সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

বন্যায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল: মরদেহ দাফনের জন্যও মিলছে না শুকনো জমি

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৬ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

একদিকে বুকসমান অন্তহীন ঘোলা জল, আর তার মধ্যেই অবুঝ শিশুকে বুকে চেপে এক প্রৌঢ়ের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান; অন্যদিকে আশি বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবাকে কাঁধে নিয়ে এক যুবকের নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটে চলা—দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতির নির্মম বাস্তবতার খণ্ডচিত্র এগুলোই। তবে সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে এমন কিছু পরিবারে, যারা তাদের দুই বছরের মৃত সন্তানকে দাফন করার জন্য সামান্য শুকনো মাটি পর্যন্ত খুঁজে পায়নি। গত কয়েক দিনের অবিরাম ও রেকর্ডভাঙা বর্ষণ, প্রলয়ঙ্কারী পাহাড়ধস এবং সীমান্ত সংলগ্ন উজান থেকে ধেয়ে আসা তীব্র ঢলের কারণে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এক চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগের সিংহভাগ অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ এখন প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকা বানের পানির মুখে সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশের সাতটি বন্যাদুর্গত জেলার যে প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হয়েছে, তাতে এ পর্যন্ত ৩৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা পর্যটন নগরী কক্সবাজারের, যেখানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১৩ জন শরণার্থীসহ মোট ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া বন্যায় চট্টগ্রামে আটজন, দুর্গম বান্দরবানে ছয়জন এবং রাঙামাটিতে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন প্রায় ৯ লাখ ২৮ হাজার মানুষ। কেবল চট্টগ্রাম জেলাতেই এখন প্রায় সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষ সম্পূর্ণ পানিবন্দী বা জলমগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। উপদ্রুত অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে, যার ফলে আটকা পড়া পরিবারগুলো শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আকুল ও আর্তনাদপূর্ণ আবেদন জানাচ্ছেন।

চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ডলু খালের শক্তিশালী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর পাহাড় থেকে আসা পানির তীব্র স্রোত মুহূর্তের মধ্যে লোকালয় ও আবাসিক এলাকাগুলোতে আছড়ে পড়ে। এর ফলে ওই অঞ্চলের ১৭টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে, যা দুই লক্ষাধিক মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে ফেলেছে। এই আকস্মিক প্লাবনে হাজার হাজার কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট, মাছের খামার ও পোল্ট্রি ফার্ম এবং গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বসতবাড়ির রান্নাঘরগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্গত এলাকার বহু পরিবার গত কয়েক দিন ধরে উনুন জ্বলতে না পেরে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। জীবন বাঁচাতে অনেকে নিকটাত্মীয়ের বাড়ি বা সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিলেও, একটি বিশাল অংশ নিজেদের প্লাবিত টিনের ছাদ কিংবা উচুঁ কোনো মাচার ওপর খোলা আকাশের নিচে দিনাতিপাত করছেন।

সাতকানিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা রহমতুল্লাহ ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান যে, বন্যা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো পর্যায় থেকেই তাদের খোঁজ নিতে বা কোনো ত্রাণ সামগ্রী দিতে কেউ আসেনি। সেখানে ছোট ছোট শিশুরা পলিথিনের ছাউনির নিচে কোনোমতে সামান্য শুকনো খাবার আর ফুরিয়ে আসা পানি খেয়ে বেঁচে আছে। কোলে তিন বছরের শিশু নিয়ে কোনোমতে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছানো সাফুরা বিবি জানান, আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবেশ অত্যন্ত শোচনীয় এবং তাদের দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। দিনভর শুকনো খাবার খেতে খেতে ক্লান্ত সাফুরা আক্ষেপ করে বলেন, এক মুঠো গরম ভাত খেতে পারলে তিনি মনে শান্তি পেতেন। এই বিষয়ে চট্টগ্রামের ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া জানিয়েছেন যে, দুর্গতদের জন্য জরুরি নগদ অর্থ এবং ২০০ টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত আরও নতুন বরাদ্দ মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই প্রলয়ঙ্কারী বন্যা কেবল জীবিতদের জীবনকেই বিপন্ন করেনি, বরং মৃতদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সম্মানজনক বিদায় বা দাফন করার অধিকার থেকেও পরিবারগুলোকে বঞ্চিত করছে। সাতকানিয়া পৌরসভার দক্ষিণ রূপকানিয়া এলাকায় গত শুক্রবার রাতে পরিবারের অজান্তেই ঘর থেকে বন্যার পানিতে ভেসে যায় দুই বছরের শিশু ইসমাইল হোসেন, যার মৃতদেহ পরে বাড়ির কাছের জলমগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নেও একইভাবে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যায় দুটি শিশু। স্থানীয় বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন জানান, পুরো এলাকায় কোনো শুকনো কবরস্থান না থাকায় শেষ পর্যন্ত একটি পুকুরপাড়ের সামান্য উচুঁ জায়গায় কোনোমতে শিশু দুটির দাফন সম্পন্ন করা হয়। সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতে আলতাব আলী চৌধুরী জামে মসজিদ সংলগ্ন একটি পুরো কবরস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনটি নতুন মৃতদেহ কবর থেকে ভেসে গিয়ে পাশের ঝোপঝাড়ে আটকে যায়, যা পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে অন্য একটি নিরাপদ স্থানে পুনরায় দাফন করেন।

