বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ন

কিশোরীদের জন্য ফাঁদ: ১০টি লাল পতাকা

বাদল সৈয়দ / ৪ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

ইদানীং কিছু খুব উদ্বেগজনক খবর পাই। তা হলো, কিশোরীরা বয়স্ক লোকের ফাঁদে পড়ছে। এরচেয়ে সর্বনাশা ব্যাপার আর হতে পারে না। তাই আমি কিশোরী এবং তাদের মা-বাবাদের সাবধান হওয়ার জন্য কিছু বার্তা দিতে চাই। কিছু লক্ষণ সম্পর্কে বলতে চাই যা ফাঁদের ইঙ্গিত করে।

১ ) লাল পতাকা-০১

যারা ফাঁদ পাতে তারা মা-বাবা সম্পর্কে কিশোরীদের বিষিয়ে তোলে। স্বাভাবিকভাবেই মা-বাবা বিভিন্ন কারণে তাদের শাসন করেন। তাই মেয়ের মনে তাঁদের প্রতি এমনিতেই কিছুটা ক্ষোভ থাকে। দুষ্ট লোকেরা এ সুযোগই নেয়। তারা মা-বাবার বিরুদ্ধে বলে মেয়েদের মন জয় করে।তারপর তাদের দূরে সরিয়ে ফেলে।

২) লাল পতাকা-০২

তারা কিশোরীদের তাদের ভালো বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকেও দূরে সরিয়ে ফেলে। যদি দেখেন সে তার ভালো বন্ধুদের সাথে তেমন মিশছে না। কিংবা যেসব শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে সে মন খুলে সব বলত তাদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তবে সাবধান হন।

মনে রাখবেন, শিকারির লক্ষ্য হচ্ছে আপনার মেয়ের সাপোর্ট সিস্টেম নষ্ট করে ফেলা- যাতে সে কারো পরামর্শ নিতে না পারে। তাহলে তাকে ফাঁদে ফেলা সহজ হয়।

৩) লাল পতাকা-০৩

যারা ফাঁদ পাতে তারা কিশোরীদের বাবা-মায়ের শাসনের বাউন্ডারি না মানার জন্য উৎসাহ দেয়। যাতে সহজেই তাকে কাবু করা যায়। যেমন- সে বলে, ‘তুমি এ যুগের মেয়ে, এসব পুরোনো নিয়ম তুমি মানবে কেন? স্মার্ট মেয়েরা এসব মানে না।‘

অনেক মেয়ে এসব কথায় প্ররোচিত হয় এবং বিদ্রোহ করে। যদি দেখেন হঠাৎ করে মেয়ে শাসন মানছে না- তবে ব্যাপারটা গুরুত্বের সাথে নিন। এর পেছনে খুব বিপজ্জনক কারণ থাকতে পারে।

৪ ) লাল পতাকা-০৪

এরা কিশোরীদের কিছু দুর্বলতা কৌশলে জেনে নেয়। তারপর ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে। তাই মেয়েকে বলুন যাকে-তাকে দুর্বলতার কথা না বলতে।

৫) লাল পতাকা-০৫

দুষ্ট লোকেরা কিশোরী মেয়েদের দামি উপহার দেয়। এটি ফাঁদের অন্যতম টোপ। তাই মেয়ের কাছে দামি কোনো কিছু দেখলে তা কে দিয়েছে অবশ্যই জানুন। খোঁজ নিন হঠাৎ করে দাতা হাতেম তাই কোত্থেকে উদয় হলো?

৬ ) লাল পতাকা-০৬

যদি দেখেন মেয়ে তার নিয়মিত পোশাকের ধরন ছেড়ে অন্য ধরনের পোশাক পরছে, তার সাজগোজের পরিবর্তন হচ্ছে, তবে এর কারণ অনুসন্ধান করুন। বদমাশরা এসব ব্যাপারে প্রভাব খাটিয়ে আস্তে আস্তে কিশোরীদের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

(এ বয়সে মেয়েরা একটু সাজবে, পোশাকে পরিবর্তন চাইবে এটা স্বাভাবিক- কিন্তু কারো দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এগুলো করা ভালো লক্ষণ নয়)

৭ ) লাল পতাকা-০৭

হঠাৎ করে কি মেয়ে ম্যাচিউর সাজার চেষ্টা করছে? ভাষা, রুচি বা অভ্যাসে ‘বড়দের’ ভাব দেখাচ্ছে? এ ধরনের আচরণ বয়স্ক কোনো লোকের সাথে তাল মেলানোর চেষ্টা হতে পারে- যার সাথে তার বন্ধুত্ব হয়েছে।

৮ ) লাল পতাকা-০৮

দুষ্ট লোকেরা মেয়ের আত্মবিশ্বাস ভেঙেচুরে তাকে হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। তার প্রথম লক্ষ্য থাকে মেয়েটিকে এই ধারণা দেওয়া যে- সে তাকে পছন্দ করেছে এটাই তার ভাগ্য। বিভিন্ন কৌশলে এ বার্তা দিয়ে সে মেয়েটির আত্মবিশ্বাস শূন্যের কোটায় নিয়ে আসে- যাতে তাকে হাতের পুতুল বানানো যায়। তাই ওর মধ্যে যদি হঠাৎ আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখেন, হতাশা দেখেন তাহলে গভীরে যান। দেখুন এর পেছনে কোনো দুষ্ট লোকের হাত আছে কিনা।

৯ ) লাল পতাকা-০৯

মেয়েকে ফাঁদে ফেলা বয়স্ক পুরুষটি পরিচিত কেউ হতে পারে। সেক্ষেত্রে সে তার চেয়ে অনেক বেশি বয়স্ক কারো ব্যাপারে অস্বাভাবিকভাবে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে কি না খেয়াল রাখা দরকার।

১০ ) লাল পতাকা-১০

মেয়ে যদি কারো ফোন বা মেসেজ পেয়ে ভয় পায়, অস্থির হয়ে ওঠে তবে সতর্ক হন। হতে পারে সে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল বা অন্য কোনো চাপের মধ্যে আছে। ফাঁদে ফেলে এ ধরনের ভীতি তৈরি করা দুষ্ট লোকের কমন অভ্যাস।

সত্যি বলতে কি- বাসায় কিশোরী মেয়ে থাকা মানে আগ্নেয়গিরির উপর বসে থাকা। আমি নিজেই এ অভিজ্ঞতা পার করেছি। সব সময় মনে হতো- মেয়ে কোনো ভুল করছে না তো?

এর সবচেয়ে ভালো সমাধান বের করেছিল আমার স্ত্রী। সে আমার মেয়ের বেস্ট ফ্রেন্ড। তারা সারাদিন বাকবাকুম করে।

মায়ের সাথে বন্ধুত্ব মেয়ের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ।

একটি অতি জরুরি কথা বলে শেষ করি- তা হলো, উপরের লক্ষণ মানেই যে মেয়ে ফাঁদে পড়েছে তা নয়। এর নির্দোষ কারণও থাকতে পারে। তাই এ রকম কিছু দেখলেই অস্থির হবেন না- রাগে ফেটে পড়বেন না- ব্যাপারটি দশ কান করবেন না। কোনো লক্ষণ দেখলে ঠান্ডা মাথায় কারণ খুঁজুন।

আমি ‘সাবধানের মার নেই’- এই চিন্তা করে সতর্ক করলাম মাত্র।

-আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...