শিরোনামঃ
সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মামলা নিষ্পত্তিতে এগিয়ে থাকা জেলাগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে: আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে ইসিতে জমা ৩ মনোনয়নপত্র এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে সিস্টেম বন্ধ থাকবে ৭২ ঘণ্টা: জ্বালানিমন্ত্রী অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনও চূড়ান্ত নয়: শামা ওবায়েদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন কৃত্রিম সংকটে সারের বাজার: আমন মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে কৃষক অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে পরিবর্তনের পরিকল্পনা
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

জমি কেনাবেচা ও ধর্মান্তরে কড়াকড়ি: ‘ল্যান্ড জিহাদ’ রুখতে আসাম মডেলের পথে শুভেন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৪ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ধর্মান্তকরণ রোধ এবং ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে জমি কেনাবেচায় আইনি বিধিনিষেধ আরোপের নতুন ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে। রাজ্যটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তথাকথিত ‘ল্যান্ড জিহাদ’ ও ধর্মীয় রূপান্তর রুখতে অদূর ভবিষ্যতে কঠোর আইন আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পদে থেকে নেওয়া নানা সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এবার জমি হস্তান্তর ও ধর্মান্তর বন্ধে নতুন আইন আনাই মূল লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা মূলত বিরোধী রাজনীতির মূল সুর ও ভারতীয় ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাবধারারই প্রতিফলন।
এই ধরণের জমি নিয়ন্ত্রণ বা ‘ল্যান্ড জিহাদ’ সংক্রান্ত পরিভাষাটি মূলত উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যা ভারতের উত্তর ভারতের কয়েকটি রাজ্যে ইতোমধ্যেই প্রশাসনিক নীতিতে স্থান পেয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড ও আসামের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুসৃত পথেই পশ্চিমবঙ্গেও এই বিতর্কিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব উঠছে। তবে ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালতের আগের বেশ কিছু আইনি পর্যবেক্ষণ ও ঐতিহাসিক রায়ে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কোনো নাগরিকের স্বাধীনভাবে ধর্ম নির্বাচন বা সঙ্গী পছন্দের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। এর বিপরীতে ডানপন্থী গবেষক ও সমর্থকদের দাবি হলো—বিভিন্ন সামাজিক ও ভৌগোলিক এলাকায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিবর্তন বা ‘ডেমোগ্রাফিক শিফট’ রোধ করার জন্য এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই ধরণের জমি নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, এই আইনি উদ্যোগের পেছনে সংলগ্ন আসাম রাজ্যের অনুসৃত আইনের গভীর প্রভাব রয়েছে। আসামে ইতোমধ্যে ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পূর্বানুমতি, পরিচায়ত্র যাচাই এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সীমানায় জমি বেচাকেনায় কয়েক দশকের পুরানো বংশানুক্রমিক প্রমাণের শর্ত যুক্ত করে আইন পাস করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেও আসামের মতো এই জটিল প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। তবে বিরোধী আইনজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা এই পদক্ষেপকে সরাসরি দেশের সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং আইনি ও রাজনৈতিকভাবে একে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
কেবল রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বা ধর্মীয় মেরুকরণেই এই আইনের প্রভাব সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতি ও মুক্ত বাজার ব্যবস্থার ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা। জমি হস্তান্তরে ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয় বাধা হয়ে দাঁড়ালে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই দর কষাকষিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, যা সামগ্রিকভাবে জমির স্বাভাবিক বাজারমূল্যকে ব্যাহত করবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা কেন্দ্রিক অত্যন্ত লাভজনক রিয়েল এস্টেট শিল্প এবং আবাসন খাতে বিনিয়োগের যে গতি রয়েছে, জমি কেনার ক্ষেত্রে এরকম অপ্রয়োজনীয় আইনি জটিলতা তৈরি হলে তা চরম ধাক্কা খাবে। একই সাথে কাজের সূত্রে মানুষের অবাধ স্থানান্তর এবং মুক্ত বাজার অর্থনীতির মৌলিক নীতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দেবে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


এ জাতীয় আরো খবর...