শিরোনামঃ
সরকারি খাতে কোথায় কত ঘুষ: ৮০৪টি অভিযোগে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকার দাবি খাদ্যগুদামে নয়ছয় হলে ছাড় নয়, সিন্ডিকেটও রেহাই পাবে না: খাদ্যমন্ত্রী নারীদের উন্নয়ন হলে দেশ এগিয়ে যাবে : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আইন পেশায় সফলতায় অর্থের পেছনে না ছুটে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান আইনমন্ত্রীর দেশের উন্নয়নে বিরোধী দলের সহযোগিতা দরকার : পানিসম্পদ মন্ত্রী চীন-বাংলাদেশ ভোকেশনাল এডুকেশন, ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় এমওইউ স্বাক্ষর ফেনীর ডিসি মনিরা হককে প্রত্যাহার ইমোশনাল উন্ড: বুকের মধ্যে ঘাতক কাঁটা ফ্যাসিষ্ট আ.লীগের লুটপাটের কারণে বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট: হুইপ দুলু চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ৫ শিশুর মৃত্যু
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৩ অপরাহ্ন

পৌনে তিন লাখ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের চক্র: বাজেট ও ঋণ ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে তীব্র চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক / ২ বার
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের নেওয়া অভ্যন্তরীণ ঋণের একটি বড় অংশের মেয়াদ চলতি অর্থবছরে পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ফলে বিপুল অঙ্কের এই দায় পরিশোধ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে সরকারের সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকার বিভিন্ন সরকারি সিকিউরিটিজের মেয়াদ পূর্ণ হবে, যা দেশের ইতিহাসে একক কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ। এই বিশাল দায়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশই স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিল, যার পরিমাণ প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদদের মতে, বিপুল অঙ্কের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের মেয়াদ কাছাকাছি সময়ে শেষ হওয়ার কারণে সরকারের নগদ তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ পুনঃঅর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে মেয়াদ পূর্ণ হতে যাওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে ট্রেজারি বিলের পরিমাণ ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা, যা মোট দায়ের অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মেয়াদপূর্তি হবে ৭১ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা, যা মোট দায়ের ২৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পাশাপাশি শরিয়াহভিত্তিক সরকারি সিকিউরিটিজ বা সুকুকের মেয়াদ পূর্ণ হবে ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং বিশেষ উদ্দেশ্য ট্রেজারি বন্ড বা এসপিটিবির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকার। এক অর্থবছরে এত বিপুল অঙ্কের দেনা সমন্বয়ের অর্থ হলো, সরকারকে বছরজুড়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তহবিলের অন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন যে, স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভর করার কারণে সরকারকে ঘন ঘন পুনঃঅর্থায়নের দ্বারস্থ হতে হয়। বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারি সিকিউরিটিজের মেয়াদ শেষ হলে সাধারণত নতুন বন্ড বিক্রি করে পুরোনো ঋণ পরিশোধ বা রিনিউ করা হয়। এতে ঋণের মূল স্টক হয়তো স্থিতিশীল থাকে, কিন্তু বাজেট ঘাটতি যদি অব্যাহত থাকে এবং বাড়তি ঋণ যুক্ত হতে থাকে, তবে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ তীব্র হতে বাধ্য। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে যদি তারল্য সংকট দেখা দেয় কিংবা বাজারের সুদের হার চড়া থাকে, তবে নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা ভবিষ্যতের বাজেট বরাদ্দে সুদ ব্যয়ের বোঝাকে আরও স্ফীত করবে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরিস্থিতিকে এখনই চরম উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখতে নারাজ। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির এই পুরো অর্থই বাজেট থেকে নগদ পরিশোধ করতে হবে এমন নয়, বরং এর বড় একটি অংশ নতুন সিকিউরিটিজ ইস্যুর মাধ্যমে পুনঃঅর্থায়ন করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন যে, সরকারের চাহিদা অনুযায়ী বিল ও বন্ডের নিলাম পরিচালনা করা একটি নিয়মিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম। চলতি অর্থবছরে মেয়াদপূর্তির পরিমাণ অতীতের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও পুনঃঅর্থায়নের সুযোগ থাকায় এটিকে সম্পূর্ণ নতুন ঋণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকারের নিজস্ব রাজস্ব আহরণের গতি, বাজারে বিনিয়োগকারীদের তারল্য সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সুদহার পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে এই পৌনে তিন লাখ কোটি টাকার আর্থিক ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত সাফল্য।
তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা


এ জাতীয় আরো খবর...