শিরোনামঃ
২৪ হয়েছিল বলেই ২৬ সালে নির্বাচন হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে কোনো শঙ্কা নেই: ডিএমপি ক্যাপসুল সংকটে ১৪ মাস ধরে বন্ধ ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন এআই কোম্পানি বেচে রাতারাতি বিলিয়নিয়ার ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দুই তরুণ বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের নিরাপত্তা সংকট জিটিএ ৬-এর প্রি-অর্ডারের তারিখ ও অফিশিয়াল কভার আর্ট প্রকাশ করল রকস্টার গেমস মুতা বিয়ে কি জায়েজ? বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করছে পাকিস্তান: উদ্বিগ্ন ভারত এক আঘাতে দুই শান্তিচুক্তি ভেঙে দিতে চান নেতানিয়াহু নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণ: যে চাপে ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে বাধ্য হলেন ট্রাম্প
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ন

এআই কোম্পানি বেচে রাতারাতি বিলিয়নিয়ার ভারত ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দুই তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি টাইকুন ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআই) কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘কার্সর’ (Cursor)-এর মূল প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানিস্ফিয়ার’ (Anysphere) অধিগ্রহণের খবর চাউর হয়েছে। প্রায় ৬০ বিলিয়ন (৬ হাজার কোটি) মার্কিন ডলারের এই বিশাল ও ঐতিহাসিক চুক্তির পর রাতারাতি বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির কেন্দ্রবিন্দু সিলিকন ভ্যালিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত দুই তরুণ উদ্যোক্তা।

তাঁরা হলেন ২৫ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক আমান স্যাঙ্গার এবং ২৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণ সালেহ আসিফ। এই নজিরবিহীন অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার ফলে তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে আনুমানিক ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন (২৭০ কোটি) ডলার পেতে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের কনিষ্ঠতম স্বনির্ভর (Self-made) বিলিয়নেয়ারদের এলিট ক্লাবে শামিল হতে যাচ্ছেন এই দুই প্রতিভাবান তরুণ।

এমআইটির প্রজেক্ট থেকে সিলিকন ভ্যালির টেক জায়ান্ট

২০২২ সালে বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) চার মেধাবী শিক্ষার্থী—মাইকেল ট্রুয়েল, আরভিড লুনেমার্ক এবং এই দুই দক্ষিণ এশীয় তরুণ আমান ও সালেহ মিলে ‘কার্সর’ গড়ে তোলেন। শুরুতে এটি কেবলই একটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্প বা প্রজেক্ট হিসেবে থাকলেও, মাত্র চার বছরের ব্যবধানে এটি সিলিকন ভ্যালির অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে লাখ লাখ সফটওয়্যার ডেভেলপার প্রতিদিন কোডিং করার জন্য এই এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করছেন। এর গ্রাহক তালিকার মধ্যে এনভিডিয়া, অ্যাডোবি, উবার, শপিফাই এবং পেপ্যালের মতো শীর্ষস্থানীয় গ্লোবাল প্রযুক্তি জায়ান্টরা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক তথ্যমতে, কার্সরের বার্ষিক রাজস্ব (Annual Revenue) ইতিমধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং প্রাতিষ্ঠানিক খাতের রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক breakout_info ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা এআই স্টার্টআপের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম প্রবৃদ্ধি।

কে এই আমান স্যাঙ্গার?

মাত্র ২৫ বছর বয়সে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে প্রবেশ করা আমান স্যাঙ্গারের জন্ম ও বেড়ে ওঠা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হলেও তাঁর পারিবারিক শিকড় মূলত ভারতে। তিনি একটি অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত এবং সফল উদ্যোক্তা পরিবারে বড় হয়েছেন।

আমানের বাবা অরবিন্দ স্যাঙ্গার ভারতের বিখ্যাত আইআইটি বোম্বের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং ভারতের শেয়ার বাজার ও প্রাকৃতিক সম্পদ খাতের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ‘জিওস্ফিয়ার ক্যাপিটাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মা শিল্পা স্যাঙ্গার মুম্বাইয়ে বড় হয়েছেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের পাশাপাশি একজন সফল ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও ইনভেস্টর হিসেবে নিজের শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলেন।

পারিবারিক এই সফল আবহে অনুপ্রাণিত হয়ে আমান মাত্র ১৪ বছর বয়স থেকেই কোডিং করা শুরু করেন। ২০১৮ সালে তিনি এমআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন এবং ২০২২ সালে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক শেষ করেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি এমআইটির স্কোয়াশ ও অ্যাথলেটিক্স দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। কার্সর প্রতিষ্ঠার আগে আমান বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘গুগল’ এবং হেজ ফান্ড ‘ব্রিজওয়াটার অ্যাসোসিয়েটস’-এ ইন্টার্নশিপ করেন। নিজের একটি এআই কনসাল্টিং ভেঞ্চার শুরু করার পরই তিনি তাঁর বন্ধুদের সাথে কার্সর গড়ে তোলার কাজে হাত দেন।

গণিতবিদ থেকে টেক টাইকুন: কে এই সালেহ আসিফ?

২৬ বছর বয়সী পাকিস্তানি তরুণ সালেহ আসিফের জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে। ছোটবেলা থেকেই গণিতের জটিল সব ধাঁধা মেলানো ও সংখ্যাতত্ত্বের ওপর তাঁর অসাধারণ ও ঈশ্বরপ্রদত্ত মেধা ছিল।

আমেরিকান বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে (IMO) টানা তিনবার পাকিস্তানের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন সালেহ আসিফ। প্রতিযোগিতামূলক গণিতে তাঁর এই বৈশ্বিক দক্ষতা ও মেধার স্বাক্ষরই তাঁকে পরবর্তীতে এমআইটির মতো বিশ্বসেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুল স্কলারশিপে পৌঁছাতে সাহায্য করে।

এমআইটিতে পড়ার সময়েই সালেহ একটি এআই-চালিত সার্চ ইঞ্জিন স্টার্টআপ তৈরি করেছিলেন, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ব্যবসার প্রতি তাঁর গভীর প্রাতিষ্ঠানিক আগ্রহের প্রমাণ দেয়। পরবর্তীতে সহপাঠীদের সঙ্গে তাঁর যৌথ প্রয়াস ও অক্লান্ত পরিশ্রমেই গড়ে ওঠে ‘কার্সর’। বর্তমানে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় কোডিং টুলগুলোর একটি এবং সালেহকে পরিণত করেছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম কনিষ্ঠতম ধনকুবেরে।

সিলিকন ভ্যালিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) খাতের বিকাশ ও বিস্তার কতটা দ্রুত এবং বৈপ্লবিক উপায়ে ঘটছে, অ্যানিস্ফিয়ারের এই ৬০ বিলিয়ন ডলারের অধিগ্রহণ চুক্তি তারই বড় প্রমাণ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দুই তরুণের এই অভাবনীয় বৈশ্বিক সাফল্য বিশ্বের নতুন প্রজন্মের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা


এ জাতীয় আরো খবর...