যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনা ইতিবাচক দিকে মোড় নেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবারও স্বাভাবিক হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা এবং ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের খবরের প্রভাবে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামই হ্রাস পেয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনের এই আবহে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এক ধরনের স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের বরাত দিয়ে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ পরিস্থিতি ঠিক কতটা দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববাজারের বিনিয়োগকারীরা। এই অপেক্ষার প্রভাবে আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে, যা মূলত আগের দিনের দরপতনেরই ধারাবাহিকতা।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৭৭.৭০ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার পরিমাপক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৭৩.৭৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার গতি এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার বাস্তব অগ্রগতির ওপরই এখন বিনিয়োগকারীদের মূল নজর রয়েছে।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ইরানকে সরাসরি মার্কিন ডলারে তেল বিক্রি করার অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই বিশেষ ছাড়ের ফলে ইরান এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছেও সরাসরি তেল বিক্রি করার আইনি সুযোগ পাবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই বিষয়ে জানান যে, ইরানি কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহেই তাঁদের দেশে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছেন। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর ক্ষেত্রে ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বড় একটি ছাড় হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।