শিরোনামঃ
বাড়ি ভাড়া নেওয়ার আগে: ১০টি পরামর্শ ডাকলেই কাছে চলে আসবে টয়লেট! মানুষের জীবনমানের উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী রাজনীতিবিদদের ভুল তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব: মির্জা ফখরুল খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিদেশি অতিথি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা তেহরানে গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করলেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এলপিজির দাম কমেছে, ধাপে ধাপে জ্বালানি তেলও কমানো হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ফুটবল দর্শনে দেশীয় ফুটবলের রূপান্তর পরিকল্পনা সাঈদীর সাক্ষী সুখরঞ্জন বালী অপহরণ মামলায় সাবেক এএসপি গ্রেপ্তার তেহরানে খামেনির জানাজায় রেকর্ড জনসমাগমের আশা
শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব ফুটবলের নতুন অধিপতি কিলিয়ান এমবাপ্পে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১৮ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬

ফুটবলের দীর্ঘ ও গৌরবময় ইতিহাসে যুগে যুগে এমন কিছু তারকার আগমন ঘটেছে যারা এসেছেন কেবল নিখুঁত গোল করতে কিংবা ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে। তবে এর বাইরেও অতিমানবীয় কিছু চরিত্র থাকেন, যারা আসেন পুরো একটি প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব এবং খেলার ব্যাকরণ বদলে দিতে। ফরাসি ফুটবলের বর্তমান প্রাণভোমরা কিলিয়ান এমবাপ্পে নিঃসন্দেহে সেই বিরল স্পেশালদেরই একজন। তাকে যদি কেউ কেবল একজন দক্ষ স্ট্রাইকার বা গোলদাতা হিসেবে মূল্যায়ন করেন, তবে তার বর্ণিল ও জাদুকরী ফুটবলীয় আখ্যানের একটি বিশাল অংশই অধরা থেকে যাবে।

বিগত দেড় দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলের সবুজ গালিচা শাসন করেছেন লিওনেল মেসি এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নামের দুই কিংবদন্তি। কিন্তু সময়ের অমোঘ নিয়মে যখনই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে—এই দুই মহামানবের পর কে ধরবেন বিশ্ব ফুটবলের হাল? ঠিক তখনই সেই কোটি টাকার প্রশ্নের জীবন্ত ও নিখুঁত উত্তর হিসেবে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছেন ফ্রান্সের এই গোল মেশিন। চেহারায় এক অদ্ভুত শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ভাব, চোখে জয়ের তীব্র ক্ষুধা আর বাতাসের চেয়েও দ্রুতগতির পায়ের জাদুতে তিনি খুব অল্প সময়েই বিশ্বমঞ্চে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছেন।

সাধারণ ফুটবল অনুরাগীদের চোখে এমবাপ্পের সবচেয়ে বড় শক্তি তার অবিশ্বাস্য গতি। কিন্তু একজন পরিণত ফুটবলার হিসেবে তার আসল শক্তির গভীরতা লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়, যা মূলত তার প্রখর ফুটবলীয় বুদ্ধিমত্তা বা ‘ট্যাকটিক্যাল ম্যাচিউরিটি’। মাঠের ঠিক কোন মুহূর্তে গতি বাড়িয়ে ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করতে হবে, কখন থমকে দাঁড়িয়ে সতীর্থের পাসিং লাইনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে, কখন নিজের নিয়ন্ত্রণে বল রাখতে হবে কিংবা কখন একটিমাত্র সুবর্ণ সুযোগের জন্য ওঁৎ পেতে থাকতে হবে—এই সবকিছুর ওপর তার রয়েছে এক অবিশ্বাস্য নিয়ন্ত্রণ।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ ছিল বিশ্বমঞ্চে এমবাপ্পের রাজকীয় আবির্ভাবের মূল প্ল্যাটফর্ম। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯ বছর। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র চারটি গোল করলেও নকআউট পর্বে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে একাই চূর্ণ-বিচূর্ণ করে তিনি বিশ্বকে জানান দিয়েছিলেন যে, তিনি ফুটবলের আগামী দিনগুলোতে রাজত্ব করতেই এসেছেন। এমনকি ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ করে ফ্রান্সকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট এনে দেন তিনি। পেলে-র পর দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়ে ফুটবল বিশ্বকে তিনি বুঝিয়ে দেন—নতুন এক নক্ষত্রের উদয় ঘটেছে।

এরপর আসে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ, যা এমবাপ্পেকে ফুটবল ইতিহাসের এক অনন্য ও অমর উচ্চতায় নিয়ে যায়। পুরো টুর্নামেন্টে চমৎকার খেলে আটটি গোল করে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার ‘গোল্ডেন বুট’ জয় করেন তিনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনাল ম্যাচটি ছিল এমবাপ্পের একক লড়াইয়ের এক মহাকাব্যিক প্রদর্শনী। ফ্রান্স যখন প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে চরম বিপর্যয়ের মুখে, তখনও একা হাতে দলের হাল ছাড়েননি এই তরুণ মহাতারকা। ফাইনালে ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক করে তিনি ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে নেন। টাইব্রেকারের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত শিরোপা অধরা থাকলেও, সেদিন কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় একাই জয় করেছিলেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।

আন্তর্জাতিক ফুটবলের অভূতপূর্ব সাফল্যের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও এমবাপ্পের সাফল্য আকাশচুম্বী। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নেওয়ার পর, ক্যারিয়ারের এক নতুন ও রোমাঞ্চকর চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি যোগ দেন স্প্যানিশ পরাশক্তি রিয়াল মাদ্রিদে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সেই ঐতিহ্যবাহী সাদা জার্সিতেও তিনি নিজের নামের প্রতি পূর্ণ সুবিচার করে চলেছেন। আজ তিনি কেবল একজন সাধারণ ফুটবলার নন, বরং ফরাসি ফুটবল তথা বিশ্ব ক্রীড়াজগতের এক অনন্য লাইফলাইন ও ভরসার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের কোটি তরুণ ফুটবলার আজ কিলিয়ান এমবাপ্পের মাঝেই নিজেদের স্বপ্ন পূরণের অনুপ্রেরণা খুঁজে পায়। তিনি কারো ছায়া হয়ে কিংবা কারো উত্তরসূরী হতে ফুটবল মাঠে আসেননি; তিনি এসেছেন নিজের এক সোনালী যুগ তৈরি করতে। আর তাই ফুটবল ইতিহাস হয়তো কোনো একদিন সগৌরবে বলবে—তিনি দ্বিতীয় মেসি বা রোনালদো নন, তিনি পৃথিবীর বুকে প্রথম ও অনন্য কিলিয়ান এমবাপ্পে।


এ জাতীয় আরো খবর...