শিরোনামঃ
বার্ধক্য বুড়ো বয়সে নয়- শুরু হয় আজ: সাতটি সতর্কবার্তা রেলযাত্রায় আসছে বৈদ্যুতিক ট্রেন, মেগা সেতুসহ মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর শুভেন্দুর পুশব্যাক বেআইনি: এইচআরডব্লিউ চালের বাজারে কোনো ঊর্ধ্বগতি নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি রয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের অর্থ পাচার হতে দেওয়া হবে না, সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশব্যাপী ক্রিয়েটিভ হাবের পরিকল্পনা সরকারের ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ ও সাইবার সুরক্ষার তাগিদ প্রভার এআই মামলার লিংকে চাপ দিতেই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সাফ! ১৫ কোটি রুপি ও প্রাইভেট জেটে এমপি ‘বিক্রি’ হচ্ছে ভারতে: সঞ্জয় রাউত
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

ভিকটিম ব্লেমিং বন্ধ ও সাইবার সুরক্ষার তাগিদ প্রভার

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬

টানা দেড় দশক—দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্মম ট্রল, কুৎসিত হীনম্মন্যতা এবং সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন ছোট পর্দার অন্যতম জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। দীর্ঘ এই সময়ে তীব্র মানসিক যন্ত্রণা ও সামাজিক নিগ্রহ মুখ বুজে সহ্য করলেও, এবার নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নীরবতা ভেঙে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ফোরক সত্য উগরে দিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রভা সাইবার বুলিংকারীদের কদর্য মানসিকতা, অনলাইন হয়রানির ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজে গভীরভাবে শিকড় গেড়ে বসা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা অপরাধীকে আড়াল করে উল্টো ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার নোংরা প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর চপেটাঘাত করেছেন।

ভিডিওর শুরুতে প্রভা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি এখন কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব। দীর্ঘদিন ধরে আমি এসব ব্যাপার নিয়ে কথা বলি না, ভেবেছিলাম কথা বলেও কোনো লাভ নেই। কিন্তু নিজের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে মনে হলো—কিছু জিনিস চোখ বন্ধ করে সহ্য করা যায় না।”

বুলিংকারীদের মনস্তত্ত্ব: নিজেদের জীবনের হতাশা ও ইনসিকিউরিটি

অনলাইনে যারা প্রতিনিয়ত তারকা বা সাধারণ মানুষকে আক্রমণ করে আনন্দ পায়, তাদের মনস্তাত্ত্বিক রোগটি ধরিয়ে দিয়ে প্রভা বলেন, “আপনারা আপনাদের নিজেদের যোগ্যতা, নিজেদের স্থান, সৌন্দর্য কিংবা কোয়ালিফিকেশন—এই সবকিছুর প্রতি তীব্র ইনসিকিউরিটি বা হীনম্মন্যতায় ভোগার কারণেই অন্য মানুষকে আক্রমণ করেন। এটি আমার মনগড়া কথা নয়, এটি হিউম্যান সাইকোলজি, যা মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা পড়াশোনা করে বের করেছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে তীব্র আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে অন্যকে জাজ করে, বুলি করে, মক করে কিংবা মৌখিকভাবে গালাগাল (Verbally Abuse) করে; তারা আসলে নিজেদের জীবন নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট নয়। এরা মূলত ভেতর থেকে অত্যন্ত দুঃখী ও একাকী। এই তীব্র হীনম্মন্যতার কারণেই এরা বিভিন্ন সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে এসে সেলিব্রেটি, ইনফ্লুয়েন্সার বা আর্টিস্টদের ওপর নিজেদের ক্ষোভ ঝাড়ে।”

ভিকটিম ব্লেমিংয়ের নির্মম বাস্তবতা: অপরাধী যখন অধরা

১৬ বছর ধরে চলা এই অন্যায্য সামাজিক নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রভা বলেন, “আমাকে বুলিং করে আপনারা পৈশাচিক আনন্দ পান, তা আমি পুরোপুরি বুঝতে পারি। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো—ঠিক যতটুকু বিষোদগার আপনারা আমাকে (ভিকটিম) নিয়ে করছেন, তার অন্তত ৫০ শতাংশ যদি আসল অপরাধী বা ক্রিমিনালটার পেছনে করতেন? তাকে খুঁজে বের করে যদি তার চেহারাটা বারবার মানুষের সামনে আনতেন, তাহলে সমাজটা বদলে যেত।”

কনসেন্ট বা সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা ও প্রাইভেসি প্রকাশ করে দেওয়া যে একটি গুরুতর এবং ক্ষমার অযোগ্য সাইবার ক্রাইম, সেটি মনে করিয়ে দিয়ে প্রভা বর্তমান সামাজিক কাঠামোর ভণ্ডামির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যারা আরেকটা মানুষের ক্ষতি করে, তাদের কনসেন্ট ছাড়া প্রাইভেসি ডিসক্লোজ করে, তারা গুরুতর অপরাধী। অথচ সেই মূল অপরাধীকে আপনারা কিছুই বলছেন না, সমাজ তাকে দিব্যি মেনে নিচ্ছে। উল্টো ভিকটিমকে দিন কে দিন বুলিং করে কোণঠাসা করছেন। আমাকে বুলিং না করে যদি সেই ক্রিমিনালকে আইনের মুখোমুখি করতেন, তবে সমাজে নতুন কোনো অপরাধীর জন্ম হতো না।”

সময়ের দাবি: সাইবার বুলিং ও ভিকটিম ব্লেমিংয়ের অবসান

প্রভার এই সাহসী ভিডিও বার্তাটি প্রকাশের পর শোবিজ অঙ্গনের সহকর্মী এবং সাধারণ নেটিজেনদের একটি বড় অংশ তাঁর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। সমাজবিজ্ঞান ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রভার এই বক্তব্য আমাদের সমাজের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বা দ্বিমুখী নীতিকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমাদের দেশে সাইবার সুরক্ষার আইন থাকলেও, কনসেন্ট ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও বা ছবি ছড়িয়ে দেওয়া অপরাধীদের সামাজিক বয়কট করার সংস্কৃতি এখনো গড়ে ওঠেনি। উল্টো ভুক্তভোগী নারীকেই আজীবন সামাজিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। প্রভার এই ভিডিও বার্তা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হাজারো নারীর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কণ্ঠস্বর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা অনতিবিলম্বে বন্ধ হওয়া জরুরি।


এ জাতীয় আরো খবর...