শিরোনামঃ
তিন দশকে ১৮০০ কোটি খরচ: তবু থামেনি মশার দাপট ও ডেঙ্গু হাসিনার তৎপরতা: দিল্লির কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ ব্রিটিশদের ১০৯ বছর আগে ধার দেওয়া টাকা এখন সুদসহ ফেরত চায় ভারতের এক পরিবার মানবাধিকার ঝুঁকি ও অনিয়মের অভিযোগ: বিচারাধীন বন্দীর ভিড়ে উপচে পড়া কারাগার বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিতে শাহরুখ, অজয়, টাইগারকে নোটিশ আমদানি বিলাসিতার চড়া মাশুল: দেশীয় অনুসন্ধানেই লুকিয়ে টেকসই জ্বালানি গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে শিল্পচাকা: ঝুঁকিতে দেশের রপ্তানি বাণিজ্য তরঙ্গ নীতির রূপান্তর: রাজস্বের মোহ কাটিয়ে ডিজিটাল ভবিষ্যতের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দেশ পুনর্গঠন করছে সরকার : রিজভী নোট অব ডিসেন্ট বাদ দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হবে: তথ্য উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

জুন শেষ হওয়ার আগেই বিনিয়োগ করুন, বাঁচবে লাখ টাকার ট্যাক্স!

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক / ৩৪ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬

চলতি জুন মাসটি দেশের প্রত্যেক সাধারণ ও পেশাদার করদাতার জন্য বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বছর শেষে সরকারকে ঠিক কত টাকা আয়কর বা ট্যাক্স দিতে হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে এই জুন মাসের সঠিক পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ওপর। আয়কর আইনের সঠিক নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে প্রতি বছর লাখ টাকা পর্যন্ত ট্যাক্স বাঁচানো সম্ভব। তবে এই আইনি সুবিধা পাওয়ার একমাত্র প্রধান শর্ত হলো—বিনিয়োগটি অবশ্যই চলতি জুন মাসের ৩০ তারিখের (চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার) মধ্যেই সম্পন্ন করতে হবে। অত্যন্ত সহজ ভাষায় এমন ৯টি নিরাপদ খাতের বিবরণ এবং কর রেয়াত পাওয়ার সঠিক গাণিতিক সূত্র তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে আপনি আপনার কষ্টার্জিত অর্থ করের বোঝা থেকে বাঁচাতে পারেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক নির্ধারিত কিছু নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করলে করদাতারা আইনানুযায়ী কর রেয়াত বা ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা পেয়ে থাকেন। মধ্যবিত্তদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং নিরাপদ মাধ্যম হলো সরকারি সঞ্চয়পত্র, যাতে ঝুঁকি নেই বললেই চলে এবং ব্যাংক ডিপিএসের চেয়ে মুনাফাও কিছুটা বেশি। এছাড়া যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত (অর্থাৎ বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা) ডিপিএস করলেও এই সুবিধা মিলবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানির শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড কিংবা ডিবেঞ্চার কিনলে কর রেয়াত পাওয়া যায়। নিজের কিংবা পরিবারের সদস্যদের নামে করা জীবন বীমার (Life Insurance) প্রিমিয়ামের টাকাও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের প্রভিডেন্ট ফান্ডের চাদা কিংবা এনবিআর কর্তৃক স্বীকৃত ভবিষ্যৎ তহবিলে কর্মকর্তা ও নিয়োগকর্তার দেওয়া চাঁদা, কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বীমায় দেওয়া চাঁদা, এবং সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ডের চাঁদা কর রেয়াতের আওতাভুক্ত। এর বাইরে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত যেকোনো সরকারি সিকিউরিটিজ বা বন্ড কেনা হলে কিংবা এনবিআর কর্তৃক স্বীকৃত ও বিশেষ প্রজ্ঞাপিত অন্য কোনো বিশেষ বন্ড বা সিকিউরিটিজে অর্থ খাটালে এই ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়।

অনেকেই মনে করেন বিনিয়োগ করলেই বোধহয় সব ট্যাক্স মাফ হয়ে যায়, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। কর রেয়াত বা ট্যাক্স ক্রেডিট পাওয়ার একটি নির্দিষ্ট আইনি গাণিতিক সূত্র আছে। নিয়ম অনুযায়ী, তিনটি অঙ্কের মধ্যে যেটি সবচেয়ে কম হবে, সেটাই হবে আপনার চূড়ান্ত কর ছাড়ের পরিমাণ। এর প্রথমটি হলো আপনার মোট করযোগ্য আয়ের ৩ শতাংশ। দ্বিতীয়টি হলো আপনি বছরজুড়ে অনুমোদিত খাতে মোট যে টাকা বিনিয়োগ করেছেন, তার ১৫ শতাংশ। আর তৃতীয়টি হলো এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা, যা ১০ লাখ টাকা।

একটি সহজ বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। মনে করুন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার একজন চাকরিজীবী বা কর্মকর্তার বছরে মোট করযোগ্য আয় ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। তিনি বছরজুড়ে প্রভিডেন্ট ফান্ড ও বীমায় মোট ৪১,৪০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। আয়করের সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত বা ট্যাক্স ফ্রি। ফলে তাঁর অবশিষ্ট ১৪,০০০ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে মূল কর আসে ৭০০ টাকা। এখন কর ছাড়ের নিয়ম মেলালে দেখা যায় তাঁর আয়ের ৩ শতাংশ হলো ১০,৯২০ টাকা এবং বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ হলো ৬,২১০ টাকা। কিন্তু এখানে একটি আইনি মারপ্যাঁক আছে; আইনানুযায়ী কর ছাড়ের পরিমাণ কখনোই আপনার মূল প্রদেয় ট্যাক্সের চেয়ে বেশি হতে পারে না। যেহেতু উক্ত করদাতার মূল কর মাত্র ৭০০ টাকা, তাই রেয়াত বাদ দিয়ে তাঁর কোনো করই থাকার কথা নয়।

তবে কর ছাড়ের সুবিধা আপনি যতই পান না কেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ন্যূনতম করের নিয়মটি আপনাকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আপনি যত টাকাই বিনিয়োগ করুন না কেন, আপনার এলাকা অনুযায়ী নির্ধারিত ন্যূনতম ট্যাক্স সরকারকে দিতেই হবে। আইন অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ ৫,০০০ টাকা। অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন এলাকার জন্য এটি ৪,০০০ টাকা এবং সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত জেলা সদর ও পৌরসভা এলাকার জন্য ন্যূনতম করের পরিমাণ ৩,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেহেতু উদাহরণের করদাতা ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বাসিন্দা, তাই রেয়াত বা ট্যাক্স ছাড়ের হিসাবের পরেও তাঁকে বছর শেষে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকাই আয়কর হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। তাই আর দীর্ঘসূত্রতা না করে, চলতি জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই আপনার করের সঠিক হিসাব করুন এবং পছন্দের নিরাপদ খাতে দ্রুত বিনিয়োগ করে ট্যাক্সের অতিরিক্ত বোঝা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখুন।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ


এ জাতীয় আরো খবর...