শিরোনামঃ
অ্যাঞ্জেল মেরি কামস টু মি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভুবন ভোলানো হাসিতে মন জয় করা তাহসিনের সাক্ষাৎ শিল্পখাতে গ্যাস সংকট সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর সার্ক কার্যকর করতে বাংলাদেশ-নেপাল একমত ‘চোখ-কান খুলে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে বলেছি’— ইসিকে জামায়াত বৈদেশিক লেনদেনে ডিজিটাল পেমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক শাপলা চত্বর মামলায় গ্রেপ্তার না হলে আত্মসমর্পণ করবো: লতিফ সিদ্দিকী ‘নির্দিষ্ট মামলা না থাকলে শ্যোন অ্যারেস্ট নয়’ হাইকোর্টের এ আদেশ স্থগিত জিয়াউর রহমান হত্যা তদন্ত কমিশনের অপ্রকাশিত প্রতিবেদনে কী আছে তুর্কি ড্রোনে শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ, নতুন মোড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন

একই ব্যবহারে জুনে দ্বিগুণ বিদ্যুৎ বিল

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

প্রতি বছর জুনের শেষভাগ এলেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করা এবং প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি সহ্য করার পরও মাস শেষে ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়ে সারাদেশের সাধারণ মানুষের চোখ কপালে উঠছে। চলতি বছরেও এই চরম অনিয়ম ও হয়রানির কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে এই অস্বাভাবিক বিলের ব্যাপারে জোরালো প্রশ্ন তোলা হলেও বিদ্যুৎ খাতের নীতিনির্ধারক ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বিদ্যুতের দর বৃদ্ধির মতো নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) পক্ষ থেকে ব্যবহার বৃদ্ধির অজুহাত দেওয়া হলেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কোটি কোটি গ্রাহকের আকাশচুম্বী বিলের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন গল্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দেশের প্রায় পাঁচ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের একটি বিশাল অংশ এখনও এনালগ বা পোস্টপেইড মিটারের ওপর নির্ভরশীল। এসব গ্রাহকদের অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত মিটার রিডিং না নিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসাধু উপায়ে আনুমানিক বা মনগড়া বিল তৈরি করা হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বছরের শেষ মাসে এসে বিগত কয়েক মাসের বাদ পড়া ইউনিট একসাথে যোগ করে দেওয়া হয়। এতে গ্রাহকের মোট ব্যবহৃত ইউনিট উচ্চ স্ল্যাবে উঠে যায় এবং স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থদণ্ড হিসেবে বিলে যুক্ত হয়। অন্যদিকে অর্থবছরের শেষে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর রাজস্ব আয় বেশি দেখানো কিংবা সিস্টেম লস কমিয়ে কাগজপত্রে সাফল্য দেখানোর তাগিদ থেকেও এ ধরনের ভূতুড়ে বিল তৈরির প্রবণতা বাড়ে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

শুধু পোস্টপেইড মিটারই নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকরাও এবার একই ধরনের ভৌতিক ও নজিরবিহীন অর্থ কাটার শিকার হয়েছেন। প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জ করার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় বিশাল অঙ্কের অর্থ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যাচ্ছে। ঢাকার তেজকুনীপাড়া, আদাবর, খিলগাঁও, নিকেতন ও মোহাম্মদপুর থেকে শুরু করে নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম ও হবিগঞ্জসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিদ্যুৎ বিলের এই চরম বিপত্তির খবর মিলছে। হাজার টাকার নিয়মিত বিল কোথাও একলাফে সাড়ে ১৪ হাজার, কোথাও ৪৯ হাজার, আবার কোথাও কম্পিউটার ভুলের অজুহাতে দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র একটি লাইট ও ফ্যান চালানো নিম্নবিত্ত পরিবারের হাতেও সাত হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

দেশজুড়ে ত্যাগের সীমা ছাড়িয়ে গ্রাহক ক্ষোভ বিস্ফোরক রূপ নেওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বিতরণ সংস্থা ও জেলা প্রশাসকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই পর্যালোচনা সভায় অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে নিষ্পত্তির কড়া তাগিদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কারিগরি বা কণিক ভুল থাকলে দ্রুত সংশোধন এবং ইচ্ছেকৃত জালিয়াতি পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ আসে। রাজশাহীসহ দেশের একাধিক জেলায় ভোক্তাদের বিভিন্ন সংগঠন ভুয়া বিল বাতিল, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ সমন্বয় এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের দাবিতে সড়ক আন্দোলন ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করছে।

গ্রাহক অধিকার রক্ষায় কাজ করা ভোক্তা অধিকার সংস্থা কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, বিলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না আসা এবং বিতরণ কোম্পানিগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত প্রতি বছর জুনের এই বিল ডাকাতি বন্ধ হবে না। যদিও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেল গঠন করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন, তবুও ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি—কারিগরি বা মানবসৃষ্ট ভুলের দায় যেন কোনোভাবেই সাধারণ গ্রাহকের ওপর না চাপে এবং ভুল বিলের কারণে যেন কারও সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা হয়।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর


এ জাতীয় আরো খবর...