বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন

তারল্য সংকট ও রাজনৈতিক উত্তেজনায় বিপাকে ইসলামী ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৫ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বৃহৎ এবং বেসরকারি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক পিএলসি বর্তমানে এক নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংকটির প্রশাসনিক পরিবর্তন, বিশেষ করে চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা এখন আর কেবল অর্থনৈতিক গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই; এটি দেশের রাজনৈতিক আলোচনারও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির আমানতকারীদের ওপর, যার ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন এবং তীব্র তারল্য সংকটের খবর সামনে আসছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলেও উদ্বেগ কাটছে না সংশ্লিষ্টদের। এই সংকট সমাধান তো দূরের কথা, উল্টো জাতীয় সংসদে এটি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং রাজনৈতিক ইন্ধনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে, যা আর্থিক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে গভীর সংশয় তৈরি করেছে।

আমানতকারীদের উদ্বেগ ও অর্থ উত্তোলনের হিড়িক

ইসলামী ব্যাংকে চলমান অস্থিরতার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে এর সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীদের ওপর। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা ও মালিকানা নিয়ে নানামুখী টানাটানির খবরে আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলশ্রুতিতে, অনেক গ্রাহক ব্যাংকটি থেকে নিজেদের গচ্ছিত অর্থ তুলে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথম মাত্র চার কার্যদিবসে ব্যাংকটি থেকে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

যদিও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকাশিত খবরের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি, তবে ব্যাংকটিতে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে কর্মরত একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে ব্যাংক থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অভিজ্ঞ এই ব্যাংক কর্মকর্তা তাঁর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “আমি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে এই ব্যাংকে নিষ্ঠার সাথে কাজ করছি, কিন্তু এত কম সময়ের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ টাকা গ্রাহকদের তুলে নেওয়ার ঘটনা আমি কখনও দেখিনি। গত কয়েকদিন ধরে আমরা গ্রাহকদেরকে প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে শুধু টাকাই দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু নতুন আমানত প্রায় আসছে না বললেই চলে।”

তারল্য সংকট ও জরুরি সহায়তার আবেদন

বিপুল পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্যাংকটির দৈনন্দিন নগদ টাকার প্রবাহে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ইসলামী ব্যাংক বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়তে পারে। বাস্তব পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, নগদ টাকার তীব্র সংকটের কারণে ব্যাংকটির অনেক এটিএম (ATM) বুথ ইতোমধ্যে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের একাধিক গ্রাহকের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, তাঁরা বুথে গিয়ে টাকা তুলতে না পারার ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বিবিসির কাছে আরও দাবি করেছেন যে, চলমান তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে জরুরি ভিত্তিতে দশ হাজার কোটি টাকার সহায়তা চেয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সহায়তা আসলে পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে ব্যাংকটির ভেতরে এখনও গভীর অনিশ্চয়তা রয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, ইসলামী ব্যাংকের মতো এত বড় প্রতিষ্ঠানের এই ভয়াবহ তারল্য সংকট এবং জরুরি সহায়তার আবেদনের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি কথা বলতে বা আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় সংসদে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

ইসলামী ব্যাংকের এই সংকটজনক পরিস্থিতি এবার জাতীয় সংসদের ফ্লোরেও গড়িয়েছে, যেখানে বিষয়টি নিয়ে সরকার এবং প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মাঠপর্যায়ে চলা অস্থিরতার পর, মঙ্গলবার সংসদে ব্যাংকটির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান সংসদের ৬৮ বিধি অনুযায়ী একটি নোটিশ দেন। এই নোটিশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ‘অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধের’ দাবি জানানো হয়। মি. রহমান অভিযোগ করেন, অতীতে জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল, অবিলম্বে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দিতে হবে।

