সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেফতার হওয়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আরও বড় আইনি চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তিনটি সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করা হয়েছে, যা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ট্রাইব্যুনালের সেমিনার কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশে ফিরিয়ে আনার পরপরই ট্রাইব্যুনালে চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলার অগ্রগতি তুলে ধরে বলেন, “আমাদের এখানে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বেশ কয়েকটি গুরুতর মামলার বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালের বহুল আলোচিত ‘শাপলা চত্বর গণহত্যা’ মামলার তদন্ত এখন প্রায় শেষের দিকে। এছাড়া কক্সবাজারের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে বন্দুকযুদ্ধের নামে নৃশংসভাবে ‘ক্রসফায়ার’ বা হত্যার ঘটনায় বেনজীরের বিরুদ্ধে আমরা ইতিমধ্যেই ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত করেছি। খুব শিগগিরই এটি ট্রাইব্যুনালে সাবমিট করা হবে।”
প্রসিকিউশন সূত্র জানিয়েছে, পুলিশ প্রধান ও র্যাবের শীর্ষ পদে থাকাকালীন বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসংখ্য মানুষকে জোরপূর্বক গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় প্রায় ছয় থেকে সাতটি অত্যন্ত সংবেদনশীল মামলার তদন্ত চলছে। অসংখ্য গুমের অপরাধের সঙ্গে তাঁর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের এই মানবতাবিরোধী অপরাধের বাইরেও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) বিভিন্ন সংস্থায় তাঁর বিরুদ্ধে ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বা শত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অসংখ্য মামলা ও অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
বেনজীর আহমেদকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে। আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনাল থেকে জারি হওয়া ৩টি গ্রেফতারি পরোয়ানার অনুলিপি বৈশ্বিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সদরদপ্তরে পাঠানো হবে, যাতে দুবাই পুলিশ আইনি হেফাজত আরও জোরদার করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, “কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রত্যর্পণের এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে আমাদের জানামতে সাধারণত এক মাস সময় লাগে। আশা করছি, এই নির্ধারিত এক মাসের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তিনি দেশে ফেরত আসা সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালের চলমান প্রতিটি মামলায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়ে সশরীরে আদালতে হাজির করা হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।”