শিরোনামঃ
বার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তা রেলযাত্রায় আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন, মেগা সেতুসহ মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শুভেন্দুর পুশব্যাক বেআইনি: এইচআরডব্লিউ চালের বাজারে কোনো ঊর্ধ্বগতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের অর্থ পাচার হতে দেওয়া হবে না, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ ও সাইবার সুরক্ষার তাগিদ প্রভার এআই মামলার লিংকে চাপ দিতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ! ১৫ কোটি রুপি ও প্রাইভেট জেটে এমপি ‘বিক্রি’ হচ্ছে ভারতে: সঞ্জয় রাউত
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন

এনআরবিসি ব্যাংকে নজিরবিহীন জালিয়াতি, আইটি সিস্টেম থেকে মুছে ফেলা হলো ১১ লাখ তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এক চরম ও নজিরবিহীন তথ্য জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচন হয়েছে। বেসরকারি খাতের এনআরবিসি (নন-রেসিডেনসিয়াল বাংলাদেশি কমার্শিয়াল) ব্যাংক তাদের হাজার কোটি টাকার ভয়াবহ লুটপাট, জালিয়াতি এবং অনিয়ম ধামাচাপা দিতে আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) সিস্টেম থেকে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চিরতরে মুছে ফেলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক নিযুক্ত একটি বিশেষ ফরেনসিক অডিট রিপোর্টে এই ভয়ঙ্কর জালিয়াতির রোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে।

তদন্তকারীদের দাবি, খেলাপি ঋণের প্রকৃত কঙ্কালসার রূপ আড়াল করা, হাজার কোটি টাকার নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি লুকানো, পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বেনামি ঋণ এবং শেয়ারবাজারে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ ধ্বংস করতেই এই বিপুল তথ্য ডিলিট করা হয়েছে। এই জঘন্যতম অপরাধের ঘটনাগুলো ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হওয়ার পরও ব্যাংকটিতে অনিয়ম ও তথ্য প্রমাণের বিলোপ সাধন সমানে অব্যাহত ছিল। এই নজিরবিহীন জালিয়াতির সঙ্গে ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল, নির্বাহী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান আদনান ইমাম এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দেওয়ান মুজিবুর রহমানসহ পরিচালনা পর্ষদের একাধিক শীর্ষ কর্তার সরাসরি সম্পৃক্ততা পেয়েছে ফরেনসিক অডিট কমিটি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার চোখের সামনেই ‘ব্যাংক ডাকাতি’

ফরেনসিক অডিট রিপোর্টটি প্রকাশের পর দেশের অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ‘নজিরবিহীন’ আখ্যা দিয়ে প্রবীণ অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে যা ঘটেছে, তা গোটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। সাধারণ মানুষ নিজেদের কষ্টের উপার্জিত টাকা নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকে আমানত রেখেছিলেন। কিন্তু সরকারের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় দেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ এবং ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ—সবাই মিলেমিশে একযোগে লুটপাট করে গ্রাহকের সেই টাকা খেয়ে ফেলেছে। আমাদের চোখের সামনে এভাবে একের পর এক ব্যাংক ডাকাতি হলো, অথচ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক তখন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। কোনো সভ্য দেশে এমন লুণ্ঠনের ঘটনা কল্পনাও করা যায় না।”

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া এনআরবিসি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অর্থ পাচার, নিয়মবহির্ভূত ঋণ বিতরণ এবং ক্রয়ে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর এই অপরাধী চক্রটি বিপাকে পড়লে তথ্য মুছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। অবশেষে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের আগস্টে এই ব্যাংকের প্রকৃত চিত্র বের করতে বিশেষ ফরেনসিক অডিটর নিয়োগ দেয়, যার চূড়ান্ত রিপোর্ট সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ প্রসঙ্গে জানান, অপরাধের ধরন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘোষিত হারের চেয়ে খেলাপি ঋণ ১০.৫% বেশি