এই নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসলামী ব্যাংকের অতীত অনিয়ম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নানা খতিয়ান সংসদে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্টের আগে এবং পরে ব্যাংকটিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকার এলসির বিপরীতে লোন দেওয়া হয়েছে, অথচ পরে এই মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে, সেই টাকা কোনো এক রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামী ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আরডিএস’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ই অগাস্টের পর নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, একবার আজান দিয়ে, তকবিরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা ব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার যাতনা থেকে এই অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ব্যাংকটি দখল করার পর নিয়মবহির্ভূতভাবে নয় হাজার জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং ১৩ হাজার কর্মীকে ক্যাটাগরি বহির্ভূতভাবে তিনটি করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে—যাদের সবাই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মতাবলম্বী। তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে এই অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন, “তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যে-সব অভিযোগ আনলেন কোনো একটা দলের দিকে ইঙ্গিত করে, একবারে নাম বলে দিলেই পারতেন যে জামায়াতে ইসলামী। মাঝে মাঝে নেকাব খুলে দেওয়া ভালো, তো এটাও বলে দিতেন, নেকাব রাখলেন কেন উনি।” অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেডেল দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান চাকরিচ্যুত কর্মীদের বিষয়ে দাবি করেন, অতীতে কোনো নিয়মনীতি না মেনে দশ হাজার কর্মীকে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে তাদেরকে আবার পরীক্ষায় আসার কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তারা আসেননি বলেই চাকরি হারিয়েছেন।

এই ইস্যুতে সংসদে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তিনি বলেন, “শুধুমাত্র একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে গ্রাহকরা হুড়হুড় করে টাকা তুলে নিয়ে চলে যায়, এমন নজির বিশ্বে কোথাও নেই।” তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামী ব্যাংককে ব্যর্থ করানোর অপচেষ্টা হচ্ছে। পয়েন্ট অব অর্ডারে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, তবে সংসদের নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর সেই দাবি গ্রহণ করেননি।

ইসলামী ব্যাংকের ক্ষমতার দখল-পুনর্দখলের রাজনীতি

ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনীতি এবং ক্ষমতার লড়াই নতুন কিছু নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময় ব্যাংকটি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব ও দখলের কবলে পড়েছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। একসময় জামায়াতে ইসলামীর আদর্শিক এবং অর্থনৈতিক ভিত্তি হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিতর্কিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের দখলে চলে যায়। ২০১৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এস আলম গ্রুপ বেনামে এবং নানা কৌশলে ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে এবং এই সময়ে ব্যাংকটিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাও করেছে দুদক।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কয়েক হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আবারও ব্যাংকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থকরা এবং নিজেদের মতো করে পর্ষদ সাজিয়েছিল। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার বিএনপি সরকার নিজের অনুগত ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের দিয়ে ব্যাংকটি নতুন করে সাজাতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত বেসরকারি খাতের এই ব্যাংকটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে ক্ষমতার এই নগ্ন দখল এবং পাল্টা দখলের লড়াই থেকেই। অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি সরকার এবার ব্যাংকটিকে নিজেদের মতো সাজাতে চাইছে এবং এ কারণেই ব্যাংকটির দায়িত্বশীল পদগুলোতে আবারও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। গত মাসের ২৪ তারিখে তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর রাতারাতি বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়, যদিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আগে থেকেই দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন।

আন্দোলনের পেছনের রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

গত ২৪শে মে আগের চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ঈদের ছুটি শেষে সোমবার নতুন চেয়ারম্যানের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর ব্যানারে একটি পক্ষ নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নামে। ঢাকার মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে, যার নিন্দা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আন্দোলনকারীরা বলছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যাংকটি আবারও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে—এই শঙ্কা থেকেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। লক্ষণীয় যে, ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চাপের মুখে মি. খুরশীদ আলম ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

সম্প্রতি সংসদে এই আন্দোলন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান আন্দোলনের পেছনে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ইন্ধন রয়েছে। অর্থমন্ত্রীও বলেছেন, এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য চেয়ারম্যানের পতন নয়, বরং রাজনৈতিক। এদিকে, সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংক খাতের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি। তবে অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক খাত সংস্কারের মূল কাজ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র একটি ব্যাংক নিয়ে এই ধরনের চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা কোনো ভালো উদাহরণ নয়। এটি বিনিয়োগকারী এবং আমানতকারীদের মনে পুরো ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থা কমিয়ে দেবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা


এ জাতীয় আরো খবর...