আকস্মিক এই দুর্যোগে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো তাদের শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। বাঁশখালীতে নিজের মাটির তৈরি ঘরের ধ্বংসস্তূপ কোদাল দিয়ে সরানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মরিয়ম বেগম ও তার স্বামী বাসেত আলী। মরিয়ম জানান, বানের পানি বাড়ার সাথে সাথেই তাদের মাটির দেয়ালগুলো নরম হয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে এবং তীব্র ঝড়ে টিনের ছাদ উড়ে যায়। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে জীবন বাঁচাতে পারলেও এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই বা খাবারের কোনো উপায় তাদের জানা নেই। বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চলের পানি কিছুটা কমলেও উপকূলীয় অঞ্চলের পানি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। নারী ও শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেলেও পুরুষেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ও শেষ সম্বল পাহারা দেওয়ার জন্য জলমগ্ন বাড়িতেই অবস্থান করছেন। লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলার পরিস্থিতিও একই রকম ভয়াবহ, যেখানে লোহাগাড়া সদর, আধুনাবাদ ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিশাল অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে এবং সাঙ্গু নদী বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কেরানীহাট-বান্দরবান সড়কে যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের চন্দনাইশ ও চট্টগ্রাম বিভাগের প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার সতর্ক করেছেন যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দনাইশের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ভগবানহাট, জাতারকুল ও নাজিরহাটসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ গত তিন দিন ধরে হাঁটু পানিতে বন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এবং কোনো সরকারি ত্রাণ তাদের কাছে পৌঁছায়নি। দোহাজারী পৌরসভার রায়জোয়ারা ও খিল্লাপাড়ায় বেসরকারি উদ্যোগে যে সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, তা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে সাড়ে চার টন করে চাল ও শুকনো খাবার পাঠানো হয়েছে এবং ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম সচল রয়েছে। কক্সবাজার জেলার ৭১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬৯টি ইউনিয়নই এই বন্যায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পেকুয়া, মাতামুহুরী ও চকরিয়া অববাহিকায় প্রায় দুই লাখ মানুষ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবানের নিচু এলাকা ও রাঙামাটির ১২৫টিরও বেশি স্থানে পাহাড়ধসের ফলে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ চার দিন ধরে আটকা পড়ে আছেন। দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও দীঘিনালা-সাজেক সড়ক সচল হয়েছে। চেঙ্গী নদীর পানি খাগড়াছড়ি শহর থেকে কিছুটা কমলেও নিচু এলাকার ফসলি জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বন্যা কবলিত হাজার হাজার মানুষ যখন নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন সেন্টারে আশ্রয় নিচ্ছেন, তখন সেখানে নারী ও শিশুরা এক নতুন ও মারাত্মক নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং আলাদা শৌচাগার না থাকায় নারী ও কিশোরীরা ক্রমাগত যৌন হয়রানি, মানসিক ট্রমা ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। পুলিশ স্টাফ কলেজের একটি সাম্প্রতিক ও চাঞ্চল্যকর গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হওয়া মানুষদের মধ্যে প্রায় ৭৫.৫ শতাংশ নারী ও শিশু অত্যন্ত তিক্ত ও ভীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে বাঁচতে এসে এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো এখন চরম নিরাপত্তাহীনতার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যা দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত ও নৈতিক দুর্বলতাকে প্রকাশ করে।

এদিকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও নতুন করে বন্যার স্থায়ী বিপদ তৈরি হচ্ছে। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের নদীগুলোর পানি উপচে নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বড় ধরনের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই খোয়াই, মনু ও কুশিয়ারা নদী বিভিন্ন পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি ও সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সুরমা, সারিগোয়াইন, যদুকাটা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ওই অঞ্চলে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং তা আরও দুই দিন অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি তীব্র রূপ নেবে। সুনামগঞ্জ সদরের কোরবাননগর, মোল্লাপাড়া এবং জগন্নাথপুরের পাইলগাঁও ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সড়কগুলো ইতিমধ্যে তলিয়ে গেছে।

বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইনের ষোলশহর সেকশনের জানালিহাট স্টেশনের চারপাশের প্রায় ছয় কিলোমিটার রেললাইন সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং রেল প্রকৌশলীরা পাথর ফেলে লাইন মেরামতের চেষ্টা করছেন। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, চট্টগ্রামে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। এই দুর্যোগের আঁচ লেগেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও, যেখানে খুলনা জেলায় ৫১ ঘণ্টায় ১৮৪ মিলিমিটারের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাতের কারণে মুজগুন্নি, রয়্যাল মোড়, টুথপাড়া ও দৌলতপুরসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আইএমইডি ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই চরম প্রভাবে দেশের এই বন্যা পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হলে তাৎক্ষণিক ত্রাণের পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি নদী খনন ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই।

তথ্যসূত্র: টাইমস অফ বাংলাদেশ


এ জাতীয় আরো খবর...