এনআরবিসি ব্যাংক তাদের নিজস্ব নথিতে ২০default৫ সালের জুন প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের হার দেখিয়েছিল মাত্র ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেনসিক অডিটে দেখা গেছে, ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণের হার আসলে ৩৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ! অর্থাৎ, প্রকৃত খেলাপি ঋণ ব্যাংকটির ঘোষিত হারের চেয়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। তদন্তে দেখা গেছে, শত শত ঋণ হিসাব সম্পূর্ণ খেলাপি বা ‘ব্যাড ডেট’ হয়ে যাওয়ার পরও সেগুলোকে আইটি সিস্টেমে জালিয়াতি করে ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বা নিয়মিত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বেশ কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের ঋণ অনুমোদনে ভয়াবহ জালিয়াতির তথ্য মিলেছে। যেমন, আকিজ সিমেন্ট কোম্পানি কোনো সঠিক তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রায় ৪৭০ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে। ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড’ পুনঃতফসিলের প্রধান শর্ত অনুযায়ী ১০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও পরিশোধ করেছে মাত্র ৩ লাখ টাকা, তবুও তাদের ঋণ নিয়মিত রাখা হয়েছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতা না থাকা সত্ত্বেও নতুন ঋণ ও ওভারড্রাফট পেয়েছে ‘ইক্সোরা অ্যাপারেলস লিমিটেড’। ‘ইনসাইড নিট কম্পোজিট’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে খালি লেটারহেডে স্বাক্ষর নিয়ে ভুয়া আবেদনের মাধ্যমে ঋণ পুনঃতফসিল সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ‘স্টাইলিশ গার্মেন্টস’ ১৮টি কিস্তির মধ্যে মাত্র ১টি কিস্তি পরিশোধ করলেও তাদের নিয়মিত দেখানো হয়েছে, যার ফলে এক জায়গাতেই ২৭ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এছাড়া জিপিএইচ ইস্পাত, সায়মা সামিরা টেক্সটাইল মিলস, হাবিব স্টিলস লিমিটেড এবং জেন এয়ার টেকনোলজির ঋণ বিতরণেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি।

প্রভিশন ঘাটতি ২৬০৩ কোটি টাকা এবং ১১ লাখ তথ্য গায়েব

প্রতিবেদনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক অংশ হলো ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন ঘাটতি। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এনআরবিসি ব্যাংকের মোট প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ২ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। ব্যাংকটির ৩ হাজার ৪৮৭টি বড় ঋণ হিসাবের বিপরীতে কোনো ধরনের প্রভিশনই রাখা হয়নি। এছাড়া ৩৯৪টি অ্যাকাউন্টে ভুল ও ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রভিশন নির্ধারণ করা হয়েছে এবং জামানতের মূল্য কৃত্রিমভাবে অতিরঞ্জিত দেখিয়ে আরও ১১৯ কোটি টাকার প্রভিশন কম দেখানো হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের গভীর অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের মে মাসের মধ্যে ব্যাংকের আইটি বিভাগের বিশেষ সুবিধাভোগী ৬ জন ব্যবহারকারী (ইউজার) কোর ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে ১০ লাখ ৭০ হাজারের বেশি গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছেন। এসব তথ্যের মধ্যে ছিল বড় বড় ঋণ, সন্দেহভাজন গ্রাহক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের (ট্রেড ফাইন্যান্স) অত্যন্ত স্পর্শকাতর রেকর্ড। অডিটে বলা হয়েছে, এই বিপুল তথ্য ডিলিট করার পেছনে কোনো অনুমোদিত প্রাতিষ্ঠানিক বা দাপ্তরিক নথি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অর্থ পাচারের অকাট্য তথ্য লুকাতেই এই জালিয়াতি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, সম্পূর্ণ নিয়ম লঙ্ঘন করে বাধ্যতামূলক কেওয়াইসি (গ্রাহককে জানুন) ফর্ম ছাড়াই ১২ হাজার ১৮৭ জন অজ্ঞাত গ্রাহককে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

