শিরোনামঃ
যারা শাশুড়ি হতে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য ১০টি পরামর্শ চিকিৎসার পর ফের কারাগারে দীপু মনি সংসদে ট্যাক্সের টাকায় যেন চরিত্র হনন না হয় বিরোধী দলের নির্বাচনি এলাকায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে: মির্জা ফখরুল যে কোনো মূল্যে তিস্তা ব্যারাজ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রাহকদের জন্যে স্মার্টফোন সাশ্রয়ী করতে বাংলালিংকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চাকরির জন্য তরুণদের বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহারসহ কর সংস্কারের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর বন্ধ হচ্ছে আবাসিক খাতে গ্যাস সংযোগ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

স্মার্ট বর্ডারের পথে বিজিবি: কাঁটাতার নয়, প্রযুক্তিতেই এখন সীমান্ত সুরক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ বার
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। অতীতে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ যে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করত, সেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আর আগের মতো নতজানু অবস্থানে নেই। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা এখন পেশাদারিত্বের সঙ্গে চোখ রাঙিয়ে জবাব দিতে জানে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিতে দ্বিধাবোধ করে না। বিজিবি সদস্যদের এই নবজাগরণ ও সাহসিকতার পাশাপাশি সরকার এখন সীমান্ত অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছে, যা আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও আধুনিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে—পুশ-ইন এবং সীমান্ত চোরাচালান। ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষ ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা বা পুশ-ইনের বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্বের উন্নত দেশগুলো যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, বাংলাদেশও সেই পথে হাঁটছে। প্রায় ৪ হাজার ১৫৬ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রক্ষা করা বিজিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সরকার এখন এই বিশাল এলাকাকে নজরদারিতে আনতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।

সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি বর্তমানে কেবল টহলের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিওপি (বর্ডার আউটপোস্ট) এবং নদীপথে নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে যশোর, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট ও টেকনাফের মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ‘বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম’ স্থাপন করা হয়েছে। টেকনাফ, রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির মতো দুর্গম পার্বত্য এলাকায় ‘থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম’ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই প্রযুক্তি দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারে মানুষ, প্রাণী বা যে কোনো বস্তুর শরীরের তাপ শনাক্ত করতে সক্ষম, যা অনুপ্রবেশ রোধে অত্যন্ত কার্যকর। প্রযুক্তির এই ব্যবহার সীমান্ত পাহারায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা এখনো সময়ের দাবি। বিজিবি কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্তজুড়ে যদি পর্যাপ্ত যোগাযোগের রাস্তা থাকতো, তবে আধুনিক সরঞ্জাম ও দ্রুতগতির যানবাহনের মাধ্যমে পাহারা দেওয়া আরও সহজ হতো। ফ্লাডলাইট এবং সিসি ক্যামেরার সংখ্যা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কেবল রাস্তা তৈরি করলেই হবে না, বরং নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত চলাচলের জন্য উন্নত সংযোগ সড়ক ও প্রযুক্তিগত স্থাপনা প্রয়োজন। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

বাংলাদেশের সীমান্তে ভারতের মতো কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ থেকেছে। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ জাতীয় সংসদে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এছাড়া দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি (ট্যাকটিক্যাল অপারেশনাল বেস) নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় কেবল স্বল্পমেয়াদী নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই নিরাপত্তার ওপর জোর দিচ্ছে।

সীমান্তকে একটি ‘স্মার্ট বর্ডার’ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এর জন্য প্রয়োজন অত্যাধুনিক ড্রোন, সেন্সর ক্যামেরা এবং সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক। তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করাও সমানভাবে জরুরি। সীমান্ত সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে সরকার বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের সাথে সহযোগিতার পথও খোলা রেখেছে। বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ওপর সরকার এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

বাংলাদেশ এখন একটি আত্মবিশ্বাসী সীমান্ত ব্যবস্থাপনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেও নিজস্ব সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি এখন অনেক বেশি কার্যকর। পুশ-ইন বা চোরাচালানের মতো অপরাধ বন্ধে সরকারের গৃহীত নতুন উদ্যোগগুলো যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে আগামী দিনে বাংলাদেশ তার সীমান্ত সুরক্ষায় একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের অখণ্ডতা রক্ষায় সরকার যে নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে, তা সফল হলে সীমান্ত পরিস্থিতি অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

সবশেষে বলা যায়, সীমান্ত নিরাপত্তা কোনো একক কাজ নয়, বরং এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকার কেবল প্রযুক্তি বা প্রাচীর দিয়ে নয়, বরং কূটনৈতিক সচেতনতা এবং সাহসিকতার সমন্বয়ে দেশের সীমান্তকে সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর। বিজিবির বর্তমান সক্ষমতা এবং সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এই নিশ্চয়তাই দিচ্ছে যে, বাংলাদেশের সীমান্ত এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ এবং এই সুরক্ষাব্যবস্থা প্রতিনিয়ত আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে হলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি।

তথ্যসূত্র: দ্যা ওয়েভ২৪


এ জাতীয় আরো খবর...