শিরোনামঃ
সচিবালয়ে বিএনপির কোনো বৈঠক হয়নি: গয়েশ্বর চন্দ্র রায় মামলা নিষ্পত্তিতে এগিয়ে থাকা জেলাগুলোকে পুরস্কৃত করা হবে: আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি পদে ইসিতে জমা ৩ মনোনয়নপত্র এলএনজি টার্মিনাল মেরামতে সিস্টেম বন্ধ থাকবে ৭২ ঘণ্টা: জ্বালানিমন্ত্রী অটোরিকশার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর ভারত ও জাপান সফর এখনও চূড়ান্ত নয়: শামা ওবায়েদ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অ্যানি, স্থানীয় সরকারে সালাহউদ্দিন কৃত্রিম সংকটে সারের বাজার: আমন মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে কৃষক অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে পরিবর্তনের পরিকল্পনা
বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

অর্থবছর জুলাই-জুন থেকে এপ্রিল-মার্চে পরিবর্তনের পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৫ বার
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো এবং বর্ষাকালে মেগা প্রজেক্টগুলোর কাজ ও অর্থ ব্যয়ের তাড়াহুড়োজনিত অপচয় বন্ধ করতে অর্থবছরের দীর্ঘদিনের সনাতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানের ‘জুলাই-জুন’ অর্থ বছরের পরিবর্তে নতুন সময়সূচি হিসেবে ‘এপ্রিল-মার্চ’ অর্থবছর চালু করার চূড়ান্ত কৌশলগত রূপরেখা পর্যালোচনা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট অনুবিভাগ। সরকারের উচ্চপর্যায়ের দিকনির্দেশনায় তৈরি করা এই প্রস্তাবটি ইতিবাচক যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই মন্ত্রিসভা কমিটিতে পেশ করার প্রক্রিয়া চলছে। অনুমোদন মিললে আগামী অর্থবছর থেকেই বাস্তবায়িত হতে পারে এই নতুন অর্থপঞ্জি।
বাংলাদেশে সচরাচর অর্থবছরের শেষ তিন মাস অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসজুড়ে কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষার মুখোমুখি হতে হয়। বর্ষার কারণে বিশেষ করে সড়ক, সেতু, পানিসম্পদ ও স্থানীয় সরকারের মতো অবকাঠামোগত মূল প্রকল্পগুলোর কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। প্রচলিত নিয়মে জুনের শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে বরাদ্দের টাকা খরচ দেখানোর তাগিদ থাকায় ঠিকাদাররা মানহীন কাজ শেষ করেন, যা সরকারি অর্থের বড় অপচয় ঘটায়। প্রস্তাবিত ‘এপ্রিল-মার্চ’ চক্র চালুর মাধ্যমে বছরের শেষ তিন মাস জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে চলে আসবে, যা শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় দরপত্র আহ্বান, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিল পরিশোধের পুরো প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে শেষ করা সহজ হবে।
তবে এই নতুন সময়সূচি গ্রহণ করা কেবল ৩ মাস সময় এগিয়ে আনার সরল প্রক্রিয়া নয়; এটি দেশের সামগ্রিক আর্থিক ও আইনি ব্যবস্থায় ব্যপক পরিবর্তন দাবি করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্যাক্স ফাইল রিটার্ন জমা, ভ্যাট আদায় ব্যবস্থা, ব্যাংক হিসাব সারণী, বাজেট আইন সংশোধন, আইটি সফটওয়্যার আপডেট এবং প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন সংস্থার বার্ষিক পারফরম্যান্স নির্দেশক নতুন অর্থপঞ্জির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। প্রারম্ভিক বছরে দুটি অর্থবছরের কাজের ওভারল্যাপিং ও ট্রানজিশন পিরিয়ডের সমন্বয় সাধনই প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনৈতিক হিসাব ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে।
উন্নয়ন কাজের স্বচ্ছতা বাড়াতে অর্থ বছরের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল তদারকি জোরদার করছে সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে উন্নয়নকাজের অগ্রগতি তদারকিতে ট্রাফিক সিগন্যালের মতো লাল, হলুদ ও সবুজ সংকেতযুক্ত ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হতে যাচ্ছে। সেই সাথে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও নির্মাণ হারের শিডিউলেও বড় ধরনের স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী অর্থবছর জানুয়ারী-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব পেশ করলেও, সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাস্তবতা বিবেচনায় মার্চে অর্থবছর শেষ করার পক্ষেই মত গঠন করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবছরের ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বিলম্ব ও অনিয়ম দূর করার একটি ইতিবাচক প্রশাসনিক ধাপ হলেও শুধুমাত্র এ পদক্ষেপে সব অপচয় বন্ধ হবে না। সিপিডির মত দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই পরিবর্তনের সঠিক সুফল পেতে হলে অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত করা, সময়মতো অর্থ ছাড় ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার কঠোর প্রয়োগ করতে হবে। সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আর্থিক বছরের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে এই রূপান্তর বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বাজেট ব্যবস্থাপনায় নতুন এক শৃঙ্খলার সূচনা হবে।
তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড


এ জাতীয় আরো খবর...