শিরোনামঃ
‘দ্য রিং’ খ্যাত মার্কিন অভিনেত্রী ডেভেই চেজ আর নেই অতীত সাগরে ডুবসাঁতার- হাতে তিনটি স্বর্ণপদ্ম আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর উন্নয়ন পরিকল্পনা চলছে: সেনাপ্রধান আদালতের সমন উপেক্ষা: সময় টিভির সাবেক এমডি আহমেদ জোবায়ের কারাগারে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারসাম্য রক্ষার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছাল ১২৭ বার ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোকসানে দেশের ব্যাংক খাত পুশইনে বিএসএফের নতুন কৌশল ও রুট পঞ্চগড়ে সেনানিবাস স্থাপনের দাবি তুললেন সারজিস আলম মাতারবাড়ী সংযোগ সড়ক প্রকল্পে সাড়ে৪শ কোটি টাকার হরিলুট
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ন

আধুনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর উন্নয়ন পরিকল্পনা চলছে: সেনাপ্রধান

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। আর সেই লক্ষ্যেই একটি সুপ্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে সেনাবাহিনী।

আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি (বিএমএ)-এর ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন, অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নেতৃত্বের মৌলিক গুণাবলি ও শৃঙ্খলার তাগিদ

দক্ষ ও যোগ্য সেনা কর্মকর্তা তৈরিতে ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, এখান থেকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শুধু দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তথা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন।

নবীন সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “আজকের এই পবিত্র শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আপনাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক মহান দায়িত্ব অর্পিত হলো।” তিনি নবীন অফিসারদের সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মতো নেতৃত্বের মৌলিক গুণাবলি সর্বদা নিজের মধ্যে ধারণ করার আহ্বান জানান।

শৃঙ্খলাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের মূল ভিত্তি উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতিটি কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম, ঐতিহ্য ও অনুশাসনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। তিনি নতুন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন যেন তাঁরা অধীনস্থ সৈনিকদের প্রতি সর্বদা দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণ করেন এবং তাদের দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলেন। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র—‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষাই একজন সেনা কর্মকর্তার জীবনের প্রথম ও প্রধান ব্রত।

৯০তম বিএমএ কোর্সের কমিশন ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ

আজকের এই সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক ও একাডেমিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন লাভ করেছেন। কমিশনপ্রাপ্ত নবীন অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ এবং ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন।

বাংলাদেশি ক্যাডেটদের পাশাপাশি এবারের কোর্সে আন্তর্জাতিক ক্যাডেটদের অংশগ্রহণ ছিল অন্যতম আকর্ষণ। আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বের অংশ হিসেবে ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সফলভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে অফিসার হিসেবে যোগদান করবেন।

কৃতি ক্যাডেটদের পুরস্কার ও র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ পরিধান

৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অনন্য সাধারণ কৃতিত্ব প্রদর্শনের জন্য ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে সামরিক একাডেমির সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সোর্ড অব অনার’ (Sword of Honor) লাভ করেন। একই সাথে সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখায় তিনি ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন। এ ছাড়া, এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর।

প্যারেড শেষে প্রশিক্ষণ সমাপনকারী ক্যাডেটগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আনুষ্ঠানিক ও গৌরবমণ্ডিত শপথ গ্রহণ করেন। এরপর অনুষ্ঠানে আগত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং নবীন অফিসারদের গর্বিত পিতা-মাতা ও অভিভাবকগণ অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশে তাঁদের সন্তানদের কাঁধে অফিসার পদের মর্যাদাপূর্ণ ‘র‍্যাঙ্ক-ব্যাজ’ পরিয়ে দেন।

মনোজ্ঞ এই অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, বিএমএ’র বিভিন্ন পদবির সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, অফিসার ক্যাডেটগণ এবং গণমাধ্যমের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


এ জাতীয় আরো খবর...