সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ন

রাতভর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৩ বার
প্রকাশ: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে একটি কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের বিভিন্ন স্থানে রাতভর সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রোববার (১২ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রত্যাহারের কথা জানালেও আলোচনার সুযোগ এখনও খোলা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান দাবি করেছে, অননুমোদিত নৌপথ ব্যবহার করে চলাচলকারী একটি জাহাজকে সতর্ক করতে গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি এ ঘটনায় কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটি ছিল সাইপ্রাসের পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এম/ভি জিএফএস গ্যালাক্সি। হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যকর অবরোধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন নভেম্বরের আগাম নির্বাচনের আগে এই সংকট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের দাবি, একাধিক জাহাজ অনুমোদিত নৌপথ এড়িয়ে বিকল্প রুট ব্যবহার করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল। তাদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা মানেনি।

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য, আইআরজিসির বিবৃতি প্রকাশের প্রায় এক ঘণ্টা পর, শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু হয়। এর আগে আইআরজিসি সতর্ক করেছিল, কন্টেইনার জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

সেন্ট্রাল কমান্ড আরও জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।


এ জাতীয় আরো খবর...