‘চল্লিশ পেরোলে বদলে যায় আয়না
চেনা চেনা লাগে, কিন্তু চেনা যায় না।’
আপনার বয়স যদি ৪০-এর ওপারে হয়, তবে উপরের কবিতাটি আপনার জন্য। কারণ আপনার আয়না বদলে গেছে। শুরু হয়েছে মধ্যবয়স।
৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সটাই নারীর মধ্যবয়স। কারও কারও মতে তা ৩৫ থেকে ৫৫ বছর। (National Library of Medicine and Cadabams Hospitals)
এ সময় শুরু হয় অনেক মানসিক সমস্যা। আজ এ সমস্যাগুলোই ভিন্ন ভাবনায় দেখব।
এ সময় অনেক মহিলার মধ্যে একটি ভাবনা তীব্র বিষণ্ণতা আনে—তা হচ্ছে, ‘আমার তো নিজস্ব পরিচয় গড়ে উঠল না। নিজের কিছুই করা হলো না। আমি আসলে কে?’
আপনি একজন স্ত্রী। জন্মের পর একটি শিশুকে মা বড় করেন—একইভাবে একজন স্ত্রী একজন পুরুষকে পূর্ণতা পেতে সহায়তা করেন। আপনার স্বামীর পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তৈরি হচ্ছে আপনার ত্যাগের বিনিময়ে। তাহলে আপনার পরিচয় নেই—কে বলল? বরং আপনি একটি পরিচয় সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছেন।
আপনি একজন মা। এগারোজনের একটি দল বিশ্বকাপ ফুটবল জিততে পারে, একদল সৈন্য নিয়ে একজন সেনাপতি যুদ্ধজয় করতে পারেন, কিন্তু তারা সন্তান জন্ম দিতে পারেন না। এই একক যুদ্ধের বিজয়ী সেনাপতি আপনি। এর চাইতে বড় পরিচয় আর কী হতে পারে?
এর বাইরেও আরও কতজনের জীবনে আপনার ছাপ রয়ে গেছে—আপনি কি কখনো ভেবেছেন? তাহলে আপনি পরিচয় সংকটে ভুগবেন কেন?
আপনি ভাবছেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সৌন্দর্যহানি হচ্ছে। তাই আপনার মন খারাপ।
একটু অন্যভাবে ভাবুন—এতদিন আপনি গোলাপের কলি ছিলেন, এখন হয়েছেন পূর্ণাঙ্গ গোলাপ।
কলির চেয়ে কি গোলাপ কম সুন্দর?
আপনি সৌন্দর্য হারাননি। আপনার সৌন্দর্য নজরকাড়া থেকে মায়াবতী রূপ লাভ করেছে। আমার মতে, পরেরটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
একলা লাগছে?
স্বামী ব্যস্ত, সন্তানরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ব্যস্ত। তাই বাসা খালি খালি লাগছে?
শুধু আপনি নন—পৃথিবীর লাখ লাখ মধ্যবয়সী নারীর এমন অনুভূতি হচ্ছে। এটাকে বলে—Empty Nest Syndrome।
একটু অন্যভাবে ভাবুন তো—আপনি সবসময় চেয়েছেন, ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করুক, বড় হোক। সেজন্যই তো একদিন আপনিই তাদের প্রথম শিখিয়েছিলেন—অ-তে অজগর, আ তে আনারস। কেন শিখিয়েছিলেন? কারণ আপনি চেয়েছিলেন আপনার সন্তান জ্ঞানেগুণে বড় হোক।
তারা তো আপনার স্বপ্নই পূরণেই ব্যস্ত, তাই না? জ্ঞানে সেরা হওয়ার লড়াই তাদের কিছুটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। এ লড়াইটা তারা না করলে আপনি খুশি হতেন?
আপনার স্বামীর ব্যাপারটি দেখুন—তিনি সন্তান ও সংসার নিয়ে আপনার যে স্বপ্ন তা বাস্তবায়ন করার জন্য ব্যস্ত। যার জন্য হয়তো তিনি সময় দিতে পারছেন না।
এভাবে ভাবলে অতো খারাপ লাগবে না।
৪) দায়িত্বের চাপে হাঁসফাঁস
খুব ক্লান্তি ভর করেছে? এত দায়িত্ব পালন করতে করতে আপনি বিষণ্ণ?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয়—Sandwich Generation Stress।
অর্থাৎ দায়িত্বের চাপে আপনি স্যান্ডউইচ হয়ে যাচ্ছেন।
যদি ভাবেন—এ দায়িত্ব শুধু নিজের জন্য নয়, আপনার স্বামী-সন্তানের জন্য—তাহলে খারাপ লাগবে না। কারণ এরাই তো আপনার জগত। আপনি সবসময় চান এদের ভালো হোক। সেই চাওয়া পূরণের জন্যই দায়িত্বগুলো আপনার কাঁধে এসেছে।
প্রিয় মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে চেয়েও অনেকে পারেন না। তাই এ দায়িত্বও এক ধরনের সৌভাগ্য।
৫) শারীরিক পরিবর্তনজনিত আক্ষেপ
আপনার শরীরে হরমোনাল পরিবর্তন হচ্ছে। তাই মুড সুইং, হতাশা, খিটখিটে ভাব—এগুলো এখন খুব স্বাভাবিক।
ঘাবড়াবেন না—শরীরের এই পরিবর্তন নারীর পূর্ণতা লাভের একটি ধাপ। এ বয়সের অনিবার্য পরিণতি। এটি না ঘটা বরং অসুস্থতার লক্ষণ।
এগুলো হচ্ছে মানে আপনি ঠিক আছেন, ভালো আছেন। না ঘটলে আপনাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হতো।
আপনি বুড়িয়ে যাননি—ঝিনুকের বুকে মুক্তায় পরিণত হয়েছেন।
আপনার জন্য অনেক শুভকামনা ও শ্রদ্ধা।
– আসুন মায়া বাড়াই
এ জাতীয় আরো খবর...