শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫২ পূর্বাহ্ন

একটি অদৃশ্য সত্য

বাদল সৈয়দ / ৫ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

একটি অদৃশ্য সত্য
বাদল সৈয়দ
আমার স্ত্রী সেদিন বলল, – ‘তোমরা ছেলেরা বউয়ের রান্নার সাথে প্রায়ই মায়ের রান্নার তুলনা করো। বলো, মায়ের রান্নার মতো হয়নি। আসলে ব্যাপারটা কি জানো?
আমি বিস্মিত হয়ে বললাম – না, এটা নিয়ে তো ভাবিনি!’
‘ব্যাপারটা হচ্ছে, তোমরা ছোটবেলা থেকে মায়ের রান্না খেয়ে বড় হয়েছ। তোমাদের টেস্টবাড তাঁর রান্নার সাথে অ্যাডজাস্ট হয়ে গেছে। তাই তা সবসময় মায়ের রান্না খোঁজে। বউয়ের রান্নার সাথে টেস্টবাডের অ্যাডজাস্ট হতে সময় লাগে, তাই তার রান্না তত ভালো লাগে না।’
আমি বললাম- ‘ তাই নাকি?’
সে হেসে বলল- হ্যাঁ, তাই। এটা টেস্টবাডের অ্যাডজাস্টমেন্ট সমস্যা মাত্র। আমাদের ছেলে থাকলে সেও তার বউকে বলত- মায়ের রান্নার মতো হয়নি। কারণ তার টেস্টবাড তৈরি হতো আমার রান্না খেয়ে। এবার কি বুঝতে পেরেছ?’
আমি উত্তর না দিয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলাম।
সে হেসে বলল- এ কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে বলা হচ্ছে। আমাদের বাবারা মায়েদের বলেছেন, তাদের ছেলেরা স্ত্রীকে বলেছেন, আবার তাদের ছেলেরা তাদের বউকে বলবে। এভাবে দাদা থেকে নাতি, সবার একই অনুযোগ যুগের পর যুগে চলতেই থাকবে। টেস্টবাডের অ্যাডজাস্টমেন্টের ব্যাপারটা কেউ ভাববে না।’
আমি কিছু একটা বলতে চাইলাম।
সে আমাকে থামিয়ে দিয়ে বলল-‘আমার কথার সত্যতার প্রমাণ তোমাকে নগদে দিয়ে দেই। বিয়ের প্রথম দিকে আমার রান্না তোমার তেমন ভালো লাগত না। এখন কিন্তু ভালো লাগে। খাওয়ার আগ্রহ দেখেই সেটা বোঝা যায়। এর কারণ হচ্ছে, তোমার জিভ আর আমার রান্নার মধ্যে মিলমিশ হয়ে গেছে। প্রথম প্রথম সেটা হয়নি বলে মজা কম লাগত। তাই বলতে, আম্মার মতো হয়নি।’
আমি চুপ করে রইলাম। তিন যুগ আগে বলা কথার জবাব যে এত অভিনব উপায়ে দেওয়া হবে তা কখনো মাথায় আসেনি।
আমার নিশ্চুপ চেহারার দিকে তাকিয়ে সম্ভবত তার মায়া হলো। তাই বলল- ‘তার মানে এই না যে, মায়ের রান্না খারাপ। আর তোমারও দোষ নেই। মূল কালপ্রিট হচ্ছে জিহবা।’
আমি মৃদু কণ্ঠে বললাম – ‘ আই অ্যাম সরি।’
সে মাথা ঝাঁকিয়ে বলল- বেটার লেট দ্যান নেভার। গরম ডালপুরি বানাব? সাথে ঘন দুধ চা?’
ছবি: বিয়ের প্রথম দিকে। যখন জিহবা আর তার রান্নার মিলমিশ হয়নি।
#আসুন মায়া ছড়াই


এ জাতীয় আরো খবর...