি টুর্নামেন্ট বা ইভেন্ট তালিকাভুক্ত করেছে। এর মধ্যে ঘরোয়া ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসর ‘সুপার কাপ’ আগামী বছরের ৮ থেকে ২২ জানুয়ারির মধ্যে আয়োজন করতে চায় বাফুফে। নিয়মিত আয়োজন হিসেবে চ্যালেঞ্জ কাপ, ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপের পাশাপাশি জেলা ফুটবল এবং পাইওনিয়ারের মতো তৃণমূলের খেলাগুলোকেও সূচিতে রাখা হয়েছে। তবে মাঠ ও সময়ের জটিলতার কারণে স্কুল ফুটবল, বিচ সকার এবং বিভাগীয় মহিলা ক্লাব ফুটবল লিগের ভেন্যু ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফুটবলের এই বিশাল মহাযজ্ঞের সফল বাস্তবায়নে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাঠ সংকট। দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার কমলাপুর স্টেডিয়াম বাফুফের অধীনে পুরোপুরি বুঝিয়ে দেওয়ার আলোচনা চললেও, এখনো জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বাফুফের মধ্যে কোনো সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়নি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বাফুফেকে তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং মন্ত্রণালয়কে নিয়মিত অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে পারস্পরিক সমন্বয়ে কাজ করা সহজ হয়। একই সাথে তিনি ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন এবং তৃণমূলের খেলাগুলোকে আরও বেশি প্রচারের আলোয় আনতে মিডিয়া কাভারেজ বাড়ানোর ব্যাপারে বাফুফের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।