পরিচালকদের পকেটে ২১৭ কোটি ও শেয়ার কারসাজিতে বড় ক্ষতি

ফরেনসিক অডিটে ব্যাংকের পরিচালকদের নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত জামানত ছাড়াই বিশাল অঙ্কের ঋণ দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজের স্পন্সর পরিচালক মো. শহিদুল আহসানের প্রতিষ্ঠান ‘এজি অ্যাগ্রো ইন্ডিয়া’-র কাছে ১২১ কোটি টাকা এবং ‘এজি শিপ ব্রেকিং ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর কাছে ৯৬ কোটি টাকা ঋণ বকেয়া রয়েছে। এই বিপুল ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাঙ্কিং প্রোটোকল মানা হয়নি। শহিদুল আহসানের সাথে সাবেক এমডি দেওয়ান মুজিবুর রহমানের গভীর পূর্ব সম্পর্কের কারণে এই ‘স্বার্থের সংঘাত’ তৈরি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক চিহ্নিত শেয়ারবাজারের কুখ্যাত কারসাজি চক্রের সাথে মিলে ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এস এম পারভেজ তমাল গ্রাহকের আমানতের টাকা শেয়ারবাজারে ঢেলেছিলেন। ‘ফরচুন সুজ’ নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকের ১৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ক্ষতি হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ‘সোনালী পেপার’-এ ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে অপূরণীয় ক্ষতি ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এই শেয়ার কারসাজি চক্রের সাথে আলোচিত জুয়াড়ি আবুল খায়ের হিরু, তার বাবা আবুল কালাম মাতবর, স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান এবং বোন কনিকা আফরোজের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল।

ভূতুড়ে ঠিকাদার ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি

ব্যাংকের ভেতরের ক্রয় প্রক্রিয়ায় ‘টিএসএন ট্রেড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘ঘোস্ট ভেন্ডর’ বা ভূতুড়ে ঠিকাদার হিসেবে চিহ্নিত করেছে অডিট কমিটি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে এই ভুয়ো প্রতিষ্ঠানটিকে ২৯ কোটি ৭ লাখ টাকার কাজ দেওয়া হয়, অথচ প্রতিষ্ঠানটি নিজে কোনো কাজ না করে অন্য সংস্থাকে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়েছিল। এছাড়া ‘হাই ফার্ম’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কোনো দরপত্র ছাড়াই আসবাবপত্র ও ইন্টেরিয়রের জন্য ৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং রেমিট্যান্স পরামর্শ সেবার নামে আরও ২ কোটি ৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে তৎকালীন ইসি চেয়ারম্যান আদনান ইমামের সংশ্লিষ্টতা ও বিড রিগিংয়ের (দরপত্র কারসাজি) প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ‘ভলগা ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি সংস্থাকে কোনো অনুমোদন ছাড়াই ৫৯ লাখ ৬০ টাকার পে-অর্ডার এবং ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা পরামর্শ ফি দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ও আইসিটি বিভাগেও হরিলুট চলেছে। পরীক্ষা করা ৬৭টি ক্রেডিট কার্ড ফাইলের মধ্যে ৬০টি ফাইলই অসম্পূর্ণ এবং ৬৩টিতে কোনো কেওয়াইসি নেই। মোহাম্মদ কামরুল হাসান নামের একজন কর্মকর্তা একাই ৮৮৯টি ভুয়া ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করেছেন, যার মোট লিমিট ছিল ৭৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বর্তমানে সেখানে বকেয়া পড়ে আছে ১৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আইটি অডিটে ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমে মোট ৮৬টি সাইবার ও ডেটাবেজ নিরাপত্তা ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ৪৯টিই ‘উচ্চ মাত্রার ঝুঁকি’ হিসেবে চিহ্নিত। অডিটররা তাঁদের প্রতিবেদনের শেষাংশে উল্লেখ করেছেন, এনআরবিসি ব্যাংকের এই জালিয়াতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং ঋণ ব্যবস্থাপনা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ক্রয়ের প্রতিটি স্তরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রাতিষ্ঠানিক ডাকাতি চালিয়েছে। এর জবাবে ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া জানান, অডিটে চিহ্নিত অনিয়মগুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।

সূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...