শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৩ পূর্বাহ্ন

শৈশবে বাবা-মায়ের যে ৩ অভ্যাসের ছাপ পড়ে সন্তানের ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬

ছোটরা কেবল মুখের কথা শুনে শেখে না; বরং চোখে দেখে শেখে। আর ছোট থেকে বড় হওয়ার যাত্রায় সব থেকে বেশি তারা দেখতে পায় বাবা-মাকেই। একজন অভিভাবকের প্রতিটি ছোট অভ্যাস—কথা বলার ধরন, রাগ সামলানোর উপায়, অন্যদের সঙ্গে ব্যবহার কিংবা নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ— সবই সন্তানের ব্যক্তিত্ব ও ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

তাই আপনি যদি মনে করেন যে, বারবার বলার পরও আপনার শিশুসন্তানের সুঅভ্যাস তৈরি হচ্ছে না। তবে অবশ্যই খেয়াল করতে হবে বড়দের অভ্যাসের দিকে। নিজের অজান্তেই আপনি এমন কোনো ভুল করছেন না তো? দুরন্ত শিশুটিকে মূল্যবোধে বলীয়ান করে তুলতে কেবল শাসনই যথেষ্ট নয়। তার চেয়েও অনেক বেশি জরুরি— বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণগত ত্রুটির দিকে নজর দেওয়া।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, তিন অভ্যাসের কারণ—

১. পরিবারের সদস্যদের প্রতি আপনার আচরণ কেমন?

হতেই পারে পরিবারের কোনো সদস্যের সঙ্গে আপনার বনিবনার সমস্যা রয়েছে। কিন্তু সে কথা সব ক্ষেত্রে সন্তানকে বুঝতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যক্তিমানুষ হিসেবে, তার জগতটি গড়ে ওঠার কথা নিজস্ব ছন্দে। আপনার পছন্দ-অপছন্দ চাপিয়ে দিলে সে যে কেবল না জেনেই কোনো মানুষকে অপছন্দ করতে শুরু করবে, তাই নয়। সামগ্রিকভাবে পারস্পরিক সম্মান ও মূল্যবোধের কোনো গুরুত্বই থাকবে না তার কাছে। তাই ছোটদের সামনে বড়দের উচিত বিবাদজাতীয় বিষয় যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা।

২. আপনি সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ডুবে থাকেন কিনা?

বড়রা যদি সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকেন, আর ছোটদের ক্ষেত্রে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা চাপান, তবে তা কার্যকর হবে না বলাই বাহুল্য। কারণ খাওয়ার সময় বাড়ির বড়রা সবাই চেষ্টা করে ফোন দূরে রাখার। সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ দিন সেদিকে। প্রতিদিন কিছুটা সময় তুলে রাখুন ফ্যামিলি টাইম হিসেবে। এতে শিশু বাস্তব সম্পর্ককে গুরুত্ব দিতে শেখে এবং তার অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা কমে।

৩. আপনি কি প্রায়শই খরচ করেন?

বাবা-মায়েরা কষ্টার্জিত টাকা নানা শখ পূরণে খরচ করবেন অবশ্যই। তবে সন্তানের কাছে তা কোনো ভুল বার্তা দিচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল করতেই হবে। সন্তান যদি দেখে, তার অভিভাবকরা কথায় কথায় টাকা ওড়াচ্ছে, তবে সে নিজেও অর্থের মূল্য বোঝে না। তার কোনো চাহিদা পূরণে বাবা-মা অসামর্থ্য হলে, সে পরিস্থিতি বোঝার বদলে রেগে ওঠে। তাকে সঞ্চয়ের গুরুত্ব বোঝান। অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করুন। ছোট ছোট আর্থিক সিদ্ধান্তে সন্তানকে যুক্ত করুন।

সুতরাং দুরন্ত শিশুটিকে মূল্যবোধে বলীয়ান করে তুলতে কেবল শাসনই যথেষ্ট নয়। তার চেয়েও অনেক বেশি জরুরি, বাবা-মায়ের নিজেদের আচরণগত ত্রুটির দিকে নজর দেওয়া। বাবা-মা দুই হাত খুলে খরচ করলে সন্তানও তাই শিখবে। সে কারণে সন্তানকে সৎভাবে চলার পরামর্শ দিন। কারণ অভ্যাসের ছোটখাটো বদলই বৃহত্তর ক্ষেত্রে সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।


এ জাতীয় আরো খবর...